
তোমার জন্য শুভকামনা
ওহে আমার অনাগত আত্মজ, উত্তরাধিকারী—
এ পৃথিবীতে কবে যে তোমার হবে শুভাগমন,
হয়তো তখন নক্ষত্রের দেশে— দেব আমি পাড়ি,
পাব না বুঝি আমার সে উপভোগের দিন-ক্ষণ।
একদিন তুমি আসা-যাওয়ার পথ নিয়ে এসে
মর্ত্যলোকের অপরূপ সুন্দর মায়াবী কাননে—
হে আত্মজ, না জানি তুমি পড়বে কোন পরিবেশে!
হয়তো সেদিন আমাকে তুমি খুঁজবে চুপে মনে।
হয়তো সামনে আছে আরও ঢের কঠিন সময়,
আকাশ-পাতালজোড়া কষ্টের হল্কা দেবে আঁচ,
পারব না বুঝি দিতে আমি স্নেহের কণ্ঠে অভয়,
মর্ত্যদেবরা ক্ষমতার ওমে খাবে বিবেক-লাজ।
ভালো থেকো, ভালো রেখো— দেবতারা করেছে যা লোনা,
ওহে আত্মজ আমার— তোমার জন্য শুভকামনা।
পথিক
ওহে পথিক হেঁটেছ তুমি পুরো গ্রান্ডট্রাঙ্ক পথ,
তুমি টেনেছ বুকে-পিঠে ব্রিটিশ-পাকির চাবুক,
বায়ান্ন থেকে একাত্তর— প্রতি ধাপে পেতেছ বুক,
তুমিই টেনেছো জীবনগাড়ি, জীবন্ত এক রথ।
তোমার দেহের লোনা ঘামে ভিজেছে মাটির দেহ,
তোমার শক্ত মুষ্টাঘাতে হার মেনেছে পরাজয়,
তোমার-ই পদাঘাতে হয়েছে সব দুর্গম ক্ষয়,
তোমার শ্রমেই পেয়েছে প্রাণ এই পৃথিবী গেহ।
হাঁটবে তুমি দু’টি পায়ে বয়েসী পৃথিবীটা তাবৎ
এতটা পথ শ্রম-তেষ্টায় ক্লান্ত বুঝি তুমি ভারি,
হে পথিক, ক্লান্ত পথিক, তুমি এসো আমার বাড়ি—
আবার তুমি জাগ্রত করো দেহের স্থবির স্রোত।
এখন-ও পথ ঢের বাকি— যেতে হবে বহুদূর,
পাড়ি দিতে হবে তোমাকেই— ভয়ঙ্কর সমুদ্দুর।