
রক্তকরবী : মুক্ত প্রাণের অপরাজেয় গান
ফরিদ আহমেদ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অনন্য সৃষ্টি হচ্ছে ‘রক্তকরবী’ নাটক। এই নাটকটি ১৯২৪ সালে প্রবাসী পত্রিকায় এবং পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৯২৩ সালে শিলং এ শৈলাবাসে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে বসেই নাটকটি লিখেছিলেন তিনি। এটা অবশ্য এক টানে লেখা নাটক নয়। অসংখ্যবার ঘষামাজা করেছেন তিনি নাটকটার। এমনকি প্রবাসীতে ছাপা হয়ে যাবার পরেও ‘রক্তকরবী’কে সংশোধন করতে চেয়েছিলেন তিনি।
শঙ্খ ঘোষের ‘রক্তকরবী: রূপ ও রূপান্তর’ বইটি থেকে জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ এই নাটকের প্রায় সাত থেকে আটটি খসড়া তৈরি করেছিলেন। এই সংশোধন প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি স্তরে হয়েছিলো: প্রথম দিকের খসড়াগুলোতে চরিত্রদের সংলাপ ছিল বেশ দীর্ঘ এবং অনেক বেশি তাত্ত্বিক বা ব্যাখ্যামূলক। রবীন্দ্রনাথ ধীরে ধীরে সেই দীর্ঘ বক্তৃতাগুলো কেটে বাদ দেন। সংলাপগুলোকে ছোট করেন। সেই সাথে এগুলোকে করে তোলেন রহস্যময় এবং ইঙ্গিতপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘রাজা’ চরিত্রটি ছিল অনেক বেশি নিষ্ঠুর এবং খলনায়কসুলভ। কিন্তু সংশোধনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ জালের পেছনের রাজাকে পরম একাকী, অতৃপ্ত এবং জ্ঞানপিপাসু এক ট্র্যাজিক চরিত্রে রূপান্তর করেন, যে তাঁর নিজের তৈরি করা যান্ত্রিক কারাগার থেকে নিজেই মুক্তি চায়। এর বাইরে আর একটি সংযোজনও ঘটে। নাটকটি পরিমার্জনের সময় রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পারেন, যক্ষপুরীর ভেতরের শুষ্কতাকে ভাঙতে গানের সুর অপরিহার্য। তাই খসড়া পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি নন্দিনী এবং কিশোরের মুখে ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’ বা ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি’র মতো গানগুলো জুড়ে দেন। এই গানগুলো নাটকের ভেতরের অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
নাটকটিকে শুধু বারবার সংশোধন করেই ক্ষান্ত থাকেন নাই তিনি, এর নামকরণও বদলেছেন তিনি বেশ কয়েকবার। শুরুর দিকে খসড়াগুলিতে নাটকের কোনো নামই ছিলো না। কিন্তু, তাঁর চিঠিপত্রতে তিনি এই নাটকের নাম ‘যক্ষপুরী’ বলে অভিহিত করেছেন। এই নামকরণ ছিলো সরাসরি ধরনের নামকরণ। মাটির তলা থেকে সোনা তোলার যে অন্ধ লোভ এবং সেখানকার কুলি-মজুরদের যে নরককঙ্কাল জীবন, তাকে সরাসরি নির্দেশ করতেই এই নামকরণ করা হয়েছিলো। পরে আবার সেটাকে ‘নন্দিনী’ নামেও উল্লেখ করেছেন তিনি। নাটকটি লেখার পর রবীন্দ্রনাথের মনে হয়, এই অন্ধকার ও লোভের পুরীতে আসল চালিকাশক্তি হলো ‘নন্দিনী’। নন্দিনী হচ্ছে সমস্ত শৃঙ্খলের মাঝে প্রাণের এবং সুন্দরের প্রতীক। তাই তিনি নাটকের নাম বদলে নতুন নামকরণ করেন ‘নন্দিনী’। তবে, এই নামও টিকে থাকেনি। প্রবাসীতে প্রকাশিত হওয়ার সময়ে তা ‘রক্তকরবী’ নামে প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেছিলেন, কেবল একটি চরিত্র বা জায়গার চেয়ে ‘রক্তকরবী’ ফুলটি এই নাটকে অনেক বড় প্রতীক। এটা একাধারে সৌন্দর্যের প্রতীক, আবার এর লাল রঙ হলো বিদ্রোহ, বিপ্লব এবং বলিদানের প্রতীক।

রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটকগুলোর মধ্যে রক্তকরবী সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং আলোচিত নাটক । সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নাটকও এটাকে বলা যেতে পারে। এর পিছনে কারণও আছে। এই নাটকটটা সাংকেতিক বা রূপকধর্মী নাটক। এর আখ্যানের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সমাজ এবং রাষ্ট্র বাস্তবতার গভীর এক অর্থ। গীতধর্মী এই নাটকের নান্দনিক সৌন্দর্য সীমাহীন। নাটকের সংলাপ গীতি কবিতার মতো সুললিত এবং সুমধুর। যে কারণে শম্ভু মিত্রের মতো নাট্যকারও ‘রক্তকরবী’ মঞ্চে আনার সময়ে এর সংলাপে হাত দেবার সাহস পাননি। ১৯৫৪ সালে তাঁর নির্দেশনায় ‘বহুরূপী’ নাট্যদলের মঞ্চায়নই ‘রক্তকরবী’-কে সাধারণ দর্শকের কাছে জনপ্রিয় ও বোধগম্য করে তোলে।
মানুষের প্রবল লোভ কিভাবে জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে, কীভাবে মানুষকে নিছক যন্ত্রে ও উৎপাদনের উপকরণে পরিণত করে, সেটাই রবীন্দ্রনাথ তুলে এনেছেন তাঁর নাটকে। একই সাথে এই লোভের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদকেও বিমূর্তরূপে উপস্থাপন করেছেন তিনি।
যক্ষপুরীর রাজার মূল কাজ হচ্ছে প্রজাদের চরমভাবে শোষণ করা এবং নির্দয়ভাবে শাসন করা। সম্পদের প্রতি তাঁর লোভ সীমাহীন। সেই লোভ মেটাতে মাটি খুড়ে তাল তাল সোনা তুলে আনতে হয় শ্রমিকদের, খনির কুলিদের। সেটা করতে গিয়ে অকালে জীবন হারায় তারা। তাদের উপর চলে নির্বিচারে নির্যাতন। প্রতিবাদ করলেই ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয়। কেউ কেউ হারিয়ে যায় গহীন কোনো এক অন্ধকারে। এগুলোতে রাজার তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ, এরা কেউ তার কাছে মানুষ না, একটা সংখ্যা মাত্র, যে সংখ্যা লেখা থাকে এদের পিঠে। তিনি জালের আবরণের আড়ালে থাকেনএকমাত্র লোভ ছাড়া আর কোনো কিছুই তাকে স্পর্শ করে না। মানবীয় এই এক রাক্ষুসে অনুভূতি ছাড়া অন্য কোনো সুকুমার অনুভূতি তার নেই। শুধু শ্রমিক কিংবা কুলিরাই নয়, অন্য সব পেশার লোকেরাও রাজার দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি। কারো কোনো স্বাধীন জীবন নেই। মনুষ্যত্ব, মানবতা, প্রেম-ভালবাসা, সৌন্দর্য, সঙ্গীত এগুলো সব অবহেলিত এবং পীড়িত যক্ষপুরীতে। জীবনের কোনো প্রকাশ যক্ষপুরীতে নেই। আছে শুধু মৃত্যুর হাতছানি।
এই প্রাণহীন, ধূসর এবং কঙ্কালসার মৃত্যুপুরীতে একদিন আগমন ঘটে ‘নন্দিনী’ নামের এক তরুণীর। ভালোবাসা আর প্রেমের কাব্য অঞ্জলিভর্তি করে সে আসে যক্ষপুরীর এই অ-কাব্যিক পরিবেশে। নন্দিনী যক্ষপুরীতে এসেছে তার প্রেমিক ‘রঞ্জন’-এর খোঁজে। রঞ্জন হলো এমন এক তরুণ, যে যেখানেই যায় সেখানে আনন্দ আর বিদ্রোহের জোয়ার নিয়ে আসে। যক্ষপুরীর শাসকেরা রঞ্জনকে ভয় পায়, কারণ সে নিয়ম মানে না, খনিতে কাজ করতে অস্বীকার করে। তাই তাকে বন্দি করে রাখা হয়। নন্দিনী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে কখন রঞ্জন এসে এই বন্দিশালার জাল ছিঁড়ে ফেলবে। মজার বিষয় হচ্ছে নাটকের একটা বড় অংশ জুড়েই রঞ্জন কিন্তু মঞ্চে অনুপস্থিত থাকে। রঞ্জন হলো সেই অদৃশ্য শক্তি বা বিপ্লবের প্রেরণা, যাকে সচক্ষে না দেখেও যক্ষপুরীর বন্দিরা বুক বাঁধে। এই “অনুপস্থিতির শক্তি” নাটকের একটি বড় বৈশিষ্ট্য।
কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করা এই তরুণীর গলায় জড়ানো থাকে লাল রক্তকরবী ফুলের মালা। তার এই অবাধ্য রূপ, সৌন্দর্য এবং অনন্য প্রাণোচ্ছলতা যক্ষপুরীর খাঁচায় বন্দী মানুষদের মনে পলিমাটির মতো নাড়া দেয়; প্রাণহীন ভূমিতে জেগে ওঠে প্রাণ, আর প্রেমহীন বাতাসে ভেসে আসে প্রেমের গান। অন্ধকার এই পাতালপুরী থেকে সবাইকে আলোর পথে হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে নন্দিনী। কুলি-মজুর থেকে শুরু করে খোদ যক্ষপুরীর অধ্যাপক ও সর্দার—সবাই তার এই অদ্ভুত মায়ায় এবং স্বাধীনতার আকুলতায় মুগ্ধ ও আলোড়িত হয়। এমনকি জালের আড়ালের সেই শক্তিশালী, আসুরিক এবং লোভী রাজাও শেষ পর্যন্ত টলে যান নন্দিনীর এই অমোঘ আহ্বানে।
নাটকের শেষাংশে এক ভয়ংকর সত্য উন্মোচিত হয়। জালের আড়ালে থাকা রাজা নিজের অজান্তে, রঞ্জনের পরিচয় না জেনে, তাকে হত্যা করেন। নন্দিনী রাজার মুখোমুখি হয় এবং রাজা জানতে পারেন যে তিনি স্বয়ং রঞ্জনকে হত্যা করেছেন, তখন রাজার ভেতরের মোহভঙ্গ ঘটে। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর এই বিপুল ক্ষমতা আসলে এক বিরাট শূন্যতা আর খাঁচামাত্র।
রঞ্জনের মৃতদেহ দেখে নন্দিনী কান্নায় ভেঙে পড়ার বদলে রুখে দাঁড়ায়। সে যক্ষপুরীর এই অত্যাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, অনুতপ্ত ও জাগ্রত রাজা নিজের তৈরি করা ‘যক্ষপুরী’র জাল নিজেই ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি তাঁর নিজের গড়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন এবং নন্দিনীর হাত ধরে বলেন, “আজ আমি তোমার সাথে লড়াই করতে বেরোলাম—আমার নিজেরই বিরুদ্ধে।”

আগেই বলেছি, ‘রক্তকরবী’ রূপক নাটক। রবীন্দ্রনাথ মূলত দুটি বিপরীতমুখী শক্তির চিরন্তন দ্বন্দ্বকে দেখাতে চেয়েছেন এই নাটকে। একদিকে রয়েছে প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম এবং মানবিকতার সহজ প্রকাশ, অন্যদিকে রয়েছে কৃত্রিম যান্ত্রিকতা, লুণ্ঠন ও ক্ষমতার অন্ধ মোহ। এই নাটকের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব হলো যান্ত্রিক সভ্যতার সাথে মানবিকতার দ্বন্দ্ব। যক্ষপুরী হলো আধুনিক শিল্পসভ্যতা বা পুঁজিবাদের প্রতীক, যেখানে মানুষ কোনো ব্যক্তি নয়, স্রেফ উৎপাদনের হাতিয়ার। যে কারণে কুলিদের নাম কেড়ে নিয়ে ‘নম্বর’ দেওয়া হয়। এই দ্বন্দ্বের একদিকের চালিকাশক্তি হলো খনির লোহা ও সোনা (জড়বস্তু), অন্যদিকের চালিকাশক্তি হলো নন্দিনী ও রঞ্জন (প্রাণ)। রবীন্দ্রনাথ দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে যান্ত্রিক সভ্যতা মানুষের ভেতরের সহজ আনন্দ, প্রেম ও আত্মাকে পিষে মারে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের ‘প্রাণ’ কীভাবে সেই যন্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চায়।
