
খাসলত
রানা জামান
কলটা বরাবরের মতো খুশির হবে ভেবেছিলো বিপ্লব; কিন্তু শুনে হয়ে গেলো থ। বাবার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে কাঁদলেন মা-ও। রুমমেট তৌহিদ ভ্রু নাচিয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব বলে দিলো যা শুনেছে মা ও বাবার কাছ থেকে।
সৌরভ বললো, তুই এখনই বাড়ি চলে যা!
দ্বিধান্বিত কণ্ঠে বিপ্লব বললো, এই অবস্থায়? ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বে ইন্টেরিম গভমেন্টের মাত্র এক মাস হলো? এখনই চাঁদাবাজি শুরু করে দিলো ওরা? আমার আব্বুর কাছেও চাঁদা চেয়েছে!
সৌরভ বিপ্লবের কাঁধে হাত রেখে বললো, মাথা গরম করিস না। কিশোরগঞ্জের সমন্বয়কের সাথে আগে কথা বলবি। তারপর ঠাণ্ডা মাথায় দুজন আলোচনা করে কাজ করবি। প্রয়োজনে আমার সাথে কথা বলবি।
লিডারের সাথে কথা না বলে এভাবে যাওয়াটা কি ঠিক হবে দোস্ত? ওখানে উল্টাপাল্টা কিছু ঘটে গেলে সব দোষ এসে পড়বে তোর আর আমার উপর!
এদিকটা তো ভাবি নাই ফ্রেন্ড! তাহলে কল করে ঘটনা জানিয়ে পারমিশন চা!
উহু! ফোনে এখন আর লিডারকে পাওয়া যায় না। চারটা মোবাইল ফোন টুয়েন্টি ফোর সেভেন বিজি থাকে। বুড়োহাবড়া উপদেষ্টাগণ প্রত্যেক পদে মতামত চায় জুবায়ের কবিরের। ওদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় ডক্টর ইউনূস কতগুলো মেরুদণ্ডহীনদের উপদেষ্টা বানিয়েছেন, যেমনটা করতো পলাতক প্রধানমন্ত্রী সাইকো হাসিনা!
প্রধান সমন্বয়ক ওদের যা বললেন, তা এরূপ: এই দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দ্বারা অনেক নির্যাতন সয়েছে; শত শত মামলায় জেল খেটেছে; পালিয়ে বেড়িয়েছে বাড়ি ছেড়ে। তাছাড়া সতেরো বছরের না খাওয়া, রাক্ষস হয়ে আছে ওদের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। করতে দাও দখলবাজি, চান্দাবাজি, আরো যা যা অপকর্ম আছে! দেশের জনতা ওদের আসল রূপ বুঝতে পারলে আগামী ইলেকশনে এককভাবে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন মিশে যাবে ধুলায়! বিপ্লবের ব্যাপারটা হ্যান্ডল উইথ কেয়ার! সৌরভ, বিপ্লবের সাথে যেও।
পরদিন দুজন অনন্যা বাসে চেপে চলে এলো কিশোরগঞ্জ। টার্মিনালে দুটো দলের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখে ওরা বাস থেকে না নেমে কন্ডাকটরকে জিজ্ঞেস করলো, কী হইতাছে এইসব? এরা কারা?
কন্ডাক্টর বিরক্তি নিয়ে বললো, এইটা তো নিত্যদিনের ঘটনা ভাইসাব! আইজ একদল আইসা টার্মিনাল দখল করে তো, পরদিন আরেক দল আইসা দখল করতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। আমগো সারাজীবন চান্দা দেওন লাগবো। আম্লিগের সময় চান্দা দিছি; অহনো দিতে রাজি আছি। আপোস কইরা নিলে তো কুনু ঝামেলা থাকে না!
