
শ্রাবণ মেঘের দিন : আবেগ, নন্দন এবং সংগীতের এক অপূর্ব সমাহার
আরফান হাবিব
ভূমিকা :
বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পে এমন কিছু সিনেমা আছে যা কেবল বিনোদনের জন্য নির্মিত নয়; এরা দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলে। এই চলচ্চিত্রগুলো সমাজ, সংস্কৃতি, মানবিক সম্পর্ক এবং আবেগকে গভীরভাবে চিত্রায়িত করে। শ্রাবণ মেঘের দিন এমনই একটি চলচ্চিত্র। হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্র কেবল প্রেম কাহিনি নয়, এটি মানব জীবনের বহুমাত্রিক আবেগ, সামাজিক কাঠামো, গ্রামীণ জীবনযাপন এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অন্তর্নিহিত সম্পর্কের এক চিত্র।
চলচ্চিত্রটির প্রধান শক্তি হলো চরিত্রগুলোর বাস্তবতা, নন্দনতাত্ত্বিক সৌন্দর্য, অভিনয় এবং সংগীতের ব্যবহার। দর্শক কেবল গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয় না, বরং চরিত্রগুলোর অভ্যন্তরীণ আবেগ ও বেদনার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে। আমরা শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রের কাহিনি, চরিত্র, অভিনয়, সংগীত, চিত্রগ্রহণ, প্রতীকী ব্যবহার এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অপূর্ব এক প্রভাব দেখতে পাই ।
চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট :
১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প মূলত বাণিজ্যিক ছবির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিল। অধিকাংশ চলচ্চিত্রের গল্প গভীরতার অভাব, চরিত্রের জটিলতা কম এবং দর্শককে কেবল বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। সেই সময় শ্রাবণ মেঘের দিন নতুন ধারা তৈরি করে। যদিও ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র যেখানে শিল্পমানের দিক দিয়ে উপরে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ঢাকাই চলচ্চিত্রের শুরুতেই তা শিল্পমানে অনেক উপরে ছিল। ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মোট ২২৪টি ছায়াছবি ঢাকায় তৈরি হয়েছে। দুইটি ছায়াছবি ছিল পরিত্যক্ত। ২২৪টি ছায়াছবির মধ্যে ৫৯টি ছায়াছবি উর্দু ভাষায় নির্মিত, বাকি ১৬৫টি ছায়াছবি বাংলা ভাষায় নির্মিত। আশ্চর্যজনক আরেকটি তথ্য হচ্ছে দেশ স্বাধীন হবার অনেক পরে, ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ প্রযোজনায় আরও ১৮টি ছায়াছবি নির্মিত হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে ঢাকা থেকে উর্দু ছায়াছবি নির্মিত হলেও প্রথম প্রথম পশ্চিম পাকিস্তানে মুক্তির ব্যপারে প্রদর্শকরা আগ্রহী ছিল না। পরবর্তি সময়ে শবনম, নাদীম, ববিতা, শাবানা, আনোয়ার হোসেন, রেহমান প্রমুখের ছায়াছবি আলোচিত হওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি ও লাহোরে ঢাকার ছায়াছবি মুক্তি পেত। সেই ছায়াছবির অনেকগুলোই ব্যবসা সফল; হিট, সুপার হিট থেকে ধরে সিলবার জুবিলি, গোল্ডেন জুবিলি, প্লাটিনাম জুবিলিও হয়েছিল। পাকিস্তানের ইতিহাসে দুইটি ছায়াছবি প্লাটিনাম জুবিলি হয়েছিল, এর মধ্যে একটি ঢাকা থেকে নির্মিত। শহীদ জহির রায়হানের হাতেই পাকিস্তানের প্রথম সম্পূর্ণ রঙ্গিন ছায়াছবি নির্মিত হয়েছিল এবং পাকিস্তান হিসেবে ১৯৭১ সালের শেষ ছায়াছবিটিও ছিল শহীদ জহির রায়হানের।
হুমায়ূন আহমেদ, যিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, চলচ্চিত্রে তাঁর গল্পের চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করেছেন। তিনি চরিত্রের আবেগ, দ্বন্দ্ব এবং মানবিক জটিলতা ফুটিয়ে তুলেছেন। চরিত্রকে শুধু ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখানো হয়নি; বরং মানবসত্তার পূর্ণ মানচিত্র দর্শকের সামনে তুলে ধরেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রটিকে অনন্য এবং কালজয়ী করে তোলে।
