অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুন ১৪, ২০২৪
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জুন ১৪, ২০২৪
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আলমগীর ফরিদুল হক স্বপন -
স্কুল শিক্ষকের স্মৃতিপর্ব

No photo description available.

বাবার ব্রিটিশ আমলের শিক্ষককে পূর্ব পাকিস্তানের আমলের ৭০ সালে গান্ধীবাদী প্রবর্তক সঙ্ঘ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে পেলেও আমিও আমার সরাসরি শিক্ষক হিসেবে পাই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়ার সূত্রে। তিনি শিক্ষক শ্রী নীরদ বিহারী চৌধুরী, তিনি সবার দাদামনি। যিনি শিক্ষক হিসেবে চট্টগ্রামের তথা পূর্ব বাংলার গর্ব, যিনি চট্টগ্রামের শাকপুরা হাইস্কুলের গোড়াপত্তন করেছিলেন বৃটিশ আমলে। তার হাতে গড়ে উঠেছে দেশের অনেক দিশারী চিন্তক এবং সমাজবর্ধক যশস্বী ব্যক্তিত্ব। দাদামনির ছোট ভাই বিনোদ দাদামনি’কেও মেট্রিক পরীক্ষার সময়ে স্বল্পকালীন সময়ের জন্যে পেয়েছিলাম, যিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের সাথে স্বাধীনতার যুদ্ধের গেরিলা বাহিনীর ছিলেন একজন সৈনিক সাথী!

যাই হোক, নীরদ দাদামনি, যার নির্দেশে চট্টগ্রামের বিখ্যাত প্রকাশক শফি সাহেবের বইঘরের অপূর্ব কিশোর মাসিক ‘টাপুর টুপুর’টি হয়ে উঠে আমার মৌলিকতার অন্বেষণে প্রথম বুদবুদ! দাদামনি’কে তার পরিণত বয়সের শেষ ধাপে পেয়ে আনন্দ আর ভয় একত্রিত ছিল! যেহেতু উনি ছিলেন ব্রিটিশ আমলে বাবার শিক্ষক আর বাবা ছিলেন সকল সময়ে স্কলারশিপপ্রাপ্ত মেধাবী ছাত্র! বাবা’র মুখে স্বীকারোক্তি ছিল, নীরদ বাবু’র মতন শিক্ষক পেয়েছিলাম বলে আজ জীবনটা তার কাছে আজীবন ঋণী! তিনি নীরদ দাদামনির ছত্রছায়া থেকে সরে বাবা কলেজ জীবনে নতুন সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জড়িয়েছেন। সেই যুগে চট্টগ্রাম কলেজের বার্ষিকীর সম্পাদক ছিলেন, পরপর দুইবার! তার সম্পাদিত বার্ষিকীর অনেক সুনাম শুনেছিলাম, কি লেখার নির্বাচন, কি সম্পাদনার সুকৃতি! তার ও তার বন্ধুদের প্রতিষ্ঠিত দলের তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারি ছিলেন! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বসিষ্ঠ বাবুর প্রিয় ছাত্র ছিলেন বাবা! বাবা ছাত্র ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র লিখেছিলেন সে পঞ্চাশ দশকে ছাত্র অবস্থায়, তার হাতের ইংরেজি আর বাংলা ছিল উজ্জ্বল বর্ণপ্রভা যা ছিল আমার প্রথম নান্দনিক প্রভাব। আমাকে সংস্কৃতিমনস্ক করে তোলেন সেই ছোট বেলা থেকে! তাদের সংগঠনের আনোয়ারুল হক চৌধুরী দেশান্তরী হন, বোধকরি এখন অবসর জীবন যাপন করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে! তাদের হাতে রচিত হয় শিকড় ও সংস্কৃতি সম্পৃক্ত সাম্যবাদী রাজনীতির রূপরেখা! এই প্রসঙ্গে বলতে হয় যে বাবা কখন আমাদের নিজের কথা বলতেন না! শুধু একটা বিষয়ে তিনি আগাম খবর দিতেন যখন উনি নিজের ইংরেজি প্রবন্ধগুলো চট্টগ্রাম রেডিও’তে পাঠ করতেন, যার বিষয় হলো পশ্চিম পাকিস্তান প্রশাসন কর্তৃক আমাদের বাংলার অর্থনৈতিক লুণ্ঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভারসাম্য। সেগুলো মা আর বাবার সাথে বসে রেডিওতে সম্প্রচার শুনতাম! উনি যে ছাত্র ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র নিজে লিখেছিলেন তা জানতে পারি একদিন বন্ধু তিলক চৌধুরী যখন ১৯৭৫ সালে হেমসেন লেইনের একজন প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপ কর্মী তরুণদা’র বাড়িতে নিয়ে গেল! উনি বললেন, আপনার বাবা সম্পর্কে তিলক থেকে শুনলাম এবং খুব দ্রুত আপনার বাবা’কে চিনতে পেরেছিলাম। উনি বললেন, তাই আপনাকে দেখতে চেয়েছিলাম। ফজলু’দা তো আমাদের দলের গঠনতন্ত্র লিখেছিলেন আমরা তখন জুনিয়র ছিলাম দেখেছি তার হাতের লেখার সেই অসামান্য দলিল, তার কি মৌলিক চিন্তার লিখিত রূপ।

এখন ফিরে আসি নীরদ দাদামনি’র কথায়, তার কাছে পাটিগণিত, আলজেব্রা, বিজ্ঞান, সবই দেখিয়ে নিতাম। যার ধর্ম হল নিয়মানুবর্তিতা, ডিউটি আর কর্মটাই খোদা! দাদামনির হলেন বড় জন ও বিপ্লবী বিনোদ দাদামনি হলেন মেজদা। এই দুইজনেরই খাওয়াদাওয়ার কী যে নিয়মতান্ত্রিকতা তা প্রত্যক্ষ না করলে বুঝতে পারা যাবে না! যে পরিমাণের দুপুর আর রাতের খাবার তাতে মরিচ মশলার যে অপ্রতুলতা, সে যাই বলি না কেন আমিষ বা নিরামিষ, কিন্তু পরিমাপগত যে স্বল্পতা তার এক তিলও রকম ফের হতো না! স্বল্পাহারী বলে কথা! মা বলতেন খাদ্যাহারের পরিমিতি বোধ দুই দাদামনি দীর্ঘায়ু লাভ করবেন! দাদামনির ঘরদুয়ার আমি আর বন্ধু প্রবীর ধর পরিষ্কার করতাম, অনেক খাতাপত্রের ভেতর দেখতাম তার সেই আরবি শিক্ষার নোটবই! তার হাতের লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফি দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই। প্রথাগত গণ্ডির বাইরে তার ব্যাপক পরিধি প্রত্যক্ষ করে!

ব্রিটিশ আমলে সেই যুগের ছাত্ররা, এমনকি আমার বাবাও যে আরবি পেপার ছিল অব্যশিক নয় বলে শুনেছি, তবে সেই যুগে আরবি ফার্সির কদর ছিল সর্বাঙ্গীনভাবে। দাদামনিও নিজের আরবি জ্ঞানের পরিধি পরিব্যপ্ত রেখেছিলেন! নীরদ দাদুমনি ছিলেন অকুতোভয়! সবাই বলছে গ্রামে চলুন, শহর খালি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি অপারগ, যাবেন না। তার কথা হলো, আমি বুড়ো মানুষ পাঞ্জাবিরা আমাকে কী করবে? এমনও শুনেছি সে মুক্তিযুদ্ধের সময়েও তার নিত্যনৈমিত্তিক সকালের হাঁটা বজায় রেখেছিলেন! মোমিন রোডের বাসা হয়ে চেরাগী পাহাড়ের কোল ঘেঁষে জামাল খান রোড ধরে তার সোজা হাঁটা আমার স্কুল সেইন্ট মেরিজ আর খাস্তগীর গার্লস স্কুল অবধি। পাকিস্তানি হানাদারদের ট্যাংক, সাঁজোয়া লড়ি চলছে আর তিনি সেই ধুতি, স্যান্ডো গেঞ্জি পরে, গলায় পৈতে পরে সমান্তরালভাবে হেঁটেই চলেছেন, তার ঈষৎ ঝুঁকে থাকা স্পন্ডেলাইটিস আক্রান্ত মাথাটি নিয়ে সেই তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে। যুদ্ধের পর দাদামনি’দের সবাইকে খুঁজে পাই এমনকি সবার ছোট দাদামনি’কেও যিনি তাদের গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। চাটগাঁর বোয়াখালীর উত্তরভুর্শী’তে। কিন্তু আমার প্রবর্তক সঙ্ঘের দ্রুতপঠনের বাংলার শিক্ষক যাকে বাঘের মতন ভয় পেতাম, অতীন দাদামনি’কে, তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি শহীদ হন! হানাদারদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। ইংরেজি স্কুল থেকে এসেছি বলে দ্রুত পঠনের মুখস্থ বিদ্যায় আমি কোনো দুয়েন্দে ছিলাম না ফলে বেঞ্চের উপর ঘণ্টা মত দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দিতেন অতীনদা! সাথে আরো কয়েকজন শিক্ষককে হারিয়েছিলাম, ভবনে যারা থেকে গিয়েছিলেন, বিশেষ করে খদ্দরের কাপড় বয়নের শিল্পী শিক্ষক, লাইব্রেরির সে গল্প বলার যে শিক্ষক যিনি লাইব্রেরির সামনের বটবৃক্ষের নিচে রামায়ণের, আর বিভিন্ন সন্তদের কাহিনী শোনাতেন!

