
রজনীগন্ধা প্রেম
পবিত্র রাতের উঠানে নেমে এসেছে—
দেবপুষ্প ভরা চাঁদের নারী সুলভ কোমল আলো
সুরভিত আলো আঁধারের প্রান্তে দাঁড়িয়ে
উচ্চস্বরে পাঠ করছি— প্রেমের নামতা
আহা রজনীগন্ধা প্রেম
তোমার জন্য অন্তহীন স্বর্ণকোমল আয়োজন
তোমার জন্য সহস্র ফুলের অদম্য আত্মা থেকে—
উঠে আসে সুগন্ধি নির্যাস।
উন্মাতাল সাগরের মতো মন মরিয়া হয়েছে
তোমাকে পাবার নেশায়
হে ঈশ্বরী, অলীক স্বপ্ন ভেঙে নেমে এসো স্বর্গ থেকে
তোমার উন্মীলিত সুঢোল শরীর ছায়াবৃত করে দেব চুম্বনে
এত প্রেম কিংবা এত গভীর সুখের পরশ
প্রেমিকের বুক ছাড়া অন্য কোথাও থাকে না!
আমরা যোজন যোজন মাইল হেঁটে যাব—
ধূসর মাটি ঘেরা সুড়ঙ্গপথ দিয়ে
সব সুন্দরের ভেতরে থাকে মুগ্ধতা
আমরা অপেক্ষা করি কিশোরী রোদের জন্য
কেননা এই আগন্তুক রোদের মখমল স্নেহে
শুকিয়ে রাখব আমাদের দুর্লভ রজনীগন্ধা প্রেম।
বত্রিশ বছর ধরে
বত্রিশ বছর ধরে ক্ষয় হওয়া দেহের ভেতর
একটি দরদি পাখি ভীষণ তড়পায় রাতদিন
পাঁজরের বিষুবরেখা বেয়ে গড়িয়ে নামে তার কান্নার জল।
তুমিও তো ক্লান্ত পাখি অন্ধ গলির জঠরে
তোমার চোখের ভেতর উবু হয়ে পাড় থাকে কোনো এক প্রতারিত প্রেম
আমি পাথরের আড়ালে বসে তোমাকে ডাকি সেই চিরচেনা দুঃখ ভোলাবার বাসনায়।
ঘুমহীন জেগে থাকি কত রাত
পুরানো কথা জমতে জমতে ভরে যায় ফাঁকা ঘর
দেয়ালগুলো ভাঙা আয়নার দিকে তাকিয়ে
গুমোট নিঃশ্বাসে ভারী করে মধ্যরাতের নিঃসঙ্গ আকাশ।
শিশিরের জল ভেঙে রক্তপায়ে হাঁটি কালপুরুষের অতলে
ভাসমান জীবনের নিষ্প্রাণ সময়ে কাটে না তীর্থের ঘোর
কেবল বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায় বিষম জ্বরের নেশাগ্রস্ত শরীর
আর মৃত আঙুলের ডগায় ঝাপসা হয়ে আসে সহস্র বছরের
অন্ধকার!
বত্রিশ বছর ধরে একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছি
বেদনায় দীর্ঘ বিগলিত পথে সঙ্গীহীন চলছি একাকী
কেবল একটি কালো দস্যি ঘোড়া পায়ের কাছে
হাঁটু গেড়ে বসে থাকে বিশ্বস্ত সহচরের মতো।