
সময়ের সাথে দীর্ঘ পথের সাথী হয়ে সময়কে ধারণ করেছেন মনে প্রাণে প্রতিবাদী উচ্চারণে। যতটুকু যখন যেখানে প্রয়োজন কবিসত্তায় ততটুকুই সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তিনি। তাই তো তিনি অল্প লিখেও গল্প হয়ে উঠতে পেরেছেন। তিনি নিজেও জানেন, কুণ্ঠাবোধ করেন এতটুকু লিখেও এত ভালোবাসা পেয়েছেন মানুষের কাছ থেকে। নিজের প্রতি মানুষের প্রতি কিছুটা হলেও অন্যায় করেছেন যতটা মানুষের প্রত্যাশা ছিল ততটা তিনি পূরণ করতে পারেননি, অবশ্যই কবির এটা নিজের ভাবনা। কিন্তু আমরা বলি যতটুকু তিনি লিখেছেন ততটুকুতেই তিনি অমরত্ব পেয়েছে। প্রশংসনীয় হয়েছে তার লেখার ভাষা, তার ভাব, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম, প্রেমিকার জন্য ভালোবাসা। তিনি অবশ্যই লিখেছেন অনেক কবিতা। তবুও নিজে যে লেখাতে তৃপ্তি পাননি সে লেখাগুলো দিয়ে তিনি কোনো গ্রন্থ রচনা করেননি। তিনি বাছাই করে সেরাটাই দিতে চেয়েছেন তার প্রিয় পাঠকদের। ৩০০ কবিতা থেকে বাছাই করে ৫৬টি কবিতা দিয়ে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন। প্রথম কাব্য ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ এই কাব্যের কবিতাগুলো লেখা সেই উত্তাল ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধুর তিরোধান পরবর্তীকাল ১৯৮৬ পর্যন্ত। (কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল ১৯৮৬)।
নেত্রকোণার মোগড়া গ্রামে ৭ অক্টোবর ১৯৪৮ সনে জন্ম নেওয়া শিশুটির বেড়ে ওঠা সেই গ্রামের আলো হাওয়া মাটি নদী জলে। আব্বা ছিলেন সম্মানিত স্কুলশিক্ষক কবি খোরশেদ আলী তালুকদার, গৃহিণী আম্মার নাম কোকিলা খাতুন। সেই মাকে হারান তিনি ৩ বছর বয়সে। সেই থেকে প্রথম পরিচয় তার দুঃখের সাথে। প্রথমত দুঃখকে সাথী করে পথচলা শুরু।
গুণী জ্ঞানী সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জীবনী পড়ে জানা যায়, তারা অনেকেই সাধারণ নিয়মের গণ্ডিতে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহবোধ দেখাননি। প্রকৃতির কাছেই তাদের শিক্ষা গ্রহণ। তবুও কবি হেলাল হাফিজ শেষ করেছেন স্কুল কলেজ জীবন সেই নেত্রকোণায়। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে প্রবেশ। ১৯৭১ যুদ্ধের সময় তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তখন ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি লিখে বেশ তোলপাড় ফেলে দেন। সকলের নজর কাড়েন।
‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়।’
১.২.১৯৬৯ তারিখে লিখেছেন তখন এমনই একটি সময় তা সার্থকভাবে কার্জক্ষেত্রে প্রয়োগ হয়েছে। এই লাইন দুটো দিয়ে তখন দেয়ালে দেয়ালে চিকা মার হতো। তখন তার লেখা কবিতার প্রচার প্রসার ঘটতে থাকে। তিনি থাকতেন তৎকালীন ইকবাল হলে যা বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল নামে পরিচিত। দাপুটে সব ছাত্রনেতারা থাকতেন সেই ইকবাল হলে। কবিতার তীব্রদাহে জলেও আগুন জ্বলে। তার অনবদ্য সৃষ্টি ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। বইটিতে আরও কয়েকটি দারুণ স্পর্শকাতর বিষয়ভিত্তিক কবিতা আছে। কবিতার নাম ‘দুঃসময়ে আমার যৌবন’।
মানব জন্মের নামে কলঙ্ক হবে/ এরকম দুঃসময়ে আমি যদি মিছিলে না যাই,/ উত্তর পুরুষে ভীরু কাপুরুষের উপমা হবো/ আমার যৌবন নিয়ে এমন দুর্দিনে আজ/ শুধু যদি ঘরে বসে নারীকে সাজাই। (লেখা ১৯৭১ সালে)।
হঠাৎ করেই লেখালেখিতে আসা তা কিন্তু নয়। জন্মগতভাবেই তার অস্থিমজ্জার ভেতরে থিতিয়ে ছিল কবিতা। তার লেখাপড়ার চর্চা, সাহিত্যচর্চা সেই পরিবার থেকেই পাওয়া। জ্ঞানের আকর ঘর থেকে উঠে আসা।
কবির আরও অনেক কবিতা আমাকে অভিভূত করে, আপ্লুত করে। কবিতার নাম ‘অস্ত্র সমর্পণ’—
মারণাস্ত্র মনে রেখো ভালোবাসা তোমার আমার।
নয় মাস বন্ধু বলে জেনেছি তোমাকে, কেবল তোমাকে।
………
বিস্ফোরণে কম্পিত করতে আকাশ, আমাদের ভালোবাসা।
মুহূর্তেই লুফে নিত অত্যাচারী শত্রুর নিঃশ্বাস।
…….
অথচ তোমাকে আজ সেই আমি কারাগারে
সমর্পণ করে ফিরে যাচ্ছি ঘরে
মানুষকে ভলোবাসা ভালোবসি বলে।
যদি কোনোদিন আসে আবার দুর্দিন,
যেদিন ফুরাবে প্রেম অথবা হবে না প্রেম মানুষে মানুষে
ভেঙে সেই কালো কারাগার
আবার প্রণয় হবে মারণাস্ত্র তোমার আমার।
নয় মাস যুদ্ধের পর সেই সর্বক্ষণিক সাথীকে বিদায় দিতেও কষ্ট। অস্ত্রটি জমা দেওয়ার পরের অনুভূতি। মানুষর প্রতি ভালোবাসা, তাদের ভালো-মন্দের ভাগিদার কবির মন ও মননে চিন্তা চেতনায় মানবকল্যাণ। কবিতার শব্দ বুলেটের মতো তীব্রগতিতে সংগ্রামী জনতার বুকের জমিনে হয় রক্তক্ষরণ। জ্বলে ওঠে মানুষ। উদ্বুদ্ধ হয়, প্রেরণায় জ্বলে ওঠে আগুন। জীবনকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার এক অভূতপূর্ব সংগ্রাম রচিত হয়।
কবি হেলাল হাফিজ, ভালোবাসার নৈবেদ্য ঢালা সাজিয়েছেন কবিতার ফুলে।
দুঃখ-কষ্ট ভয়-ঘৃণা অবহেলা-অভাব কিছুই তাকে ছুঁতে পারেনি। দু’হাতে ঠেলে হেঁটেছেন সামনের পথে। তবু নীরবে নিভৃতে দুঃখগুলো কাঁটার মত বিঁধেছে হৃদয়ে সে এক মিষ্টি যাতনার বৃষ্টি, যা তার সৃষ্টিশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তাঁর জীবনে যে নারী হেলেন তাকে না পাওয়ার বেদনার ঘোর তার শব্দে প্রস্ফুটিত গোলাপ যা কাঁটার আবৃত । কতটা যন্ত্রণা তাকে তাড়িত করেছে এই এক জীবনে। মন কাঁদে, পথরেও ফোটে ফুল সেই হলো তার কবিতা।
যেমন ‘ইচ্ছে ছিলো’—
ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
…………..
ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলে
রাখবো তোমার দুই লাজুক চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু’চোখে।
ইচ্ছে ছিলো রাজা হবো
তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
আজ দেখি রাজ্য আছে
রাজা আছে
ইচ্ছে আছে,
শুধু তুমি অন্য ঘরে।
নানা বর্ণে সুবাসে কবিতার বাঁক অনেকটা লম্বা সময়ের নানান অভিজ্ঞতার বুনন। তাকে পাই দেশপ্রেমে, মানবপ্রেমে, কখনো রাজনীতির ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা অগাছাদের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদী সত্তায়। মূলত তিনি প্রেমের কবি, দুঃখের ফেরিওয়ালা। দুঃখের মধ্যে থেকে আনন্দের নির্যাসটুকু তুলে নিতে জানেন।
তার আরও একটা কবিতা— ফেরিওয়ালা।
কষ্ট নেবে কষ্ট
হরেক রকম কষ্ট আছে
কষ্ট নেবে কষ্ট।
লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট।
…প্রেমের কষ্ট ঘৃণার কষ্ট নদী এবং নরীর কষ্ট
অনাদর ও অবহেলার তুমুল কষ্ট
…………………
আর কে দেবে আমি ছাড়া
আসল শোভন কষ্ট,
কার পুড়েছে জন্ম থেকে কপাল এমন
আমার মত ক’জনের আর
সব হয়েছে নষ্ট,
আর কে দেবে আমার মতো হৃষ্টপুষ্ট কষ্ট।
এই সেই কবি যার সাদামাটা জীবন নয়। বৈচিত্র্যময় কিন্তু সন্ন্যাসী জীবন।
সেই শৈশবে মাকে হারিয়ে দুঃখের সাথে পরিচয়, প্রেমিক হেলেনের ভালোবাসা না পাওয়ার বেদনা তাকে জীবনের পথে বাউল করেছে, তার শিক্ষয়িত্রী সবিতা দিদির কাছ থেকে যতটুকু আশ্রয় প্রশ্রয় পেয়েছেন তাই তার জীবনের পাথেয়। পরবর্তীকালে বাবাকে হরিয়ে প্রবলভাবে আরো একটি ধাক্কার সম্মুখীন হতে হয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেই মার্চের পঁচিশের রাতে বেঁচে যাওয়া দুর্লভ পাওয়া বলেই মনে হয়েছে। আবার নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে অন্য হলে ছিলেন সেই রাতে। সেই সময় ইকবাল হলে থাকলে বাঁচবার কোনো সুযোগই ছিল না। ২৭ মার্চ ইকবাল হলে গিয়ে দেখেছেন কেবল লাশ পড়ে আছে চত্বরজুড়ে। এমন একটি ঘটনা তাকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দিয়েছে। জীবন তাকে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে প্রতি পদে পদে। হার না মানলেও কেবল হতাশায় ভুগেছে। দুঃখের বোঝা বেড়েই চলেছে। এই সব ঘটনা তাকে চিরস্থায়ীভাবে সংসার থেকে বিমুখ করেছে। হিসেবের ধারাপাত মেলেনি বলে কারও ওপর ক্ষোভ নেই। নিজেরই ভাগ্যলিপি বলে জেনেছেন। তার কবিতার পংক্তিতে অসাধারণভাবে ধরা দিয়েছে। তাই তো লিখেছেন, ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। ২০২২ কাব্যগ্রন্থটি বেরিয়েছে। উৎসর্গ করেছেন তার আব্বা ও আম্মাকে। এই কব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা— ‘ব্রহ্মপুত্রের মেয়ে’।
এক জীবনের সব হাহাকার বুকে নিয়ে/ অভিশাপ তোমাকে দিলাম,—/ তুমি সুখী হবে তুমি সুখী হবে।/ বেদনা আমাকে নিয়ে আশৈশব খেলেছে তুমুল,/ তিলে তিলে শিখিয়েছে সহনশীলতা,/ নিলাজ নখের মতো দুঃখ কেটে কেটে আমি/ আজকাল অর্জন করছি মৌন ঊদ্ভিদের মুখর স্তব্ধতা,/ …/ তুমি সুখী হবে,/ ব্রহ্মপুত্রের মেয়ে, দেখে নিও, খুব সুখী হবে।
আমাদের জানা নেই সেই মেয়েটি কতটুকু সুখে ছিল ভালোবাসার তপ্ত চিতায়। কবির মনের কল্পতরুতে যত ফুল ফোটে আর ঝরে কে তার হিসাব রাখে! তার এই বইয়ের আরও একটি কবিতা ‘ঘুড়ি’— সুতো ছিঁড়ে তুমি গোটালে নাটাই/ আমি তো কাঙাল ঘুড়ি/ বৈরী বাতাসে কী আশ্চর্য/ একা একা আজও উড়ি!
তবুও জীবনকে ভালোবেসে কবিতার বুকে আশ্রয় নিয়েছেন। চলার পথের এই প্রান্তে এসে লিখতে চেয়েছেন আরও দুটো বই। একটা তার আত্মজীবনী আর আরও একটা কবিতার বই। লেখক যারা তারা তো লেখালেখির মধ্যে নিজেকে উৎসর্গ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। লেখালেখি তার অবলম্বন। কবি হেলাল হাফিজের কবিতায় আরও উঠে এসেছে সমাজ সচেতানতা, দায়বদ্ধতা। যেমন আরও একটা কবিতা ‘ডাকাত’।
তুমি কে হে?
সোনালি ছনের বাড়ি তছনছ করে রাতে
নির্বিচারে ঢুকে গেলে অন্দর-মহলে
বেগানা পুরুষ, লাজ-শরমের মাথা খেয়ে
কে তুমি হে?
তোমাকে তো কখনো দেখিনি এ তল্লাটে
মারী ও মড়কে, ঝড়ে, কাঙ্ক্ষিত বিদ্রোহে।
আমাদের যুদ্ধের বছরে
………………
চতুর বণিক তুমি আঁধারে নেমেছো এই বাণিজ্য ভ্রমণে,
………………
লোভে আর লালসায় অবশেষে আগন্তুক সর্বস্ব হারাবে,
………………।
কবির ছোট ছোট কয়েক লাইনের কবিতা যেন বারুদের মতো জ্বলে ওঠে। যেমন— কবিতার নাম ‘যার যেখানে জায়গা’।
ভোলায়া ভোলায়া আর কথা দিয়া কতোদিন ঠকাইবেন মানুষ
ভাবছেন অহনো তাদের অয় নাই হুঁশ।
…………….
কোন দিন খোঁজ লইছেন গ্রামের লোকের সোজা মন
কী কী চায়, কতোখানি চায়
কয়দিন খায় আর কয়বেলা না খায়া কাটায়।
রাইত অইলে অমুক ভবনে বেশ আনাগোনা, খুব কানাকানি,
আমিও গ্রামের পোলা…।
নেত্রকোণা তার জন্মভূমি কত স্মৃতি কত মাখামাখি। মনের গহিনে ওত পেতে বসে আছে। সময় তাকে ধারণ করেছে যত্নে প্রচারে প্রসারে। কবিতার নাম— ‘নেত্রকোনা’।
কতো দিন তোমাকে দেখি না
…….
আভাইগ্যা কপাল শুধু বিচ্ছেদের বিষে নীল হলো
…কতোটা বিশৃংখলা নিয়ে আমি ছিমছাম সন্ন্যাসী হলাম।
…………
সবিতা সেনের সুতি শাড়িও জানে না
সোনালি অনল আর কতো জল দিদির ভেতর।
…তুমি আছো আমার মজ্জায় আর মগজের কোষে অণুক্ষণ
যে রকম ক্যামোফ্লাজ করে খুব ওতপ্রোতভাবে থাকে
জীবনের পাশাপাশি অদ্ভুত মরণ।
কবি হেলাল হাফিজ একজন জনপ্রিয় কবির নাম। যদিও তিনি নাম আর খ্যাতির পেছনে সময় দেননি। নাম খ্যাতি তার কাছেই এসেছে। লিখেছেন নিজের ইচ্ছেমতো। যদিও বেশ অনেকই লিখেছেন কিন্তু সেই তুলনায় প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যার দিক থেকে কম। কারণ বাছাই করা সেরা লেখাই তিনি প্রকাশ করেছেন। নিজের মনের ভাবে তিনি চলেন ও বলেন। থাকেন নিজের মতো করে কখনও সামনে কখনো একটু আড়ালে। তাঁর মন তকে শাসন করে। নিজের মর্জি মতোই তার চলাফেরা, তার কাজকর্ম। এই গুণী ব্যক্তিটি তাঁর যোগ্য মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন। তার লেখালেখির জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সম্মাননা পদক। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক। আরও অনেক পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আমাদের প্রিয় কবি হেলাল হাফিজ দীর্ঘ আয়ুতে বেঁচে থাকুন। তাঁর সুন্দর সুস্থ জীবন কামনা করি। যদিও আজকাল বেশ অসুস্থ থাকেন। এমন একজন কবির জন্য মন কাঁদে। লেখার গভীরে ডুবে থাকতে ভালো লাগে। এমন একটা ঘোরের মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাই। আনন্দ-বেদনা হুলফোটা অনুভূতি তাড়িত করে প্রতিনিয়ত।
যেমন ছিলেন তেমনই থাকেন কবি। কারও বিরুদ্ধে নেই অভিযোগ অনুযোগ, সব ভালো-মন্দ একলাই বহন করে নিজে থিতু হয়ে আছেন। তাও কম কীসে! সৃষ্টির মাঝে বৃষ্টি ঝরুক সুখে কিংবা দুঃখে। দুঃখটুকু রেখা কেটে চিহ্ন হয়ে থাকবে আজীবনের সুখে।