এই ক্ষেত্রে আমার আরও দুজন শিক্ষকের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি! ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি টেস্ট পেপারের জন্যে সার্বক্ষণিকভাবে পেয়েছিলাম একজন অনবদ্য প্রাণীজ শিক্ষক, চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান তিনি এ কে মাহমুদুল হক। যিনি অসুস্থ শিক্ষয়িত্রী স্ত্রী ও তার সন্তানদের জন্যে রান্না করে খাওয়াতেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন, মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন, এই গুরুদায়িত্ব ছাড়াও আমাদের মতন ছাত্রদেরও পড়াতেন। তার হাতেই বলতে গেলে বাঙলা প্রমিত ভাষা ও ভাষ্যিক টান শিখতে পেরেছিলাম, এবং আজও সংস্কৃত তৎসম তদ্ভব শব্দের প্রতি সে রাগ অনুরাগে জেগে থাকি। তার হাতের আইটালিক বাঙলা হস্তাক্ষর নিয়ে নন্দনতত্ত্বের বই হতে পারে, কোথায় যেন রাবীন্দ্রিক মাত্রার রীতি থেকে তিনি সরে তার শৈলী এক অপূর্ব নিজস্ব কৃৎকৌশলে মূর্ত! তার যেমন সুন্দর লেখা তেমন ছিল তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ! বাল্যের এই আদর্শিক হস্তমুদ্রিত চলিষ্ণু আক্ষরিক শ্রুতিগুলোর কারণে বুঝতে পারি যে বাঙলা ভাষায় খুব শুদ্ধ করে লিখতেও হবে! এবং সেই সাথে একটা মার্জিত ও শোভন অভিপ্রায় আরোপ করে তার হাতের অনবদ্য হস্তাকীর্ণ উপস্থাপনা।

উপমহাদেশের উপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পেছনের আরেকজন বীর চট্টলার সৈনিক শ্রী অনন্ত সেন, থাকতেন চট্টগ্রামের দেওয়ানজী পুকুর পাড়ে! আমাদের কতিপয় বন্ধু এই এলাকা’কে কলকাতার বালিগঞ্জের সাথে তুলনা করে থাকে। আমি যখন বাংলা মিডিয়ামে ম্যাট্রিক দিচ্ছিলাম তখন তাকে স্কুলশিক্ষক হিসেবে পাই মিউনিসিপাল হাই স্কুলে, তিনি আমাদের ভূগোল পাঠ নিতেন! আমাদের ফার্স্ট বয় সঞ্জয় পাল আর আমি যেতাম তার বাড়িতে পড়তে। আমার ছিল অন্য একটা আলটেরিয়ার মোটিভ, এই আশায় যে আমাকে যদি সাক্ষাৎকার দিতে আগ্রহী হন যাতে দৈনিক আজাদী কিংবা ডেইলি লাইফ-এ ছাপাতে পারি! না, কোনোভাবে কোনো কিছু হলো না। মুখ খুলবেন না! অগত্যা শুধু একটা ঐতিহাসিক বই– তারই আরেকজন সহযোদ্ধা চট্টলার বীর সেনানী অনন্ত সিংহ রচিত ‘চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ’-এর শরণাপন্ন ছাড়া গতি নেই, যা পাওয়াই দুষ্কর! তিনি বললেন ওতেই সব কিছু বিধৃত আছে! এত রিক্লুসিভ মানুষ এই যুগে দেখাই যায় না! সব কিছু থেকে যেন গুটিয়ে। অনন্ত স্যারের স্ত্রী ছিলেন মানসিক রোগী যিনি চিৎকার করে ডাক পাড়তেন ‘ছেলেরা আমার পেয়ারা খেয়ে ফেলল রে’ ইত্যাদি। তার একমাত্র ছেলেটিও মানসিক রোগী ছিল। একদিন আমরা আসব দুপুর বেলায় পড়তে; দেখি আমাদের এই সাধু সন্ত শিক্ষক আর নেই! তার এই অপঘাতে মৃত্যু আমাদের হতচকিত দেয়, ছেলে আর মা মিলে তাকে জবাই করে মেরে ফেলে! তিনি কখন তাদের মানসিক হাসপাতালে পাঠাতে অপারগ ছিলেন, ওখানের চিকিৎসায় তার বিশ্বাস কখন ছিল না! ফলে তিনি ঘরেই তাদের রেখে দিয়েছিলেন! তাকে এই অপঘাতে কী করুণভাবে চলে যেতে হলো! এই নির্মমতা ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময়ে আমাকে উদাসীন আর হতাশ করে ফেলে। একাবার মনে আছে, তিনি ভূগোলের খাতা তৈরি করতে দিপংকর’কে দায়িত্ব দিলেন আন্দরকিল্লা থেকে যেন ঠিক আলমগীরের খাতার মতন ডিজাইন চাই! সবার জন্যে! খাতার চাঁদা তোলা হলে পড়ে সবাই বলছে— স্যার, টাকাগুলো আপনি জমা রাখুন!

