
পাসওয়ার্ড, রোদচিহ্ন ও মোমের শরীর
এত মধুফুল… তবু ঘৃণায় পিচ্ছিল পথ
এত আনন্দবীণা… তবু হিংসা… এত মনোদোলা… তবু জীর্ণতা
ওরা কারা?
কেন অবলীলায় ঢুকেছে আমার জৈবশরীরে?
কে ঢোকাল? কী তার ইতিবৃত্ত?
আমার মোমের শরীর আটকাতে পারেনি এ ঢেউ
ও নিঠুর পাসওয়ার্ড—
অ-তে অজগর, ক-তে কাক
তা তো জানি
তবে কেন এত বিশাল আয়োজন এ চরাচরে?
যে এঁকেছে এ জং ও জঞ্জালপট,
বৈচিত্র্যকে করেছে রংহীন, তামাটে… শত্রুবাচক!
সে কি উন্মাদ?
তার ওপর ডেকে উঠুক বদলকণ্ঠী কোনো নবীন পাখি
নাকি সেও পালকচ্যুত হবে?
আমি জানি চরাচর অবগুণ্ঠিত। ক্ষয়িত কোষ সামর্থ্যের করতলে
অনেক মৃতফুলের খোঁজ নেই। অশ্রুধারায় শেকড় দিশেহারা
এ ক্ষয়িত কোষে রোদচিহ্ন লাগলে
আমি জানি ঝিলিক দেবে রূপান্তরের ডাক
খর্বছায়া হয়ে উঠবে রোদকুমার
এবং অনিবার্য
শতাব্দীর মিছিলে ওই বিশ্বাসঘাতক পেরেকের বৃত্ত ভাঙবে
আমার মোমের শরীর…
সিসিফাস আয়ু
বুক থেকে জোর ধাক্কায় পাথর সরিয়ে দিই। রবীন্দ্রনাথ আসেন। নালন্দার এক ঘর আলো আমার দিকে এল। চ্যালেঞ্জের কেউ নেই। শাপলা পাতায় খেলে ওঠে রোদ। টুইটার, স্ট্যানসিল উৎফুল্ল। কাকগুলো উড়ে যেতে যেতে আমি সোনার তরীতে ওঠি। আরোহ থেকে জেনেছি ধাতু যুগের আয়ু সিসিফাস ক্লীবতা। দু-চার-আনা পয়সা পকেটে ঢুকতেই ভাবি অনেক কিছু। বিপন্নতার নিরাপত্তা, রাস্তার পাথেয় এবং আরও ডাংগুলি। কবে রুটি খেয়েছিলাম কে জানে? ছোটদের কথায় মন নেই। আমি একাশিয়া, মেহগনি, ইউক্যালিপটাসের নৃত্য দেখি। চোখের ওপর বন, ঝোপঝাড়, লতাপাতা, ঘাস… হলুদ। ওরা কিংবদন্তি হতে পারেনি। আশপাশ মরু মরু… ফসিল। মাথা চুলকাতে চুলকাতে মনে হলো বুক থেকে যে পাথর ছুড়ে ফেলেছিলাম সে হয়তো এসে পড়েছে ওদের ওপর। কী মনোভ্রম!
রাজেশকান্তি দাশ
রাজেশকান্তি দাশ’র জন্ম ৩০ নভেম্বর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠইর ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামে। পিতা রমেশচন্দ্র দাশ ও মাতা বাসন্তীবালা দাশ। বেড়ে উঠেছেন গ্রামে। লেখালেখি ১৯৯৫ সাল থেকে, প্রধানত কবিতা লেখেন। পাশাপাশি ছড়া, গান, প্রবন্ধ ও গল্প। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।
প্রকাশিত প্রথম কবিতার বই ‘আলোর চিঠি’ (মার্চ, ২০২২)। ‘হিজলকরচ’ নামে একটি ছোটকাগজ সম্পাদনা করেন।
বর্তমানে সিলেটের কানাইঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনায় নিয়োজিত।