অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
August 21, 2026
August 21, 2026

আকিব শিকদার -
আধা গোয়েন্দা

আমি তখন গোয়েন্দা গল্প পড়তে পড়তে আর টিভিতে গোয়েন্দা সিরিজ দেখতে দেখতে নিজেকে আধা গোয়েন্দা ভাবা শুরু করেছি। কোথাও কোনো ক্লু পেলেই চারপাশের মানুষদের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাই। সামান্য দড়ির মাথা দেখলে সেটাকে বাঘের লেজ ভেবে টেনে টেনে পুরো বাঘ বের করে আনার চেষ্টা করি। ভাবটা এমন যেন রাস্তায় পড়ে থাকা পোড়া ম্যাচের কাঠি থেকেই আবিষ্কার করে বসব মিশরের পিরামিড রহস্য বা গোয়ান্তানামা কারাগারের প্রবেশ মুখ।

তো একদিন নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশের বাড়ির গোলাপ মামাদের বাসায় গেলাম। গোলাপ মামা তখন পড়ছিলেন। অনার্স সেকেন্ড ইয়ার। সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা।

মামার পাশে বসে দু-একটা কুশল বিনিময়ের পর চোখে মুখে সন্দেহের ছাপ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম— মামা রোজীর সাথে আপনার কত দিনের সম্পর্ক?

মামা হঠাৎ থমকে যাওয়ার মত মুখ কাচুমাচু করে হালকা হেসে উলটো আমাকেই প্রশ্ন করলেন— কার কাছে শুনেছিস রোজীর কথা?

আমি বললাম— তা পরে বলব, আগে বলুন রোজীর সাথে আপনার কত দিনের সম্পর্ক?

মামা এবার বলা শুরু করল— মেয়েটার সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয়। প্রথমে বন্ধুত্বের মতো ছিল সম্পর্কটা। পরে ধীরে ধীরে গভীর হলো। এখন ওকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারি না। জানিস, কিছুদিন আগে আমাদের বাসার সবাই দুদিনের জন্য ছোট খালার বিয়েতে এটেন্ড করতে গিয়েছিল। তখন রোজী এসে আমার জন্য দুপুর আর রাতের খাবার রান্না করে রেখে গেছে। ওর হাতের রান্না যে কী মজার!

আমি বললাম— আর কী কী মজার মামা?

মামা এবার ধমকে উঠলেন— চুপ থাক, ফাজিল কোথাকার…!

আমি বললাম— বাড়ির অন্যরা কি জানে রোজী মামির বিষয়টা?

মামা বললেন— তা কি এখনই বলার বিষয়! আগে পড়াশোনা শেষ করি, চাকরি পাই, তারপর সবাইকে জানাব। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বিয়ে করব। বরযাত্রীর গাড়িতে তোকেও রাখব পাশে। এবার বল রোজীর সম্পর্কে কার কাছ থেকে জানতে পারলি?

আমি বললাম— আপনার রুমে ঢোকার সময় দরজার উপর চৌকাঠে দেখলাম পেন্সিল দিয়ে ইংরেজিতে ছোট করে লিখে রেখেছেন রোজী। আর-ও-এস-ই।

মামা বললেন— ধুত্তরি ছাই… ওটা তো রৌজ। আর-ও-এস-ই, রৌজ। মানে গোলাপ। মানে আমার নাম।

আমি বললাম— যাক, এখন তো আমি রোজী মামির কথাও জেনে গেছি। চাইলে যখন তখন, যাকে তাকে বলতে পারব। সার্থক আমার গোয়েন্দাগিরি।

মামা রাগের সুরে বললেন— সাবধান! কাউকে যদি বলিস!

 

Read Previous

মুদ্রিত দুঃখের ধারাপাতে

Read Next

শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণন, ৫ম সংখ্যা (অক্টোবর-২০২৩)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *