
ছায়াস্থল
বাবার অনিন্দ্য চোখ হাসছে কথা বলছে
আমার চোখে, তারা ঝিলমিল এক আকাশ
অবগাহন করছি সমুদ্র-গভীর-সুশীতল!
আমার শিশুর তুলতুলে শরীর
ঠিকরে বেরোচ্ছে খুশির ফোয়ারা, তাঁর চোখে
চোখ কথা বলছে, হাসছে…
আমি মালাই খাচ্ছি, চায়ের দোকান
থেকে বেরিয়ে ঢুকবো
পাঠশালায়
দু’জন পাশাপাশি। স্নেহপাণি!
তাঁর বিমল চোখ, চেয়ে আছে
আমার ছায়াস্থল।
একটা সবুজ-শ্যামল আদিগন্ত মুখচ্ছবি–
বাবা যেন চেয়ে আছে
এখনও ছায়া হয়ে!
★
হড়াই নদীর পাড়ে
–সোহেল রানা
ছুটে যাই বারবার, বারংবার
পিছন ফিরে,– মাছরাঙা মন…
উহ, শৈশবের চঞ্চলতা আর কৈশোরের দুরন্তপনা!
ঘুঘু-ডাকা দুপুর…
ফিঙের বহতা পাখায় তার কুচকুচে শরীরী ও জ্বলজ্বলে চোখে…
নরম বিকেল :
শারদ সুন্দর কাশফুল আকাশ…
ডানা মেলেছে শাদা শাদা বকের পাল!
কানাকুয়া কুপ কুপ করে উঁচু থেকে নিচু স্বরে
ডেকে ডেকে তার সঙ্গিনীকে খোঁজে।
ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, জারি-সারি
আর পল্লিগাঁয়ের পল্লিগীতি, মুখর–
পাখিডাকা সকল…
জুঁই-শাপলা-টগর-বেলির অপরিম্লান মুগ্ধতায়
মাছরাঙা শরীরী ও মন ঝলকান ছুটে যাই
উড়ে যাই বারবার, বারংবার–
হড়াই নদীর পাড়ে।
★
—————————–
সোহেল রানা
এফ/৩০, বি.জি. প্রেস স্টাফ কোয়ার্টার
তেজগাঁও, ঢাকা -১২০৮
সোহেল রানা