অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
এপ্রিল ৩, ২০২৫
২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
এপ্রিল ৩, ২০২৫
২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল  – গুচ্ছ কবিতা

অসুখ সংগ্রহ

অন্ধকার এলে কয়েকটা টর্চ চলে যায় রাইচক জঙ্গলের দিকে
হলুদ আর কালচে রং করা ঝিঁঝিঁরা ভুলিয়ে  দেয় সমস্ত রাতের বাড়ি ফেরার কথা, সমস্ত লক্ষ্যের বিফল নিয়ে মেঘের ঘনঘটা, মাদকেরা চলে যায় চোরা চোরা ঘর্মাক্ত ক্লিভেজে, আমরা কি পালিয়ে যাব কুয়াশার ভিতর?
এমন অভিসম্পাতে সংগ্রহ করছি অসুখ, কুণ্ডলী পাকানো শংকর জিনের শরীরে আচমকা কাশির শব্দ
বাঁকাচোরা গ্রীবায় তিল তিল বেঁচে থাকা দোদুল লণ্ঠনের  যুদ্ধময় ছায়া
ডিএনএ‘র গুচ্ছ থেকে মুছে দিচ্ছে প্রবল প্রতিবাদ, চলে যাচ্ছে যন্ত্রণাময় করোটির শঙ্কিত অনিদ্রায়
এসো রাই, আবার অঙ্গ পোড়াই রৌদ্র রোদ্দুরে

দশমিক ভাগগুলো 

জল ভেসে যায় বাল্বের ভাঙা ভাঙা ইলেকট্রিক নিয়ে⸺লৌকিক আঁধারের দশমিক ভাগগুলো কালভার্টের সর্বনাশা কালো ত্বকের কাছে দাঁড়িয়ে নিবেদিত হতে চায়, আর ছপছপে বৃষ্টিরা মিথ্যে প্রজনন নিয়ে সমস্ত পোস্টার ভিজিয়ে দেয়
দাদু বলতেন⸺এর নাম শিয়াল তাড়ানো বৃষ্টি, জনগণ প্রাণায়ামের পর তোমার সাথে ভেসে চলছে লবণ স্বাদ লবঙ্গ, যদিও প্রচণ্ড অন্ধকার  মেঘ ঢাকা সন্ধে
আর আমাকে অনুসরণ করে খোকনদার লিকার চা, ছিঁচ কাটা বেঞ্চি থেকে  পিঠে পড়া গুঁড়ো বৃষ্টি ঝাড়তে ঝাড়তে  হাত ভিজোচ্ছি, ভেজা মতবাদগুলি মনে আসছে কিছুতেই⸺কোনো পায়ের ছাপ নেই⸺গড়িয়ে যাওয়া ঘোলা জলে কংক্রিট ভাইরাস
অথবা আমি কীইবা ধারণ করতে পারি নিজের নগ্ন শরীরে, তবে কি গড়িয়ে যাবার কাল এসে দাঁড়িয়েছ ইলেকট্রিক পোস্টের নিচে
তাহলেও তোমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই⸺সমস্ত নোংরামো নিয়ে কাদা মুছে দিতে চুমুক দিতে থাকি সুতীব্র আত্মহননের লিপিতে

বৃত্ত খেলার ক্ষরণ 

এই দুপুরের পোর্টেটে অপ্রস্তুত ছত্রাকের ভাঁজ দিয়ে দুঃখ আর সুরের  পাতায় পাতায় আলতা জবার গান ভাসতে থাকে
এক ভয়ার্ত চোখ নিয়ে সেদিকে ছেঁড়া কিছু পঙক্তি আর্দ্র; যদিও আজ বৃষ্টি নেই, ধুয়ে যাবার ভয়ও নেই
তবুও সিগনেচার টিউনে অস্থির জলবিন্দুরা শূন্যতা নিয়ে পুনর্বাসনের পর্বগুলোয় বাবলা কাঁটার দিকে তাকায়

মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ঝিরিঝিরি হাওয়ায় যতটা পাতা উড়ে তার বেশি উড়ে শাড়ি; গোড়ালি চুঁইয়ে তৃষ্ণারা খাল পাড়ে হেঁটে যায়⸺নিদেনপক্ষে অঙ্গুরিমাল প্রাণীর মতো সংকোচন প্রসারণে বাসন-কোসনের শব্দ ভেসে আসে সাঁকো থেকে
তার তলায় সাপেরা শঙ্খ লাগায়⸺ভেসে ওঠে ভীত চিৎকার
হয়তো এ কারণেই দিদিমা বলেছিলেন — দাও,  নতুন বস্ত্র দাও মিথুন দৃশ্যের উপর

এক নিরস্ত্র ছায়ার আশ্রয় নিয়ে আমি আদমের উত্তরপুরুষ
অস্থির সাঁকোর দিক নির্ণয় করতে না পেরেই একটার পর একটা ভূগোল প্রসারিত হবে জেনেও কামড় দিই আবরণহীন আপেলে⸺কিন্তু সেই মতো কিছুই হলো না
ঘোলাটে নীল বাষ্পের ভিতর কলকল শব্দের রোদ খেলে যায়

হে নির্বন্ধ রিপু

ভাবতেই ফিনকি দিয়ে বার হয় শিরদাঁড়া

খাড়া লোমের নির্জনতম অন্ধকার চিরে দেয় রাতের বাইক, একটা দুটো বগমারী দ্বীপ ঢুকে পড়ে বোতাম খোলা শার্টের ভিতর; তার পাশেই আড়াল খোঁজা তুমি ও আমি: ঝাপসা হয়ে আসা নামের অক্ষর
ভয়ে জড়াজড়ি হৃৎপিণ্ডের ধুকপুক একাকার, বিশল্যকরণী ঝোপের ঝিমানো স্বপ্ন কাঁপে, কালিখালের জল কাদায় রোমহর্ষ নিশ্বাস, মুখঢাকা কালো কাপড়ের নিচে মুচকি হাসে সোহাগি বন্ধুক

দেখছে না কেউ সরল মৃতদেহের কেমন গড়িয়ে যাওয়া, নেমে আসছি রংবেরঙের আকন্দ ফুল, শব্দহীন অন্ধকারে ভাসছে শুধু সিঁড়িহীন শরীর : অশৌচ স্বাক্ষর

নেহাতই দখল খেলায় ফিরবে না কোনোদিন নির্জন পথের মর্মর
তবে আমার দেশলাই জ্বলে ওঠার আগে স্বাধীনতার আনন্দে মুক্ত আকাশে ওড়ে যাক সাদা পায়রা

 

Print Friendly, PDF & Email

Read Previous

অনুপ্রাণন অন্তর্জাল- সম্পাদকীয় (৭ম সংখ্যা)

Read Next

শর্মী দে – যুগল কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *