অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
এপ্রিল ৩, ২০২৫
২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এপ্রিল ৩, ২০২৫
২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলী ইব্রাহিম -
ছিন্নভিন্ন

(উৎসর্গ : রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ও তসলিমা নাসরিন)

তসলিমার পৃথিবীতে রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এক অনিবার্য নাম।
হে কবিতা প্রকৌশলী! এটা তুমি কী করলে! কী করলে!
তসলিমাকে আটকানোর অক্ষমতা আজও কী তোমাকে দগ্ধ করে না?
তার সাথে ঘর করতে না পারাটা কি তোমার জীবনে ভুল ছিল না?
সারাজীবন দ্রোহ ও প্রেম করেছ। স্বপ্ন ও সংগ্রামে বেজেছ।
অথচ এইটুকু বোঝোনি। কেন বোঝোনি? নাকি বুঝতে চাওনি?
মাটি ও মানুষের আবাদ করে কেবল নিপীড়িতের কবিতা হয়েছ।
অসাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়েছ।
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখে বারবার প্রেমিক হয়েছ। কবি হয়েছ।
অথচ অসহায় পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ শুনতে পাওনি কখনো!
সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছ; হ্যাঁ, খুব লড়াই করেছ।
আর মাত্র পঁয়ত্রিশ বছরে কাব্য ও গানে আমৃত্যু দুর্মুখ থেকেছ।
অথচ সহজ সরল অবহেলায় কতটা নিঃস্ব হয়েছ। এটা টের পাওনি!

হে শব্দশিল্পী! তুমি কী এখন সাত আসমানে থাকো? প্রেম করো?
অথচ রাজাবাজারে চায়ের দোকানে দীর্ঘ সারিতে আমরা তোমাকে খুঁজি।
আর শাহবাগে কবিদের ভিড়ে বইমেলায় পাঠকের মাঝে তোমাকে খুঁজি।
সেই লালবাগ, পরীবাগ, ইন্দিরা রোডে আমরা কেবল তোমাকেই খুঁজছি।
তসলিমার জীবনে তোমাকে খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। খুব বেশি। খুব।

অথচ জীবনকে তুমি কী তুমুল নাচিয়েছ! ভাসিয়েছ! কাঁদিয়েছ!
এটা তসলিমা নাসরিনের চেয়ে আর কেউ এতটা বেশি জানে না।
তুমি কি এখনো মিঠেখালিতে আসো? অথবা সাহেবের মেঠো গ্রামে?
মোংলায় বসে এখনো কি কারো জন্য গান লেখ? কবিতা লেখ?
তপ্ত দুপুরে শিঙাড়ার দোকানে তোমাকে খুঁজে খুঁজে আমরা খুব ক্লান্ত।
শিমুলের বাসায় গিয়ে তোমাকে পাইনি। নীলি খালার বাসায়ও না।
অথচ তসলিমার হৃদয়জুড়ে তুমি কী দারুণ বেজে ওঠো এখনো।
কতটা আনন্দে আহা! ঝরনা হয়ে তাকে ভিজিয়ে দাও এখনো!
কতটা আকাঙ্ক্ষায় কতটা উদযাপনে বেলির খুশবু ছড়াও এখনো!

হে কবিতার মহাসম্রাট! সেই উটপাখিটি আজও উড়তে শেখেনি!
বিচ্ছেদের বিষাদও তোমাকে আড়াল করতে পারেনি এই বিহঙ্গ।
তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসেনি এই একজন প্রেমিকা।
আর তোমাকে ছাড়া এই একটি পাখি আজও ঘরহারা। ছন্নছাড়া।
এতটা কাতরতায় আর কারও দিন কাটে না! রাত কাটে না! রাত!
এই পৃথিবীতে। এই কলকাতায়। এই বিশ্ববাংলায়। আর এভাবে!

 

Print Friendly, PDF & Email
আলী ইব্রাহিম

Read Previous

অনুপ্রাণন অন্তর্জাল- সম্পাদকীয় (৭ম সংখ্যা)

Read Next

শর্মী দে – যুগল কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *