
শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণন এর তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হলো। এই সংখ্যায় ২২টি বিভাগে মোট ৮৩টি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। অনুপ্রাণনের ই-মেইলে প্রাপ্ত প্রায় ২০০ লেখা পাঠ করে সেগুলোর মধ্য থেকে এই ৮৪ টি লেখা অন্তর্জালে প্রকাশের জন্য সম্পাদনা পরিষদ মনোনয়ন দান করেছেন। তাই, অনুপ্রাণন আশা করে যে, প্রতিটি লেখাই পাঠকেরা পছন্দ করবেন এবং সংখ্যাটির সবগুলো লেখাই তারা আগ্রহ নিয়ে পড়বেন।
অনুপ্রাণন অন্তর্জালের প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যায় পাঠকদের সমাগম দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি তাই আমরা মনে করি মাত্র গত ফেব্রুয়ারিতে সূচনা করে শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল অনুপ্রাণন অচিরেই বাংলাদেশে বাংলা ভাষার শিল্প ও সাহিত্যের শীর্ষ ওয়েবজিনের একটি হয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
একদশক আগে বাংলাদেশের কয়েকটি ব্লগ অন্তর্জালভিত্তিক শিল্প-সাহিত্য চর্চার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। ফেসবুক তখন ততটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু ফেসবুকে সাহিত্য চর্চার শুরুতে ফেসবুক অন্তর্জালভিত্তিক পদ্য, পদাবলী অথবা কবিতাচর্চার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। পরে তরুণদের একটি দল ফেসবুকে অণুগল্প, বিশ শব্দের গল্প ইত্যাদী ফ্ল্যাশ ফিকশন ধরণের লেখার চর্চা শুরু করলো। ক্রমে কবিতা ও ফ্ল্যাশ ফিকশনের চর্চায় মধ্যবয়সী নারী পুরুষেরাও ব্যপকভাবে যোগ দিতে থাকলেন। আজ ফেসবুকে নিজ প্রোফাইলে কবিতা ও গল্প প্রকাশের পাশাপাশি কতগুলো পেইজ ও গ্রুপ গড়ে উঠেছে যেখানে বর্তমানে হাজার হাজার সদস্য বা ফলোয়ার রয়েছে। ইদানীং কোন কোন লেখক তার রচিত গল্প, প্রবন্ধ অথবা ভ্রমণকাহিনী ভেঙ্গে ভেঙ্গে ধারাবাহিক আকারেও প্রকাশ করা শুরু করেছেন যেখানে অনেক পাঠক সমবেত হতে দেখা যায় যারা তাদের প্রতিক্রিয়া দেয়ার পাশাপাশি বিশদ মন্তব্যও দিচ্ছেন। কিন্তু তারপরও ফেসবুক যতটা না শিল্প-সাহিত্য চর্চার স্থান হয়ে উঠেছে তার থেকে প্রধান হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল জগতে বন্ধু, আত্মীয়, সহকর্মী, অথবা সতীর্থদের একটি মিলন কেন্দ্র হিসেবে। তাই, সাহিত্য পাঠ ও চর্চা অব্যহত থাকলেও ফেসবুকের মেজাজ প্রধানতঃ ভার্চুয়াল জগতে পরিচিত ও আপনজনদের মধ্যে যোগাযোগ, কুশল-বার্তা বিনিময়, চলতি ঘটনা নিয়া টীকা-টিপ্পনী-মন্তব্য বিনিময়, দৈনন্দিন সাংসারিক কথাবার্তা, অথবা স্রেফ সময় কাটানোর জন্য আড্ডার স্থল। যে কারনে ভার্চুয়াল জগতে সাহিত্যের জন্য নিবেদিত একটু সিরিয়াস ধরণের লেখক ও পাঠকদের সাহিত্যপাঠ ও লেখালেখির জন্য অন্তর্জালভিত্তিক ম্যাগাজিন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
গত ফেব্রুয়ারি ২০২২ শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণন প্রথম সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল- অনুপ্রাণনের সুচনা হয়। সুচনা সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলো গড়ে অন্ততপক্ষে ২০০-৩০০ পাঠক কোন না কোন লেখা পড়েছেন। দ্বিতীয় সংখ্যায় এসে সেই গড় সংখ্যাটা প্রায় ৫০০-৬০০ জনে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশা করছি জ্যামিতিক হারে অনুপ্রাণন অন্তর্জালে পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যহত থাকবে এবং তাই তৃতীয় সংখ্যায় পাঠক সংখ্যা দ্বিতীয় সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ হবে।
এই আশাবাদ নিয়ে লেখক-পাঠক বন্ধু সবাইকে শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল তৃতীয় সংখ্যায় সাদর আমন্ত্রণ।