
আট কুঠুরি নয় দরোজা ও আমার পৃথিবী
মানুষের নাকি আট কুঠুরি আছে
আছে নয় দরোজাও… আমি পা টিপে টিপে
অন্ধকারে হাত দিয়ে দিয়ে সেসব খুঁজি
নিজের কথা নিজেই কান খাড়া করে শুনি
দেখি কারও পায়ের শব্দ, হাঁটার শব্দ…
চরাচর ঘিরে থাকে… শূন্যতা ঘিরে থাকে
কেউ কি বিরাজ করে সেখানে… আট কুটুরি… নয় দরোজায়…!
মানুষের ভাষা কথা বলে ওঠে
অক্ষর কথা বলে ওঠে… অন্ধকার হাত পা নাড়ায়
মাটির ভেতর থেকে, গাছের ভেতর থেকে
শব্দ ভেসে আসে… হাওয়া ফেরি করে নিয়ে যায় অগম্য কোরাস…
আকাশের ভেতর অনেক ছবি
তারার ভেতর অনেক ছবি… জোছনা আলোর বল হয়ে, রেশমি চাদর হয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে… আমি সেসব বিহ্বল হয়ে দেখি… আর ভাষার জন্মমুহূর্ত, আলোর উৎসমুখ খুঁজে বেড়াই…
সবুজ ধানের চারা আমার গালের সাথে গাল মিশিয়ে কথা বলে, নদীর জল হাতে নিয়ে দেখি
ঝুঁকে আছে আমার মা, আমার বাবা…!
আমি চোখ বন্ধ করে দূরের ঝাউবন দেখি
পাহাড়ের ঢালুপথ বেয়ে নেমে আসা জল, পাথরের ভেতর জেগে থাকা সুর, অনন্ত প্রবাহ, মেঘ ও ময়ূর
স্বপ্ন ও সৃষ্টির সম্ভাবনা একসূত্রে গাঁথা আট কুঠুরি, নয় দরোজার মাঝে বাংলা ও বাংলাদেশ রচনা করে নিই… মনের মানুষ করে নিই… এবং…
আজানের ভেতর, শঙ্খধ্বনির ভেতর আমি ও আমার পৃথিবী, ভূগোল, পূর্ব পুরুষের প্রতিচ্ছবি প্রতিনিয়ত খুব নিবিষ্ট মনে আঁকা হতে দেখি…
একটা সময় এমন হয়
একটা সময় এমন হয়
একটা সময় এমন হতে হয়
কেউ যখন থাকে না কেউই যখন থাকে না কাছে
তখন এমন হয়, হতেই হয়…
যার যার মতো চলে যাচ্ছে যার যার কাজে
সময় নেই সময় কারও থাকে না এখন আর
বাগানে ফুল ফুটছে, উৎসব হচ্ছে
ম-ম গন্ধ আসছে চারদিক থেকে
এ ওর হাতে চাপ দিচ্ছে, চোখ থেকে বুক থেকে
ঝরে পড়ছে ভালবাসার রং, মধুক্ষরা লাবণ্যের নিক্কণ…!
তাই, সময় নেই… কারও কাছেই খুচরো সময় নেই
একটা সময় তাই এমন হয়, হতেই হয়…!
মুখে কতজনে কতকিছুই বলছে
কিন্তু, করছে ঠিক তার উল্টো
মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না সন্তু ও সন্ত্রাস
কোনো কোনো দিন কোনো কোনো রাত এমনই চারুময়
রক্তের দাগও সেখানে শুভ্র ও সুনীল মনে হয়
আপাত মুগ্ধতা যখন অন্যায্যতাকেই মান্যতা দেয়
বন্ধু ও বিগ্রহের মাঝে তখন ফারাক থাকে না
একটা সময় এমন হয়… হয়েই যায়…