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকাবস্থায় বিপ্লব ও সৌরভ অতি সাবধানে বাস থেকে নেমে রাস্তার এধারে এসে কিশোরগঞ্জের সমন্বয়ক নাসিমকে কল করলো বিপ্লব, আমি ঢাকার মিরপুর এলাকার সমন্বয়ক বিপ্লব বলছি। আমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। এখন আমি কিশোরগঞ্জ গাইটালের বাস টার্মিনালের লাগোয়া রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে আছি। আমার সাথে সমন্বয়ক সৌরভ আছে। তুমি চট করে চলে আসো এখানে। জরুরি আলোচনা আছে।
দশ মিনিট পরে নাসিম রিকশা থেকে নেমে ওদের চিনতে পেরে মুখোমুখি এসে শেকহ্যান্ড করলো দু’জনের সাথে।
বিপ্লব বললো, চলো একটা রেস্টুরেন্টে বসে চা-নাশতা খাই। খিদেও লেগেছে বেশ।
নাসিম বললো, পাশেই সার্কিট হাউস। ওখানে যাই বিপ্লব ভাই?
না না, আমরা কোনো সরকারি সুবিধা নিবো না। নরসুন্দা রেস্টুরেন্টে আমি আগেও খেয়েছি। চমৎকার সিঙ্গারা-সমুচা বানায়, চা-ও ভালো বানায়। গরুর দুধের চা।
নাসিম ফের বললো, আপনার বাড়ি কিশোরগঞ্জ হলেও এখন আমার মেহমান। বিল আমি দেবো কিন্তু!
নরসুন্দা রেস্টুরেণ্টটা একটা অটো পার্টসের দোকানের পাশেই। রেস্টুরেন্টে ঢুকে একটা খালি কেবিনে মুখোমুখি বসলো তিনজন।
বিপ্লব চোখ মটকে বললো, কি হে জেলাতো ভাই নাসিম, তথাকথিত বড় দলের নেতাকর্মীদের মতো তুমিও টুপাইস কামানো শুরু করে দিয়েছো নাকি?
আহত পাখির মতো ম্রিয়মান কণ্ঠে নাসিম বললো, এইডা কী কইলা বিপ্লব ভাই? আমরা জেন-জি জেনারেশন! চাঁদাবাজি করতাম না!
বিষয়টিকে হালকা করার জন্য হাসিমুখে বিপ্লব বললো, তুমি সিরিয়াসলি নিলা দেখছি জেলাতো ভাই! ফান করলাম। আমি জানি জুলাই বিপ্লবের সোলজাররা অন্যায় কাজ করতে পারে না। এবার কাজের কথায় আসি।জি বিপ্লব ভাই। কেনো তুমি কিশোরগঞ্জো আইসো এবং আমারে ডাকলা কেনো, কও দেখি।
কিশোরগঞ্জ টাউনের অবস্থা কেমন চলতাছে?
এমন একটা বিষয়ে জানতে চাইতাছো বিপ্লব ভাই, যেডার কুনু আগামাথা নাই! পুলিশ নাই, থানা খালি। থানায় অস্ত্র নাই। আমরা স্কুল-কলেজের স্টুডেন্টদের দিয়া কাচারিবাজারের মোড়ে, গৌরাঙ্গবাজারের মোড়ে, বড়বাজারে, আরো কয়েক জায়গায় ট্রাফিক কণ্ট্রোল করতাছি। কিন্তু চাঁদাবাজি কণ্ট্রোল করার ক্ষমতা তো আমাদের নাই।
দখলবাজি চাঁদাবাজির অবস্থা কি খুব খারাপ?
ভয়াবহ বিপ্লব ভাই!
তুমি তো জানো আমাদের রড-সিমেন্টের ব্যবসা আছে। শোরুম বড় বাজারে।
তোমার বাবাকে কিশোরগঞ্জো টাউনের কে না চেনে! কী হইছে আঙ্কেলের বিপ্লব ভাই?
আব্বুর কাছে পঞ্চাশ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বড় দলটার জেলা কমিটির আহ্বায়ক।
কী কইতাছো বিপ্লব ভাই! তুমি জুলাই বিপ্লবের একজন সমন্বয়ক জেনেও আঙ্কেলের কাছে চাঁদা চাইছে? এত্তো বড় কইলজা ওদের?
ব্যাপারটা সামাল দেবার জন্যই কিশোরগঞ্জো আসছি। তোমার দলকে প্রস্তুত রাইখো। আমি না বলা পর্যন্ত কিছু করবা না। ওকে?
ওকে বিপ্লব ভাই।
সৌরভের দিকে তাকিয়ে বিপ্লব বললো, চল, এবার বাসার দিকে যাই।
দুজন নাসিমের সাথে শেকহ্যান্ড করে বাইরে এসে একটা খালি ইজিবাইকে চড়ে বিপ্লব বাসার ঠিকানা বলে দিলো।
ইজিবাইক গাইটাল এসে কৃষি উদ্যানের প্রধান ফটকের উল্টোদিকে একটা পাঁচতলা ভবনের সামনে দাঁড়ালো। ভাড়া মিটিয়ে কলবেল টিপে দিলে দোতলার বারান্দা থেকে একটা মুখ উঁকি দিয়ে ওদের দেখে খুশিতে নাচতে নাচতে আগমনবার্তা দিতেই বাসার সবাই চলে এলো নিচে।
মা আইরিন সুলতানা ও ছোট দুই ভাই-বোন জড়িয়ে ধরে বিপ্লবকে বলা যায় খুশিতে কাঁদতে লাগলো। বিপ্লব তিনজনকে জড়িয়ে ধরে অশ্রু সংবরণ করে বললো, সব ঠিক হয়ে যাবে আম্মু। আমার এক বন্ধুও সাথে এসেছে। ওর নাম সৌরভ।
বাসার সবাই সৌরভকে বন্ধু না ভেবে হয়তোবা অন্যকিছু ভেবেছিলো। কিন্তু বিপ্লবের কথায় মা ও দুই ভাই-বোন সহ সবাই খানিটা দূরে সরে সৌরভকে দেখতে লাগলো।
বিপ্লব সৌরভের হাত ধরে বললো, চল্, ভেতরে যাই। আম্মু, সৌরভ আমার রুমে আমার সাথে থাকবে। আব্বু কোথায় আম্মু? নিশ্চয়ই শোরুমে?
ডিউক বললো, হ ভাইয়া।
তোরা স্কুলে যাস নাই ক্যান?
পাঁচ আগস্টের পর থাইকা আমরা স্কুলে যাই না ভাইয়া!
তা তো জানি। কিন্তু কী করে তোদের সময় কাটে?
থানায় তো কুনু পুলিশ নাই! আমরা টাউনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতাছি। আমাদের দুই ভাই-বোনের আজ বিকালে পালা।
সৌরভ বললো, ঢাকাতেও কলেজ ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীরা ট্রাফিক কন্ট্রোল করছে। ঢাকায় দেখেছি কী সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে লাল বা নীল বাতি জ্বলার অপেক্ষা করছে। এখানে আসার সময় রাস্তাগুলোয়ও তাই দেখলাম। পুলিশ যা পারে না, এখন স্টুডেন্টরা তা-ই পেরে দেখাচ্ছে। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সময় প্রথমবার ঢাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছিলো স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা।
আইরিন সুলতানা বললেন, এইসব নিয়া পরে কথা কইস। অহন হাত-মুখ ধুইয়া খাইতে বস। আমি ফোন কইরা তোর আব্বুকে আইতে কই।
বিপ্লব বললো, আব্বুকে বাসায় আসতে বলার দরকার নাই। আমিই চইয়া যায়াম দোকানে।
তুই অহন ক্যান আইছস জানি। এইসব নিয়া দোকানে কথা বলা ঠিক হইবো না। বাসায় কথা ক।
ঠিক আছে আম্মু।
দুই বন্ধুর খাবারের সময় আতাউল গণি চলে এলেন বাসায়। বেসিনে হাত ধূয়ে ডাইনিং টেবিলের একটি চেয়ারে বসতে বসতে বললেন, আমাকেও খাবার দেও, ছেলেদের লগে খাইয়া লই। অনেক ক্ষিধা পাইছে।
খেতে খেতে ওদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলতে লাগলো। আতাউল গণি যা বললেন তা এরূপ :
পাঁচ আগস্টের পরে বাংলাদেশে যা ঘটলো তা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরেও ঘটেনি- থানাগুলো একেবারে খালি হয়ে গেলো; আর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট সরকার ও আওয়ামিলীগের শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পালিয়ে গেলো ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে, এমনকি বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবও পালিয়ে গেলো। এলাকার ছোটখাটো ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ ভেবেছিলো ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশের চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু হা হতোম্মি! ঘূর্ণিব্যত্যায় যেমন এক স্থান বাতাস শূন্য হয়ে গেলে চারিদিক থেকে ঐ স্থান পূর্ণ করার জন্য বাতাস ছুটে আসে, তেমনি ট্যাম্পুস্ট্যান্ড, বাস টার্মিনালসহ সকল চাঁদাবাজির শূন্যস্থানগুলো পূরণের জন্য আওয়ামিলীগের অনুপস্থিতিতে বড় দলের দাবিদার দলটির নেতাকর্মীরা কাছা মেরে নেমে পড়েছে। এখনকার এই অবস্থা স্মরণ করিয়ে দেয় সেই উনিশশ বাহাত্তরের পরবর্তী ঘটনা: মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই অস্ত্র জমা না দিয়ে ব্যাংক ডাকাতি ছিনতাই-এ নেমে পড়ে। জনশ্রুতি আছে শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালও ব্যাংক ডাকাতি করতো, যদিও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ‘দেয়াল’ উপন্যাসে তা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তখব বিরক্ত হয়ে খান আতাউর রহমান ‘আবার তোরা মানুষ হ’ শিরোনামে একটি সিনেমাও বানিয়েছিলেন। পার্থক্য হলো: তখন কিছু লোভী মুক্তিযোদ্ধা অপকর্মে লিপ্ত ছিলো; আর এবার যারা গণ অভ্যুত্থান বা বিপ্লবের সাথে জড়িত ছিলো, তাঁরা চাঁদাবাজি দখলবাজিতে জড়িত না হলেও তথাকথিত একটি বড় দলের নেতাকর্মীর জড়িয়ে পড়েছে ঐসব অপকর্মে।
শেষে আতাউল গণি আক্ষেপ করে বললেন, আমি জুলাই বিপ্লবের একজন সমন্বয়ক বিপ্লবের বাবা জেনেও আমার কাছে পঞ্চাশ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে।
বিপ্লব বললো, জেলা আহ্বায়ক সাইফুল আহমেদ নিজে চেয়েছে?
ক্ষোভের সাথে আতাউল গণি ফের বললেন, আমার কাছে সরাসরি চাঁদা চাওয়ার সাহস কি হের আছে? ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনী দ্বারা ঢাকার মহাবেশ পণ্ড করে দেবার পরে গণহারে ধড়-পাকড় শুরু হলে সাইফুল আহমেদ আমার গ্রামের বাড়িতে চব্বিশ সালের ইলেকশান শেষ হইবার আগ পর্যন্ত লুকায়া আছিলো।
সৌরভ বললো, এই বড় দলটির নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি দখলবাজিতে উঠেপড়ে লাগলেও জামায়াত-শিবিরের নামে এরকম কোনো বদনাম এখনো শোনা যায় নাই আঙ্কল। এর কারণ কী?
মস্তবড় একটা কারণ আছে এর পেছনে।
কী কারণ আঙ্কল?
আতাউল গণি যা বললেন:
-হুট করে কেউ জামায়াতের নেতা হতে পারে না। জামায়তের নেতা হলে আগে ছাত্রশিবির করতে হয়। আর ছাত্রশিবির করা শুরু হয় রোকন থেকে। রোকনরা খুবই সুসংঘটিত থাকে; পার্টির কোনো নির্দেশনা তারা অমান্য করে না। ওরা জানে ছাত্রত্ব শেষ হলে পার্টি ওদের চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে। কোনো ছাত্র বা ছাত্রী অসচ্ছল হলে, দল ওদের খরচা বহন করে। আতাউল গণির ভার্সিটি লাইফে এক বন্ধু ছিলো। বিসিএস পরীক্ষা পাস করার পরেও চাকরি না হওয়ায় চাকরি হয়ে যায় ইসলামী ব্যাংকে। ওখান থেকে রিটায়ার করার পরে আরেকটি ইসলামি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে গেছে। এটা বলার অর্থ জামায়াতে ইসলামীর চাকরি দেবার মতো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। ইসলামি ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক হসপিটাল, স্কুল-কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ; আরো অনেক কিছু। সেকারণে জামায়াত বা শিবিরকে দল চালানোর জন্য চাঁদাবাজি করতে হয় না বিজনেসম্যানদের কাছে। অপরদিকে আওয়ামীলীগ বা বিএনপির এরকম কোনো মানি আর্নিং প্রতিষ্ঠান আছে? নাই! নেতারা হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে; বড় বড় মিলকারখানা করেছে। নেতাকর্মীদের হাতখরচা দেবার জন্য এবং শিক্ষা শেষে চাকরি দেবার জন্য দলের ব্যানারে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোল নাই।
বিপ্লব সৌরভকে নিয়ে সাইফুল আহমেদের বাসায় এলে সাদরে ভেতরে নিয়ে গেলেন সাইফুল আহমেদ। চা-নাশতা পরিবেশন করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কবে আসলা কিশোরগঞ্জো ভাতিজা? আমি তোমার কী উপকারে আসতে পারি কও তো বিপ্লব?
বিপ্লব আগমনের হেতু বললে আধহাত জিভ বের করে অজ্ঞতার ভান করে সাইফুল আহমেদ বললেন, কী বলছো তুমি বিপ্লব! আমার নাম করে চাচার কাছে চাঁন্দা চাইছে! কে করলো এই জগন্য কামডা? আমি দেখতাছি ব্যাপারটা। আর চাচারে তুমি বইলো কুনু টেনশান না করতে; না থাক, আমি কথা কয়াম নে চাচার সাথে।
বাসায় এসে মা-বাবাকে বিস্তারিত জানিয়ে বিকেলের ট্রেনে বন্ধুসহ বিপ্লব চলে এলো ঢাকা। রাত সাড়ে সাতটায় মা কাঁদতে কাঁদতে জানালেন : সন্ধ্যার পরে একদল লোক লাঠিসোটা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে বড় বাজারের অনেক দোকান লুট করে নিয়ে গেছে। ওর বাবার দোকানেরও সবকিছু নিয়ে গেছে!
লেখক পরিচিতি
রানা জামান
জন্ম: ১৫ ফেব্রয়ারি ১৯৬০; নিজ জেলা: কিশোরগঞ্জ, বাংলাদেশ। অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব; এ যাবৎ প্রকাশিত বই-এর সংখ্যা: ১০০; লেখার ধরন: গল্প, কবিতা, ছড়া, গান, উপন্যাস, ইত্যাদি। ইংরেজিতেও কবিতা লিখছেন। বিদেশে বিভিন্ন এন্থলোজি ও ম্যাগাজিনে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২৩ সালে কলকাতার পত্রপাঠ প্রকাশনী থেকে ‘নেপথ্য কাহিনি’ নামে একটি মুক্তিযুদ্ধের গল্পের বই এবং ২০২৫সালে নৈঋত প্রকাশনী থেকে ‘বেলাশেষে সবাই একা’ নামে একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
