অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুন ১৪, ২০২৪
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জুন ১৪, ২০২৪
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সালমা মোস্তফা নুসরাত -
এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন –

ঝিনেদার জমিদার কালাচাঁদ রায়রা/
সে বছর পুষেছিল এক পাল পায়রা।
বড়োবাবু খাটিয়াতে বসে বসে পান খায়,
পায়রা আঙিনা জুড়ে খুটে খুটে ধান খায়
হাঁসগুলো জলে চলে আঁকা-বাঁকা রকমে,
পায়রা জমায় সভা বক্-বক্-বকমে।

বোঝাই যাচ্ছে, আগ্রহ বা কৌতুহল না থাকলে জমিদার বাবুকে নিয়ে রবি ঠাকুর এত সুন্দর একটা ছড়া লিখতে পারতেন না। রবিবাবুর মতো আমিও জমিদার বাবুদের ব্যাপারে আগ্রহী, কৌতুহলী। তাই তো তাদেরকে নিয়ে জানতে পথে বের হয়ে পড়লাম এবং সেই সাথে কিছু পড়াশোনাও করে নিলাম।

মোঘল আমলে জনগণের মধ্যে সম্পত্তির কোন মালিকানা (Property Rights)ছিল না । তখন সুবেদার এবং মসনদদার ছিল, তারা খাজনা আদায় (tax collector) করতো। নবাব আলিবর্দী খাঁ, সিরাজউদ্দৌলা এরা ছিলেন অবাঙালি, ওনারা খাজনা আদায় করতেন। কিছু কিছু জায়গায় বিশেষ কোন ব্যক্তি কৃষক খাজনা আদায় করতে পারতো। বৃটিশরা সম্পত্তির মালিকানা দেয়, ভূমি ক্রয় ও বিক্রয়ের অধিকার দেয়। মোঘল আমলে সম্পত্তির কোন মালিকানা কেউ পেত না কিন্তু তখন ঘন ঘন বিদ্রোহ হতো।

ঐ আমলে ভারতবর্ষে সামন্ত তন্ত্র(Feudalism) চালু ছিল। কৃষক জমিতে কাজ করলে কোন মজুরি পেত না। পুঁজিবাদে কেউ জমিতে কাজ করলে তাকে মজুরি দেওয়া হবে, ভাল না লাগলে সে সেটা ছেড়ে দিতে পারবে; সেই স্বাধীনতা তার আছে।

ইংরেজ সম্পত্তির মালিকানা (English Property Rights ) কৃষক নির্ধারণ করার সুযোগ দেয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা নির্ধারণ করে দেয়, জমিদারদের প্রণোদনা (incentive) দেয়। কিন্তু এই নীতিও ব্যর্থ হয়েছিল কারণ জমিদাররা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না,কাউকে পরিত্যাগ করতে পারতেন না।

এই প্রসঙ্গে একটা তথ্য দিয়ে রাখতে চাই। সেটা হচ্ছে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জমিদারিতে ক্ষুদ্র ঋণ এই শর্তে চালু করেছিলেন, কোন কৃষক যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করতে না পারে তবে সে আর তার প্রজা থাকবে না।

বাঙলায় জমিদারদের অধীনে থাকা জোতদাররা অনেক শক্তিশালী হয়ে পড়ে। বাঙলায় জোতদাররা ছিল মুসলিম, অধিকাংশ জমিদার ছিলেন হিন্দু। হিন্দু জমিদাররা পুনর্গঠনের কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না, হিন্দু – মুসলিম দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তেন। জমিদাররা তাদের উদ্বৃত্ত আয় কৃষির পুনর্গঠনে ব্যবহার করেননি, কোন নতুন ধরনের প্রযুক্তির প্রচলন করেননি, শিল্প – কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেননি। কয়েকজন জমিদার কোলকাতায় গিয়ে ব্যবসা – বাণিজ্য করার চেষ্টা করেছেন, বাকিরা উদ্বৃত্ত আয় গান- বাজনা – নাট্যকলায় ব্যবহার করেছেন।পরবর্তীতে জমিদারি প্রথা বাতিল করার মাধ্যমে মুসলিম লীগ নামের রাজনৈতিক দলটি বিরাট রাজনৈতিক সাফল্য লাভ করে। জমিদারি প্রথা বাতিল হয়ে গেলে জোতদাররা সম্পত্তির মালিকানা (Property Right)পায়। এখনো দলিলে জোত শব্দটির লিখিত রূপ দেখা যায়।এই সময় জোতদাররা তাদের কৃষকদের পরিত্যাগ করতে পারতো। এটা একটা নতুন ধারণা, পূর্বে এই ধারণার প্রচলন ছিল না। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, আমাদের দেশে সম্পত্তি দখলে থাকা, সম্পত্তির দখলী সত্ব একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আমাদের দেশে সম্পত্তির অধিকার আইন মোঘল আমলের দখলদার তত্ব ও ইংরেজ সম্পত্তি আইনের একটা মিশ্রিত রূপ।