স্যার বললেন, ‘আহা আমি কী করে রাখি, তোমরাই নিজেদের মধ্যে কাউকে নির্বাচন কর।’

উনি নিজের ফতুয়া টাইপ শার্টের পকেটে দুটো হাত ঢুকিয়ে পকেটের নিচের ফুটো দিয়ে বের আনলেন; বললেন— দেখ আমার সর্বত্র তো ফুটো!

স্যার ছিলেন রসিক, সে যুগ থেকে আমি ওই সেলফ মকারির ভেতরের লুকিয়ে থাকার ইতিহাস ব্যাখ্যা করার প্রবণতা আমাকে পেয়ে বসেছে সেই থেকে! তিনি ছিলেন আপাদমস্তক অপাপবিদ্ধ, সারা জীবন তার কেটেছে গান্ধিবাদী আদর্শে, সে যুগের নেতৃবৃন্দের মতন কৃচ্ছসাধনে! জীবনে প্রয়োজনের আধিক্য যেন পেয়ে না বসে।

সেই ১৯৭৬ ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার আগে থেকে অর্থাৎ কিনা দেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী সময়ে থেকে আন্দরকিল্লা’র লাইব্রেরিগুলো থেকে আড়াই টাকা থেকে পাঁচ টাকার সীমানার ভেতরের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে বাংলা বই কেনা শুরু! তাজ লাইব্রেরি, হাক্কানী বুক সেন্টার। এর পর বড় হয়ে উঠতেই, স্টেশন রোডের অমর বুকস্টলের সেকেন্ড হ্যান্ডের দোকান ছিল আলাদা আকর্ষণ। আশির দশকে মাহবুব ভাইয়ের কথাকলি। এর পরে ঢাকার ম্যারিয়েটা, মফিদুল ভাইয়ের সাহিত্য প্রকাশ, হাক্কানী, নলেজ হোম, আজিজ সুপার মার্কেটে বিজুর পাঠক সমাবেশ, নীলক্ষেতের উন্মুক্ত স্টলগুলো চোখ কাড়ে!

বাবা’র কিছু বাঙলা সংগ্রহ থেকে দস্তইয়েভস্কি, রবীন্দ্রনাথ, মার্ক্স, শরৎচন্দ্র, চেকভ, নজরুল, সৈয়দ মুজতবা আলী, সুবোধ ঘোষ, বিমল মিত্র, শংকর, আব্দুল হক, সত্যেন সেন, লেনিন, জরাসন্ধ, গর্কি, খন্দকার মহাম্মদ ইলিয়াসের হাত ধরে আবার নিজ সংগ্রহ বাড়তে লাগল। কিন্তু এর মধ্যে শেখ মুজিবের যুগান্তকারী স্বদেশের প্রতি ভাষণ, সেই কিশোর বেলাকার ধমনীতে সাতই মার্চের রক্তকরোজ্জ্বল দিনক্ষণটি যেন আমাদের পরাধীনতার চেতনা’কে অতিক্রম করতে চলেছে! কিন্তু এর অনেক আগে থেকেই দেখেছি নতুন স্বদেশচেতনার কতো আন্দোলন! চিন্তার ক্ষেত্র প্রসার হয়ে চলেছে। সেই যুগে আমি দেখেছি ৬৭ থেকে ৭০ অবধি দেখেছি বাম অর্থাৎ বিবেকী রাজনীতির নেতারা আত্মগোপনে থাকতেন, তাদের মাথায় ছিল হুলিয়া! আমি দেখেছি, সিটি ড্রেইন টপকে উঠে আসত মৌলানা আজমী আমাদের রান্না ঘরে, মা রাত্রিবেলায় তাদের সকালের নাস্তা কিংবা রাত্রিবেলার রান্না ডাইনিং টেবিলে রেখে যেতেন, আরও উঠে আসত পূর্ণেন্দু দস্তিদার তারা সবাই ছিল আন্ডারগ্রাউন্ড কমিউনিস্ট। এরা সবাই পড়ে ন্যাপকর্মী হিসেবে কেউ কেউ আবির্ভূত হয়েছিলেন বড় রাস্তায়! আর আমার বাবা ছিলেন ওদের পৃষ্ঠপোষকই ছিলেন না, তিনি একজন একনিষ্ঠ ন্যাপ কর্মীও বটে! আমি বাবার সাথে সব সময় মর্নিং ওয়ার্ক করতাম। আমরা সবাই মর্নিং ওয়ার্ক করতাম গান্ধী টুপিতে, খদ্দরের পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি পরা মৌলানা আজমী’র সাথে কিছুক্ষণ! খুব ভোরে তারপর আজমী আঙ্কেল হারিয়ে যান সূর্য উঠার আগেই, উনি প্রকাশ্যে আর থাকতে পারতেন না! মতিয়া-মেননের গ্রুপ থেকে তখনো মতিয়া আন্টি দলছুট হননি, বাবা তার ফোক্স ওয়াগনে করে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের আমাদের বাসায় গোপন মিটিং শেষে বাবা উনাকে বোরকা পরিয়ে সাথে ছোট্ট বোন আন্না’কে পাশে বসিয়ে নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসতেন! আমি বাবার সাথে চলতে ফিরতে তার বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করে সময়ের চেতনায় প্রাগ্রসর থাকতাম। সে যুগে কাটা রাইফেল নিয়ে ট্রেনিং করতাম ভাসানী ন্যাপের বজলুস সাত্তার আঙ্কেলসহ অনেক বাবা’র বন্ধুদের সাথে জে এম সেন হলের মাঠে! যেখানে বড় ধরনের সরস্বতী আর দুর্গা পূজা হতো। মনে পড়ে বিপ্লবী বিনোদ দাদামনি কলকাতার একজন প্রখ্যাত ভাস্কর শিল্পীর করা যতীন্দ্র মোহন সেন, সূর্য সেন, প্রীতিলতা, নেলী সেনগুপ্তা ভাস্কর্যের স্মারক উন্মোচন করেছিলেন স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে। সেই ৭০-এর ছোটটি আমি কী নৈপুণ্যে, কী দুঃসাহসী বিক্রমে প্রত্যেক ভোরবেলা চালিয়ে যাচ্ছিলাম রাইফেল ট্রেনিং বড়’দের সাথে, তা আজও বিস্ময় লাগে বৈকি! এই ট্রেনিং হয়তো আমার স্কুল জীবনের বয় স্কাউট হওয়ার পেছনের অবচেতনার উৎসাহ পর্ব ছিল।