নাটকটিতে বন্ধনের বিরুদ্ধের মুক্তির দ্বন্দ্বও দেখানো হয়েছে। জালের আড়ালের রাজা হলেন পরম ক্ষমতার প্রতীক, কিন্তু মজার বিষয় হলো, তিনি নিজেই নিজের তৈরি ব্যবস্থার কাছে বন্দী। রাজা সঞ্চয় করতে চান, শক্তি দিয়ে সব গ্রাস করতে চান; কিন্তু নন্দিনী ও রঞ্জন সবকিছু বিলিয়ে দিতে জানে, তারা মুক্ত। রাজা নন্দিনীর হাত ছুঁয়ে দেখতে চান, তার ভেতরের অসীম আনন্দের রহস্যটা বুঝতে চান, কিন্তু নিজের তৈরি ‘লোভের জালের’ কারণে তা পারেন না। এই দ্বন্দ্বটি হলো বাইরের বিপুল ক্ষমতা বনাম ভেতরের চরম একাকীত্বের দ্বন্দ্ব।
রবীন্দ্রনাথ নিজেই এই নাটকের ব্যাখ্যায় লিখেছিলেন, এটি কোনো কাল্পনিক রূপক নয়, এটি তাঁর চোখের সামনে দেখা আধুনিক পৃথিবীর নিষ্ঠুর সত্য। রূপকের আড়ালে তিনি আসলে দেখাতে চেয়েছেন যে, “লোভ যখন মানুষের রূপ নিয়ে আসে, তখন সে প্রকাণ্ড; কিন্তু প্রেম যখন আসে, তখন সে অপরাজেয়।” যক্ষপুরীর সমস্ত শক্তি আর নিষ্ঠুর শাসনকে এক নিমেষে স্তব্ধ করে দেয় নন্দিনীর হাতের ওই সামান্য লাল রক্তকরবী ফুল, যা আসলে মানুষের অবিনশ্বর স্বাধীনতারই প্রতীক।
নাটকের এই রূপক ব্যবহার অবশ্য অজিতকুমার ঘোষের কাছে অপছন্দনীয় ছিলো। তাঁর মতে রূপক-প্রতীকের আবরণ ভেদ ক’রে এই নাটকের মধ্য থেকে লেখকের বিশেষ মত বা উদ্দেশ্যটা বারবার ধরা পড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, রূপক-প্রতীক সৃষ্টিই এ নাটকের মূল লক্ষ্য নয়। বরং আসল লক্ষ্য ভিন্নতর। তিনি এই নাটকের সংলাপের বিষয়েও অসন্তুষ্ট ছিলেন। ‘বাংলা নাটকের ইতিহাস’ বইতে তিনি লিখেছেন, “নাটকের সংলাপ এত অলংকার-বহুল যে সাধারণ দর্শকের কাছে তাহা সুবোধ্য নহে। রূপক-শ্লেষ-বিরোধ প্রভৃতি অলংকার পদে পদে ব্যাঘাত ঘটাইয়া দেয়, রসের প্রতি সচল হইয়া উঠিতে পারে না। সব চরিত্রের ভাষা একই রকম, কোনো পার্থক্য নাই। লেখকের ব্যঙ্গগুলিও বড়ো স্পষ্ট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত, লেখকের মত বার বার ধরা পড়িয়া যায়।“
‘রবীন্দ্রনাথের রক্তকরবীঃ সমাজ বাস্তবতা’ বইতে অজয় কুমার ঘোষ আবার এর বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়েছেন। তাঁর মতে রূপকের আবরণ ভেদ করে লেখকের মত ধরা পড়াটা বরং ভালোই হয়েছে। তা না হলে হয়তো আমরা রূপক-প্রতীক সৃষ্টির পরাকাষ্ঠা বলে নাটকটাকে বাহবা দিতে পারতাম, কিন্তু তা হয়ে উঠতো দুর্বোধ্য এক নাটক। রূপক-প্রতীক-ব্যঞ্জনার অতি সূক্ষ্ণতা ঘটলে এ নাটক সমাজ-বাস্তবতামূলক না হয়ে বিশুদ্ধ রোমান্টিকতার বা অতীন্দ্রিয়তার স্তরে গিয়ে পৌঁছাতো। অজয় কুমার ঘোষ এটা চাননি। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, “শিল্প সৌন্দর্যের চেয়ে মানুষ বড়ো, জীবন বড়ো। সেই মানুষ ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতার জোরেই সৌন্দর্যবাদী হয়েও রবীন্দ্রনাথ এখানে বাস্তব সমাজের সত্যস্বরূপ তুলে ধরতে চেয়েছেন। কারিগরী বিদ্যা ও যন্ত্র শক্তির সাহায্যে সমাজে যে অভিনব শোষণ প্রক্রিয়া দেখা দিল তার বিরুদ্ধেই কবির প্রতিবাদ। কারণ তা মানব-বিরোঢী ও জীবন-বিনাশী। এবং একদিন তার পতন হবেই।