১৭৯৩ সালে গভর্ণর জেনারেল লর্ড কর্ন ওয়ালিশ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথাটি চালু করেন। ১৮৮৫ সালের আইনে জমিদারদের সাথে রায়তদের অধিকার ও দায়িত্ব নিশ্চিত হয়। ১৯৪৮ সালে বৃটিশ শাসন বিলুপ্ত হলে আইনটি এই অঞ্চলে জমিদারি প্রথা বাতিল করে এবং সমস্ত ভূমি ফেডারেল সরকারের অধীনে আনে।

আরেকটা ব্যাপার একটু উল্লেখ করতে চাই। সেটা হচ্ছে, বৃটিশ আমলে পার্বত্য এলাকাগুলোতে কোন জমিদার ছিল না। পাহাড়িরা মোঘলদের কিছু খাজনা দিতো। বৃটিশরা তাদেরকে সম্মিলিতভাবে সম্পত্তির মালিকানা( Collective Rights)দিয়েছিল, কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোন সম্পত্তির মালিক হতে পারেনি। মহারাষ্ট্রে সবাই সম্মিলিতভাবে একটা গ্রামের মালিকানা (Collective Rights)পেয়েছিল।বর্তমানে পাহাড়ে যে সকল সেটলার(settler) বাঙালি আছে তাদের সাথে পাহাড়িদের সম্পত্তির মালিকানা আইনে তফাৎ আছে।

ঘুরতে বের হয়ে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি দেখতে গিয়ে দেখলাম, এটার স্তম্ভগুলো করিনথিয়ান ( Corinthian )রীতির, অর্থাৎ স্তম্ভের উপরের দিকে ফুল, লতা-পাতার নকশা আছে। ভবনগুলোর একপাশে নাট্যমঞ্চ ও লাইব্রেরি আছে, যদিও এখন আর এগুলোর কোন ব্যবহার নেই। ভবনগুলোর মধ্যে সিন্দুক, হারিকেন, কাঠের কমোড, ইংলিশ আলনা, রাইফেল স্ট্যান্ড ই্ত্যাদি দেখলাম। ভবনগুলোর একদম শেষ প্রান্তে, দীঘির ধারে অনেকগুলো শৌচাগার আছে। আশ্চর্য ! জমিদার বাবুরা প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে এতদূর আসতেন। অবশ্য হিন্দু বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী বাড়ির উত্তর ও উত্তর – পশ্চিম দিক বর্জ্য নির্গমনের জন্য নির্ধারিত। এতে বসত-ভিটা নেতিবাচক শক্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে। মহিলারা দক্ষিণ দিকে  মল ত্যাগ করতে পারবে না। এই জমিদার বাড়ির বাবুরা দূরদর্শী ছিলেন। দেশ যে ভাগ হয়ে যাবে এটা ওনারা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন, এজন্য ১৯৪৭ সালের আগেই ওনারা চলে গিয়েছিলেন। আগে একটা থানায় দুইজন গেজেটেড কর্মকর্তা থাকত। এনারা হচ্ছেন — Circle Officer for Development ও Circle Officer for Revenue. জমিদার বাবুরা চলে গেলে এবং জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেলে এই বাড়িটি তারা তাদের দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করতো।  ১৯৭১ সালে প্রশাসনে যারা ছিল তারা অনেক মূল্যবান দ্রব্য লুটপাট করে নিয়ে যায়। একজন বয়স্ক দর্শনার্থী আকার-ইঙ্গিতে তখনকার ভারতীয় সৈন্যদের লুটপাটের কথা বললেন।

এরপর গেলাম টাঙ্গাইলে পাকুটিয়া জমিদার বাড়িটি দেখতে। এটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন একজন স্থানীয় বয়স্ক মহিলা বললেন — এই জমিদার বাবুরা মুসলমানদের উপর অনেক অত্যাচার করতেন। মুসলমানরা মাথায় ছাতা ও পায়ে জুতা ব্যবহার করতে পারতো না, এমনকি নদীর ঘাটও  ব্যবহার করতে পারতো না। মুসলমানদের হত্যা করে রাতের আঁধারে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। একবার কয়েকজন মুসলমান এক বাবুর স্ত্রীকে আটকে রেখে গয়না-গাটি লুট করে নিয়ে যায়। এতে তারা ভয় পেয়ে রাতের আঁধারে ধন- সম্পদ নিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার আগে কিছু জমি টিপ সইয়ের মাধ্যমে মুসলমানদের কাছে বিক্রি করে যায় কিন্তু তাদের এত বিশাল, বিশাল বসত- ভিটা কেনার মতো টাকা তখন কোন মুসলমানের ছিল না। এজন্য তারা এসব অবিক্রীত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। ঐ মহিলার ভাষ্য অনুযায়ী আগে মুসলমানদের মাথায় এত বুদ্ধি – শুদ্ধি ছিল না। বালিয়াটি জমিদার বাড়ির ফটকে অনেকগুলো সিংহ মূর্তি আছে, এখানকার একটা  বাড়ির  মূল ফটকের উপরের দিকে নিম্নাঙ্গ সামান্য কাপড়ে আচ্ছাদিত ও ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত এরকম কয়েকটি নারী মূর্তি ছিল ।এজন্যই মনে হয়, এসব মূর্তির ঊর্ধ্বাঙ্গ ভেঙে ফেলা হয়েছে।  মুসলমানরা পর্দা প্রথার কারণে এসব শৈল্পিক সৌন্দর্য উপভোগ ও অনুধাবন করতে অক্ষম। আচ্ছা বাবুরা যখন এতটাই শৈল্পিক চিন্তার অধিকারী ছিলেন তখন তারা কেবল নারী মূর্তি কেন রেখেছিলেন? নারীর মতই পুরুষও আকর্ষণীয়। তারা নগ্ন বা সামান্য কাপড়ে আচ্ছাদিত পুরুষ মানুষের ভাস্কর্য কেন নির্মাণ করেননি?১৯৬৭ সালে মূল ভবনে পাকুটিয়া বৃন্দাবন চন্দ্ররাধা গোবিন্দ কলেজ স্থাপন করা হয়। কলেজটিকে মনে হয় এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি কারণ কলেজটির অবস্থা দেখে মনে হয়নি এটা কোন জমজমাট কলেজ। কলেজটির দৈন্যদশা চোখে পড়ার মতো।

এরপর গেলাম মানিকগঞ্জে তেওতা জমিদার বাড়ি দেখতে। এখানে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে  প্রমীলা দেবীর প্রথম দেখা হয়। এটার স্তম্ভগুলো আয়োনিক( Ionic) রীতির, অর্থাৎ স্তম্ভের উপরের দিকে মোচড়ানো/ কুণ্ডলী পাকানো/ spiral নকশা আছে। বর্তমানে এটা যেন একটা ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছু না।

