
শিল্পফাঁদ
সাঁতার শিল্পকে ঘিরে এই যে দ্বিধার ফাঁদ,
অথচ জানেন; যদিও সুইমিংপুলের মতো দেখতে, তবু ওতে পানিই নেই?
খামোখা বিবর্তনের ধুয়ো তুলে কেউ-কেউ; ধনুষ্টংকার রোগীর মতো হাত-পা ছুড়ে দক্ষ সাঁতারুর ভান করে।
যে ক্যানভাসটা দেখে অনেকেই বলে গেল, ওয়াও!
চিত্রশালার রক্ষীরা জানালো; আসলে ওটা তুলি মোছার এক পরিত্যক্ত ইতিহাস।
দর্শক
সহস্র মাথার ভিড়ে আমি এক সংখ্যার অ্যাভারেজ,
দর্শকসারিতে এ যেন অভ্যস্ত জীবন।
স্বভাববশত তাই উঁকি মারি, চোখে পড়ে ভাঁড়ের বহর।
‘লাগ ভেলকি লাগ’ বলে দৃষ্টি ঘোরানো তো জাদুকরের পুরোনো অভ্যেস।
বোকাচোখে চেয়ে থাকি।
পা-কেন্দ্রিক দীর্ঘ এক ভাষণ শেষে প্রদর্শনী হবে;
পা-হীন প্লেয়ারের হা-ডু-ডু কসরত!
দেশ্যালয়
নিষিদ্ধপল্লীর ঘোরলাগা একসময় ঘড়িতে, রহস্যের মজমা।
আমজনতার যেহেতু যৌনাঙ্গ-সর্বস্ব ইজ্জতের গণ্ডি,
আর-তাই; পায়ে পায়ে দ্বিধার শেকল।
অথচ সাহসে; সেকেন্ডের ঘরে উঁকি দিলে, ঘ্রাণে টের পাই বাবুদের উপস্থিতি।
সারি সারি তুঁতগাছের ডালে, পঙ্গপালের নাচন,
আমাদের সিল্কপল্লীর গল্পটা এমন; রেশম পোকাই যেখানে অচ্ছ্যুৎ!
বিষদাঁত
কার কামড়ে কে মারা যায়,
মানুষ নাকি কুকুর; কে কার মনে লালন করে বিষ?
এমন প্রশ্নের সুলভ উত্তর— কেন; কুকুরের।
তত্ত্ব-উপাত্তে আছে লুই পাস্তুরের নাম,
রেবিস ভ্যাকসিন।
আমাদের আদালতপাড়ায়—
জেলখানা আবিষ্কারকের নাম তেমন গুরুত্বপূর্ণ না,
শুধু প্রতিদিন বেড়ে যায় ভবনের পরিধি!
বিনয় কর্মকার