যাই হোক, বাম রাজনীতিতে বাবার দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যখন উনি খোঁজ পেলেন যে নেতাদের কেউ কেউ তাদের ছেলেদের বাইরের পয়সায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে পাঠাচ্ছে! দেশমুক্তির সন্ধিক্ষণে অনেকে দলছুট হতে শুরু করে, ফলে এই ভেক ও ভ্রান্তিবিলাসের রাজনীতি থেকে সড়ে আসেন, কিন্তু অন্যদিকে সব সময়ে যারা দেশ ও শিকড় প্রোথিত সাম্যের রাজনীতিকে তিনি ঘরের সম্পদ থেকে সবকিছু দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতার হাত বাড়িয়ে দিতেন! তবে তিনি কখনো রাশিয়ায় বৃষ্টি হলে আমাদের দেশে ছাতা খোলার পক্ষপাতী ছিলেন না কোনোকালে, এটা জেনেছিলাম সেই যুগে! তিনি ধর্ম অধ্যুষিত অঞ্চলে মার্ক্সবাদ’কে আরও গণমুখী হওয়ার কথা বলতেন! তিনি আস্তিকতার সাথে মার্ক্সবাদের তাত্ত্বিক সমস্যা লাঘবের কথা বলতেন! সেই যুগে পোস্ট মার্ক্সিজমের চর্চা ছিল না! আর ট্রটস্কির চর্চা ছিল সন্দিগ্ধ। ফলে মার্ক্সচর্চায় গণয়ন সম্ভব হয়নি, ফলে তাতে দক্ষিণপন্থীরা সুযোগ নিচ্ছে! এর পেছনে একটা প্রায়োগিক ঘটনার উদাহরণ আছে এবং তা এখানে খুব সহজে উপস্থাপন করা যায়। একবার বাবা তার বন্ধুদের নিয়ে এক কমিউনিস্ট সভায় লঞ্চ করে যাচ্ছে কোনো এক মফস্বল জেলায়! সাঁঝের বেলায় হিন্দুরা কীর্তন শুরু করেছেন আর মুসলমানেরা দেখাদেখি শুরু করেছেন মিলাদ মাহফিল! দ্বন্দ্বমুখর রব শুরু হলো, একটা অন্তঃদ্বন্দ্ব ব্যাপকতা পেল! বলা হলো, হিন্দুদের’টা সংস্কৃতি-অনুগ, কিন্তু বিতর্ক শুরু হল যখন বলা হলো মুসলমানের’টা নয়!

যাই হোক, ধর্মকে আজ অবধি রাজনীতি সম্পৃক্ত করার মতন কাজটি হবে বোকামি, তেমনি ধর্মকে বা ধার্মিক’কে সাম্যবাদী আন্দোলনে অসম্পৃক্তি করাও ভুল হবে। যে কারণে আজ অবধি সাম্যবাদী রাজনীতি মানুষের কাছাকাছি আসতে পারেনি, একত্রিত করতে পারেনি মানবমণ্ডল’কে! কিন্তু কে এই শ্রেণি বিভক্ত সমাজের দেশে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে!

……………………………………

এরপর বাবুল চাচা বজলুল হকের হাত ধরে শহীদ আসাদ দিবস আর বিভিন্ন বাম ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে যেতাম। মুসলিম ইস্টিটিউটের এক সভায় ৬৯-এ গিয়েছিলাম শেখ মুজিবের ভাষণ শুনতে, তখন তিনি বঙ্গবন্ধু অভিধা পাননি, সে কী অনুভুতি তখন! ৬৯ আর ৭০ সালে ছাত্র ইউনিয়নের অনুষ্ঠানে গণসংগীত সহযোগে প্রসিনিয়াম স্টেজে ছায়ানৃত্যে ছোট্টবেলায় কয়েকবার অংশ নিয়েছিলাম মুসলিম ইস্টিটিউটের প্রেক্ষাগৃহের মঞ্চে! সে সময়ে মনে আছে, সবাই একুশে সংকলন বের করত। ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী, খেলাঘর সকল সংগঠনের প্রকাশনী কী সুমুদ্রিত, কী নির্ভেজাল নান্দনিক সৃষ্টিশীলতা যেন খালি পায়ে একুশে ফেব্রুয়ারি’তে মিছিলে যাওয়ার মতন পবিত্র এই সকল সম্ভার। একাত্তরের ২৩ মার্চের বিশাল মিছিলের পর চট্টগ্রামের মতিয়া-মেননের গ্রুপের বকতিয়ার নূর সিদ্দিকীর সাথে, চাচা, যিনি প্রবর্তক বিদ্যাপীঠের ছাত্র ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি বজলুল হকের সাথে শ্লোগানে শ্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়ে প্রখর তপ্ত রোদে ঘর্মাক্ত হয়ে আন্দোলনের বড় ভাইদের দেওয়া হক লজেন্স আর নাবিস্কো লজেন্স মুখে দিয়ে বাড়ি ফিরতেই দেখি আগ্রাবাদের অফিস থেকে বাবা দুটো বেবী ট্যাক্সি নিয়ে হাজির। মা’কে বললেন— ‘মিনু, হাতে যা আছে তাই নিয়ে রেডি হয়ে যাও একদম সময় নেই পাঞ্জাবিরা ট্যাঙ্ক নিয়ে নেমে পড়েছে’!