সরকারের উচিত যথাযথভাবে এসব সংরক্ষণ করা, নইলে জনগণ ইতিহাস ভুলে যাবে।

নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভি, এস নাইপল( V.S Naipaul) বলেছেন — ভারতীয়রা পুরো দেশটাকে ল্যাট্রিন বানিয়ে ফেলেছে। ঘুরতে যাওয়ার সময় আমার মনে হয়েছে, আমরা পুরো দেশটাকে জঙ্গল বানিয়ে ফেলেছি। একটা দেশকে সুন্দর করতে চাইলে সেরকম মন-মানসিকতা থাকা লাগবে। রাস্তার ধারের সরিষা ক্ষেত, খড়ের গাদা, বাঁশ ঝাড় সংরক্ষণ করতে হবে। সুযোগ পেলেই পাকা সড়কের পাশে দোকান- পাট,কলকারখানা, সিএনজি স্টেশন নির্মাণ করা একটু কমাতে হবে।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে অযত্ন আর অবহেলার ছাপ দেখেছি। আমার ধারণা, কোন একটা গোপন কারসাজির মাধ্যমে আসলে এসব ধ্বংস করে ফেলার চেষ্টা চলছে যাতে দেশের জনগণ অতীত ইতিহাস ভুলে যায়। এতে করে জনগণের মধ্যে সামগ্রিকভাবে কোন জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হবেনা। বৃটিশ আমলে বিপ্লবীরা পালাতে গেলে অনেক সময় গ্রামবাসীরা তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। হার্ডিঞজ ব্রীজ নির্মাণ করার পর ভারতবাসীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল– তারা কী উন্নয়ন চায় নাকি স্বাধীনতা চায়? অর্থাৎ, বাঙালি জাতি কী কখনো কোন দাবী আদায়ের ব্যাপারে এক হতে পেরেছিল? আমাদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে কোন জাতীয়তা বোধ কি কখনো জাগ্রত হয়েছিল?আমরা পাঠ্যপুস্তকে যেসকল ইতিহাস পড়ি সেগুলো খুব বেশি একরৈখিক, সরল- সাদাসিধা। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কথা, বৈপরীত্যের কথা সেখানে অনুপস্থিত।

সময়- সুযোগ বুঝে একদিন মুন্সীগঞ্জ বেড়াতে গেলাম। মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লাটি মোঘল সেনাপতি ও সুবেদার মীর জুমলা নির্মাণ করেছিলেন। উনি সামান্য কেরানি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে নিজ দক্ষতার বদৌলতে পরবর্তীতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালে মোঘলরা বৃটিশ দের কাছে পরাজিত হলে বৃটিশরা এই দুর্গের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ১৯০৯ সালে বৃটিশ ভারত প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ কর্তৃপক্ষ এটার দেখাশোনার দায়িত্ব নেয়। ১৮৪২ সালে কয়েকটি থানা নিয়ে মহকুমা গঠিত হলে প্রশাসকেরা এটাকে বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতো। ১৯৮২ সালে জেলা গঠিত হলে জেলা প্রশাসকেরাও এটাকে বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করতো। পরবর্তীতে তাদের জন্য আলাদা বাসস্থান তৈরি করা হয়। এটার মেঝে বিশেষ পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটা হচ্ছে —  প্রথমে অনেকগুলো কলসী সারিবদ্ধভাবে রেখে ওগুলোর উপর ইট, সিমেন্টের সুরকী দেওয়া হতো। ভবনটিকে ভূমিকম্প প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তুলতে ও আর্দ্রতা নিবারণ করতে এরকম করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

অতীশ দীপঙ্কর ও বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এখনো এখানে তাদের অনেক স্মারক চিহ্ন আছে। জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়িতে একটি কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।

এই এলাকায় একটা উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছিল।১৯৭০ সালে কমরেড সিরাজ সিকদারের বিপ্লবী পরিষদ বিভিন্ন জেলায় পাকিস্তানী প্রশাসন ও শ্রেণী শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা অপারেশন চালায়। ঐ বছর ৮ই জানুয়ারি ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ ও ময়মনসিংহে তারা স্বাধীন পূর্ব বাংলার পতাকা ওড়ায়।

মুন্সীগঞ্জে উন্নত জাতের আলু উৎপন্ন হয়। এখানে অনেক বড়, বড় হিমাগার আছে। এখানে স্থানান্তরযোগ্য দোতলা টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। বন্যার সময় বসত-ভিটা পানিতে ডুবে গেলে ঘরকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া যায়। সরকারের উচিত এই ধরনের বাড়ির ২/১টা এলাকাকে সংরক্ষণ করা। দরকার হলে এই ধরনের বাড়ির বাসিন্দারা সরকারের কাছ থেকে একটা বিশেষ ভাতা পাবে।

মুন্সীগঞ্জকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়। পর্যটন মানে কেবল দামী রিসোর্টে গিয়ে টাকা খরচ করা নয়। একটা এলাকার শতবর্ষী স্কুল, কলেজও কিন্তু পরিদর্শনযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

 

Read Previous

প্রসঙ্গ- লাস্ট ডিফেন্ডার অব মনোগামী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *