
সবুজ পাতার পাঠশালা
সবুজ পাতার পাঠশালাতে
প্রজাপতি পড়তে যায়
পাতার ছায়া ফুলের ঘ্রাণে
সতেজ জীবন গড়তে চায়।
চপল হাওয়ার ছন্দ মেখে
গান-কবিতা লিখতে চায়
পাখির কাছে প্রাণ নাচানো
গানের কথা শিখতে চায়।
রঙিন ফুলের ডানায় বসে
ধিনতা ধিতাং দুলতে চায়
আঁকতে হাজার স্বপ্নছবি
মনের খাতা খুলতে চায়।
খুকুমণি দেশ এঁকেছে
খুকুমণি মাঠ এঁকেছে
মাঠের পাশে হাট এঁকেছে
হাটে অনেক দোকানপাট
নৌকো বাঁধা নদীর ঘাট।
শাপলা ফোটা বিল এঁকেছে
মাছরাঙা বক চিল এঁকেছে
বকের ঠোঁটে পাবদা মাছ
বিলের পাড়ে হিজলগাছ।
গাছের ডালে কাক এঁকেছে
পাখ-পাখালির ঝাঁক এঁকেছে
একটি ছোটো বাঁশের বন
একটু দূরেই কাশের বন।
খুকুমণি গ্রাম এঁকেছে
সবুজ বাংলা নাম রেখেছে
ধানের জমিন, বাড়িঘর
দেখতে আহা কী সুন্দর!
বলছে সবাই বেশ এঁকেছে
খুকুমণি দেশ এঁকেছে
সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ
রূপের যেন নেইকো শেষ।
লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা
তিড়িং তাতা তিড়িং তাতা
পুঁচকে ফড়িং নাচছে-রে
নাচছে খোকা নাচছে খুকি
আজকে সকল কাজ ছেড়ে।
বইয়ের পাতা লেখার খাতা
কে রেখেছে আজ খোলা?
মনটা যেন দোয়েল-শালিক
ইচ্ছেডানার ভাঁজখোলা।
গাছের ডালে পা জড়িয়ে
বাঁদরঝোলা ঝুলছে কেউ
কী আনন্দ! দুলছে-রে মন
বুকের ভেতর তুলছে ঢেউ!
লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা
যায় পতাকা উড়িয়ে
বিজয়-বাতাস বইছে শাঁ শাঁ
যাচ্ছে পরান জুড়িয়ে।
টোনাটুনি পরিবার
আমাদের নিমগাছে থাকে টোনাটুনি
খড়কুটো দিয়ে রোজ বাসা বোনাবুনি।
টুনি পাড়ে ডিম আর ডিমে দেয় তা
ডিম ফেটে বের হয় ফুটফুটে ছা।
মা টুনিটা ছানাদের করে দেখাশোনা
খাবারের খোঁজ করে রোজ বাবা টোনা।
ছানাগুলো বড় হয়, শেখে ওড়াউড়ি
এইখানে ওইখানে করে ঘোরাঘুরি।
খাবারের খোঁজে যায় ছানারাও আজ
টোনাটুনি খায়-দায়, নেই তত কাজ।
ছানাপোনা চায় রোজ মা-বাবার সুখ
মা-বাবাও ছানাদের চায় হাসিমুখ।
সকলেই মিলেমিশে একসাথে বাস
টোনাটুনি পরিবার সুখী বারো মাস।
টুনটুনি বন্ধু
ঝিঙে মাচায় টুনটুনি
সকাল বিকাল গান শুনি।
মিষ্টি মধুর গানের সুর
যায় ছুঁয়ে যায় হৃদয়পুর।
টুনটুনিটা পাখ নাড়ে
ইশারাতে ডাক পাড়ে।
বন্ধু হতে চায় বুঝি
এমন বন্ধু রোজ খুঁজি।
দেই জানিয়ে তাই আমি
বন্ধু হতে চাই আমি।
টুনটুনিটা তারপরে
খুব খুশিতে গান ধরে।
ফুড়ুৎ ফাড়ুৎ যায়-আসে
রোজ আমাকে চায় পাশে।
প্রভাষক, মির্জাপুর মহিলা কলেজ, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল