
ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিকে সামনে রেখে প্রকাশিত হলো শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল অনুপ্রাণনের ৭ম সংখ্যা। সংখ্যাটিতে যথারীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কবিতা, গল্প, অণুগল্প, সাক্ষাৎকার, স্মৃতিচারণ, প্রবন্ধ, বই আলোচনা ও অনুবাদ।
প্রতি ঈদে সারা দেশ জুড়ে প্রিন্ট ম্যাগাজিন ব্যবসায়ীদের প্রায় প্রত্যেকেই বিজ্ঞাপনে ঠাসা একটি করে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যে লেখাগুলো সংযুক্ত করে এসব ঈদ সংখ্যা প্রকাশিত হয় সেগুলো ফরমায়েশি ধরণের তাড়াহুড়ো করে লিখা হালকা অথবা সস্তা ধরণের গল্প অথবা আংশিক নাহয় উপন্যাসিকা ধরণের কথিত সম্পূর্ণ উপন্যাস। হয়তো কোন কোন ম্যাগাজিনে ঠাসা থাকে প্রয়াত অথবা জীবিত পাঠকপ্রিয় লেখকদের পূর্বে প্রকাশিত লেখা সমূহ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ম্যাগাজিনগুলো হাতে নিয়ে পাঠকদের হতাশ হয়। তবে কিছু কিছু ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রমী ঐ ম্যাগাজিনের ঈদ সংখ্যাটি হাতে নিয়েই মন ভরে যায়। ঈদের ছুটির অবসর সময়টা ওই ম্যাগাজিনটিতে মুখ গুঁজে সুন্দর কেটে যায়।
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড ও বাঙালি ডায়াস্পোরা থেকে বাংলা ভাষায় যে কয়টা দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, চতুর্মাসিক, ষাণ্মাসিক অথবা বাৎসরিক ই-ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয় সেটার একটা তালিকা অনলাইন খোঁজপিডিয়ায় পাওয়া যায়। তালিকাটি কতটুকু সঠিক এই ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা সেখানে বাংলাদেশের মাত্র দুইটা ওয়েবজিনের নাম আছে। রংপুর থেকে ‘ফেমাস পোয়েট’ ও বারিধারা ঢাকা থেকে ‘শব্দকুঞ্জ’। অথচ দুটোই নিষ্ক্রিয় থাকতেই দেখা যাচ্ছে।
অন্য একটি তালিকায় রয়েছে বার্লিন থেকে প্রকাশিত অংশুমালী, ঢাকা থেকে প্রকাশিত সেলিনা হোসেন সম্পাদিত কাব্যশীলন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত চিন্তাসূত্র, শিরিষের ডালপালা, পরস্পর (এটা এখন বন্ধ আছে), শ্রী, তীরন্দাজ, দূরের সাইকেল, ম্যাজিক লণ্ঠন, ধাবমান, প্রতিধ্বনি, হারপুন, সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ধানশালিক, কিশোরগঞ্জ থেকে প্রকাশিত নরসুন্দা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত রিভার বাংলা যেটি মূলত নদী বিষয়ে সাহিত্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। তাছাড়া ওই তালিকায় রয়েছে ঢাকা থেকে প্রকাশিত উঠান, কথাসাহিত্যের ওয়েবজিন গল্পপাঠ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত ঘুংঘুর, শেরপুর থকে প্রকাশিত বামিহাল, ২০০১ সালে অভিজিৎ রায় প্রতিষ্ঠিত ব্লগজিন মুক্তমনা, বরিশাল থেকে প্রকাশিত মেঘচিল, কবিতার ব্লগজিন শব্দকুঞ্জ, সাহিত্যকাফে, জলভূমি ইত্যাদি। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ওয়েবজিন গুলির এটা কোন পূর্ণাঙ্গ তালিকা না। তাছাড়া দেশের বাইরে থেকে অন্ততপক্ষে ২০/২৫টি ওয়েব পত্রিকা আছে যেগুলোতে বাংলাদেশী লেখকরা লিখছেন। অনলাইনে বাংলা ভাষার ব্লগগুলোর বয়স ১৫/২০ বছরের বেশি কিন্তু নিয়মিত ও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে সক্রিয় আছে সেটা বলা যায় না। কিন্তু ১০/১৫টি ওয়েবজিন আছে যেগুলোর বয়স ৫/১০ বছর হবে যেগুলো বেশ সক্রিয় ও নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে বলে বলা যায়। সারাদেশে অনলাইন সাহিত্য পত্রিকাগুলোর পাঠকের সংখ্যা ঠিক কত এটা জানার জন্য কোন গবেষণা হয়েছে বলে আমার জানা নাই। অনুমান করে যা বলা হয়ে থাকে সেই সংখ্যাটা খুব উৎসাহব্যঞ্জক না। তবুও এই অনলাইন পত্রিকাগুলো যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিল্প-সাহিত্যের চর্চা অব্যহত রাখছেন এবং পাঠকের সংখ্যা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করছেন সেটা প্রশংসনীয়।
শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জালের সূচনা সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় জানুয়ারি ২০২২। এর পরে ছয়টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জালের প্রতিটি সংখ্যায় আছে সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক বাছাইকৃত এবং পূর্বে অপ্রকাশিত মৌলিক সৃজনশীল ও মননশীল লেখাগুলো। ৭ম সংখ্যায়ও এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি বলে আমাদের বিশ্বাস। এ-পর্যন্ত অনুপ্রাণনের অন্তর্জালে অবস্থিত এই ওয়েব ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে মোট ৬৭৫টি মানসম্মত সাহিত্যকর্ম। অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে তাই, ক্রমেই অনুপ্রাণনের অনলাইন এই ম্যাগাজিনটির পাঠক সংখ্যা বেড়ে চলছে।
অনুপ্রাণনের লেখক, পাঠক ও সকল শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ১৪৪৬ হিজরির ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।