মনে আছে, মা সকলের জন্যে পোলাও মাংস রান্না করেছিলেন যুদ্ধের সময় কে কোথায় যাব তার নিশ্চয়তা ছিল না! কিন্তু মায়ের ওই বাড়িতে শেষ রান্না করা খাবার যেমনি ছিল তেমনি পড়ে রইল! আমার মনে কিন্তু জাগরুক, দেশ স্বাধীন হয়ে ওই পোলাও তখন এসে খাব! সেই থেকে গ্রাম বাংলার পথে পথে, গ্রাম থেকে গ্রামে পালিয়ে বেড়িয়েছি। সেই গ্রামে থাকাকালীন অন্তরীণ সময়ের কৈশোর জীবনের কথা নিয়ে হতে পারে একটা কিশোর উপন্যাস! ওই গ্রামে পালিয়ে থাকার অন্তরীণ সময়ে কৈশোর যুগটা আমার ক্ষেত্রবিশেষে ঘটনাবহুল! পেরেক শিল-পাথরে ঠুকে তীরধনু বানিয়ে আমি তখন হানাদার’দের বিরুদ্ধে নিজেকে তৈরি করছিলাম! খালার শ্বশুরের বাড়ির পেছনের বাগিচায় যেখানে ট্রেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে সেখান কলাগাছগুলোর বারোটা বাজল আমার অব্যর্থ শিকারের গুণে! খালার শ্বশুর ছিলেন বিশাল— কী দৈর্ঘে কী প্রস্থে! আর শ্বেত শুভ্র দাড়ি পেট পর্যন্ত নেমে এসেছে! একেবারে রীপ ভ্যানউঙ্ক্যেলের সাথে সমিল চেহারা! আমার তীরধনু হাত করে বলে নানু, ‘এই পুরোনো দিনের অস্ত্রে কলাগাছগুলো অক্কা পাবে, ফল আর দেবে না! আমার আছে এর চেয়ে ঢের শক্তিশালী অস্ত্র! ওই যে দেখছ ফুলে পানি দেওয়ার প্লাস্টিক পাইপ!’

‘হ্যাঁ দেখেছি! ওটা দিয়ে নানু তোমাকে গরম পানি সাপ্লাই দেব আর তুমি পাঞ্জাবিদের তাড়া করে মারবে, কেমন!’

এত বছর পরে ভাবছি এটা কি হয়! প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখা বুড়ো আমাকে কিনা যুদ্ধ প্রস্তুতি শেখায়! আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নাকি তার দেখা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে! কানুনগোপাড়ার নাট্যকার অভিনেতা বাবলাদা’র সাথে মুক্তিযুদ্ধে পালিয়ে যেতে না পারা, এই ভ্যানউঙ্ক্যেল বুড়ো আমাকে মলয় মুনশির হাটে বাবলাদা’র সাথে আমার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে, আমাকে জোরপূর্বক কাঁধে চেপে বাড়ি নিয়ে আসা। বড় বিস্ময়কর! উনি কী করে যে আমার আর বাবলাদার গোপন পরিকল্পনা রেডিও শোনার পর রাত্রিবেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় শুনতে পেলেন! স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শোনা চক্কু মিয়ার বয়ান আর বিবিসি’র মার্ক টালির ভাষ্য আর বাবলাদা’র সাথে আর পরিবারের সকলের সঙ্গে আর শোনা হলো না। উনি আমাকে ছাড়াই যুদ্ধে চলে গেলেন! সবচেয়ে বড় কথা রীপ ভ্যানউঙ্ক্যেল আমার পালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টার কথা বাবা মা’কে কিংবা কাউ’কে জানালেন না! মন খারাপের ভেতরে আবার প্রতিদিনকার উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে থাকা, ব্ল্যাক আউট করে সন্ধে ৭টায় রেডিও নিয়ে পুরো পরিবার, টিউনিইং করতাম আর আমি সে টেকনিক বিদ্যায় ছিলাম সিদ্ধহস্ত! এই গ্রামে অবস্থানের সময়ে বাবা ডাক্তার নলিনী বাবুর বাড়ির কারও থেকে শুনেছিলেন যে পাঞ্জাবি কানুনগোপাড়ায় নেমেছে, জেলেপাড়ায় আগুন আর স্টেনগানে মানুষের দেহ ছিন্নভিন্ন! আমাদের শহরের বাড়িতে মণি কাকু ছোটদের চুল কাটতে আসতেন, তিনি শুনেছি পানাপুকুরে ডুব দিয়েছিলেন পাঞ্জাবিদের থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে, তা তার শেষ রক্ষা হয়নি। রাজাকারেরা পাঞ্জাবিদের দেখিয়েছিল পুকুরে হিন্দুরা লুকিয়ে আছে! হানাদারের স্টেনগানে সাঁড়াশি গুলিতে পরের দিন পানাপুকুরে মণি কাকু’র গুলিবিদ্ধ লাশ ভেসে উঠেছিল! যুদ্ধ পরবর্তীকালে বাবা’র লেখা কবিতা পড়েছিলাম মণি কাকু’কে নিয়ে— যিনি বাবা’র চুল কাটতেন যেই ব্রিটিশ আমল থেকে। আমি বাবার হারিয়ে যাওয়া কবিতার কথা মনে করে মণি কাকু’কে স্মরণ করে কবিতা লিখি—

পানাপুকুরে মণি কাকু

লুকিয়ে থাকতে পারেনি

কী যে বিগ্রহ কাল;

ভাড়াটে দালাল বলে দিল

এমনি অঝরে রাশি রাশি গুলি

সবুজ পানাপুকুর হায় রক্তাক্ত হলো

শাকপুরার মানবচিত্র

বাবলা’দা যুদ্ধে,

তীরধনু নিয়ে ক্ষেপে উঠি

নিষ্পেষিত সময়ে আমরা একা

শুধু অদ্ভুত আঁধারে বেজে উঠে

ইথারের বাণী, এত দীর্ঘ সময়ের পরও

সেই বাণী শ্রবণে জমে মরা

অলীক নিশ্চলা ডোবা পুকুর

(আলমগীর হক)

যাই হোক, এই খবরের ঘণ্টার মধ্যে বাবা কি দৈবশক্তির বলে এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাম ছাড়তে সিদ্ধান্ত নিলেন! বাবা আমাদের এই যাত্রায়ও আমাদের বাঁচালেন তার শুভবুদ্ধি দিয়ে। গ্রাম ছাড়ার ঘণ্টার মধ্যে আমাদের খালার শ্বশুরবাড়িসহ সব বাড়িঘর আগুন আর অনবরত গুলিতে ছাড়খার হয়ে যায়। আমাদের আত্মীয়রা বাগিচার ট্রেঞ্চে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়। আমরা গ্রাম ছেড়েছি, মনে আছে রিকশা শাড়ি দিয়ে ঢাকা! গ্রামের মাটির রাস্তা ধরে যাচ্ছি মায়ের পাশে বসে, মায়ের কোলজুড়ে বসন্ত রোগ ছাড়িয়ে মাত্র ছোট্ট বোনটি লীনা! অন্য রিকশায় বোন আন্না, ভাই সাজন, রাজন’কে নিয়ে! বাবা অন্য রিকশা থেকে বলল, ‘মিনু জলদি স্বপনের চোখ ঢেকে রাখো!’ যেই বলা অমনি খুব দ্রুতই রিকশার ছাউনির ফাঁকে দেখে ফেললাম, আইল পথে, ধানী জমির উপর মানুষের লাশ আর লাশ ফুলে-ফেঁপে পড়ে আছে! দূরে একটা বটগাছের নিচে মানুষের লাশ টুকড়ে খাচ্ছে শকুন! আমার মুখে রা নেই, মা আমার চোখ ঢাকার আগেই সব দেখে ফেলেছি! আমি ভীষণভাবে চুপ করে গেলাম, ওটা আমার জীবনে প্রথম ভয়াবহ দৃশ্যজ চিত্রও, যা স্তব্ধতায় অতিক্রম করতে শিখেছিলাম!

সাত মাস পর আমরা কেবলই শহরে উঠে এসেছি গোপনে, থাকি লিচু বাগানের বাড়ি’র নিচে একটা গোডাউনে! তখন পাকিস্তানি বোমারু বিমানের শব্দ ছাড়া আর কোনো কুকুর কিংবা কাকের রা নেই! আগ্রাবাদ থেকে ছুটে আসা মুখলেস আঙ্কেল আমাদের সাথে উঠে এলেন বিহারি আর পাকিস্তানি হানাদারদের তাড়ায়, আমাদের জামাল খান রোডের বাড়িতে। আমরা ব্লাক আউট করে মুখলেস আঙ্কেল, আন্টি, আমার আমাদের বন্ধু সহপাঠী তাদের সন্তানেরা শিল্পী, সঙ্গীতাসহ ভাই-বোন সবাই গোডাউনে কাঁথামুড়ি দিয়ে লুকিয়ে! একবার রেলওয়ে হাসপাতালে হানাদারেরা বোমা মেরে উড়িয়ে দিল, এখনো মনে আছে।

 

Read Previous

মুদ্রিত দুঃখের ধারাপাতে

Read Next

শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণন, ৫ম সংখ্যা (অক্টোবর-২০২৩)

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *