
মূক ও বধিরের প্রার্থনা
অনেক তো বলা হলো কথা
জন্মলগ্নে চিৎকার, ক্রন্দন
অনেক আনন্দ হাসি গান
প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খতিয়ান
পাগলের প্রলাপ কিংবা
ঘটনা অঘটনার রঙচঙে রসালাপ
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভালোলাগার কথা
বেহিসেবি ভালোবাসার কথা
ভালোবাসাহীনতার কথা
নির্মমতর ঘৃণার কথা
জাগতিক প্রেম ও প্রণয়ের কথা
শান্ত নিবিড় দীর্ঘ রজনী জেগে
মুঠোফোনে ভবিষ্যতের আল্পনা আঁকা
কথাগুলো এক পা দু’পা করে
কখন জানি গিয়ে দাঁড়ায় ঝগড়া-কোলাহলে
বলা হলো বিচ্ছেদ ও বিরহের গাথা
সংগোপন আত্মগ্লানির অবোধ্য ভাষা
শোনা হলো বিষাদের গান ও কবিতা
শব্দের কারুকাজে কত শত আশ্বাসের ভনিতা
কত আকুতি ও আক্রমণের হিংস্র বাক্যবাণ
পিছু ফেলে হৃদয়ের ব্যাকুল আহ্বান
এইসব ব্যক্ত অব্যক্ত শব্দস্রোতে
পড়ে থাকি ভাষাহীন রাত্রি-প্রাতে
অনেক তো হলো খেলা
ইথারে ভাসানো শব্দ
অব্দের পর অব্দ
আজ পড়ে থাক কিছু
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে
অযাচিত নৈঃশব্দ্য।
মৃত্তিকা
হাত বাড়ালেই অন্ধকারের খেয়া
দূরত্ব আর যায় কি সহজ ছোঁয়া!
দূর সাগরের সন্ধি তীরের কেয়া
হাত বাড়ালেই যায় কি তারে ছোঁয়া!
আকাশপানে ভীষণ মেঘের আভাস
অর্গলে ঐ দিচ্ছে বেদম হাওয়া
উঠোনকোণে তাকিয়ে দেখি একী
অন্ধকারে ছায়ার নাভিশ্বাস
জানলা পাশে কদম শাখা ভাসে
হাত বাড়ালেই যায় কি ছোঁয়া তাঁকে?
দুচোখ ভরা সফেদ শিশিরকণা
হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি নেমে আসে
ইচ্ছেগুলো তেপান্তরের মাঠে
ইতস্তত ছুটছে দিগ্বিদিক
হাত বাড়ালেই যায় না ছোঁয়া তোকে
মুঠোর ভেতর ঝরনাধারা মূর্ত হয়ে ওঠে।