বাংলার মাটির গন্ধ, ভাটির সুর, সরল মানুষ আর তাদের ভালোবাসা-এইসব মিলে গঠিত এক মর্মস্পর্শী কাহিনি ‘শ্রাবণ মেঘের দিন। এই চলচ্চিত্রে দেখা যায় ভাটির এক ছোট্ট গ্রামে বসবাসরত গায়ক মতির গল্প। গানই তার জীবন, গানই তার সাধনা। গ্রামের এক খেয়ালি মেয়ে কুসুম মতির প্রেমে পড়ে, কিন্তু মতি বিশ্বাস করে সংসারী মানুষ গানের গভীরতা হারায়। তাই সে গানের জন্যই ত্যাগ করে সংসারের স্বপ্নকে। পুরো চলচ্চিত্রটি মূলত এই দুই আত্মার- গায়ক মতি ও প্রেমিকা কুসুমের ভালোবাসার এক বেদনাময় উপাখ্যান।
গল্প শুরু হয় গ্রামের পুরোনো এক জমিদারের দুই নাতনী শাহানা ও নিতুর আগমনের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ দুই যুগ পর শহর থেকে আসা নাতনীদের দেখে উল্লসিত হয়ে ওঠে বৃদ্ধ জমিদার। যাত্রাপথে তাদের দেখা হয় গায়ক মতির সঙ্গে। মতির গান শুনেই মুগ্ধ হয়ে পড়ে শাহানা। জমিদারবাড়িতে নাতনীদের আগমনে গ্রামে আনন্দের জোয়ার বইয়ে যায়। রাজকন্যাদের আগমনের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। চিকিৎসক শাহানা শীঘ্রই গ্রামের মানুষের হৃদয় জয় করে নেয়, বিশেষ করে এক হিন্দু প্রসূতির প্রসবে সহায়তা করে সে হয়ে ওঠে সকলের প্রিয়। জমিদার বাড়ির প্রতি গ্রামের যে ঘৃণা ছিল, শাহানার মানবিকতায় তা ভালোবাসায় রূপ নেয়।
অন্যদিকে, নিতু ও কুসুমের ছোট বোন পুষ্পের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মতির সঙ্গেও নাতনীদের সম্পর্ক গভীর হয়, বিশেষত শাহানার সঙ্গে। এই ঘনিষ্ঠতাই কুসুমের মনে তোলে ঈর্ষা ও যন্ত্রণার ঝড়। ভালোবাসার আগুনে কুসুম ভস্মীভূত হয়। এমন সময় দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরে কুসুম-পুষ্পের পিতা, সঙ্গে নিয়ে আসে উজানের এক যুবক সুরুজকে, কুসুমের সম্ভাব্য বর হিসেবে।
চলচ্চিত্রে কুসুম ও মতির সম্পর্কের জটিলতা অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। মতি জানে কুসুম তাকে ভালোবাসে, কিন্তু সে নিজেকে গানের সাধক হিসেবে বিবেচনা করে। কুসুম যখন বিয়ের কথা জানাতে আসে, মতির বুক নিশ্চয় কেঁপে ওঠে; কুসুম যখন বলে তারা একসাথে দলে গান করবে, তখনও মতির হৃদয়ে নিশ্চয় ভালোবাসা নড়ে ওঠে। তবুও সে তার শিল্পীসত্তাকে হারানোর ভয়েই প্রেমিক সত্তাকে নির্মমভাবে দমন করে। শিল্পী হিসেবে সে জয়ী হলেও মানুষ হিসেবে পরাজিত। এই পরিণতিই চলচ্চিত্রটিকে দিয়েছে গভীর বাস্তবতা ও সার্থকতা।
ছবিতে আরেকজন পরাজিত মানুষ আছেন- বৃদ্ধ জমিদার। ভালোবাসার টানে, মায়ার জালে জড়িয়ে তিনিও এক অর্থে হারিয়ে যান, কিন্তু সেই হারাতেই যেন তার জয় নিহিত। হুমায়ূন আহমেদ গল্পে এনেছেন মুক্তিযুদ্ধের ইঙ্গিত, এনেছেন অতীতের পাপ ও অনুতাপের ছায়া। জমিদারের অতীত জীবনের কালো অধ্যায় ও নাতনীদের প্রতি তার ভালোবাসা গল্পটিকে দিয়েছে গভীর আবেগের মাত্রা।
এবং নন্দনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
‘শ্রাবণ মেঘের দিন’-এর কিছু দৃশ্য দর্শকের মনে অনির্বচনীয় অনুভূতির জন্ম দেয়। বিশেষ করে সেই দৃশ্যটি- যখন জমিদারের বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে মতি অপমানিত হয়, তাকে সিঁড়ির গোড়ায় বসিয়ে খাওয়ানো হয়, নাতনীদের দেখা করতে দেওয়া হয় না। অপমানবোধে জর্জরিত হয়ে মতি ফিরে আসে পরাণের বাড়ি। পরাণ তাকে সান্ত্বনা দিতে গান ধরতে বলে। চোখে জল নিয়ে মতি গায়- ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’-বৃষ্টিতে ভিজে যায় চারদিক, আকাশও যেন কাঁদে তার সঙ্গে। পাশে দাঁড়িয়ে কুসুম চুপচাপ তাকিয়ে থাকে-তার প্রিয় মানুষটির প্রতি নিঃশব্দ ভালোবাসা চোখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। দৃশ্যটি এক অবর্ণনীয় ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে, যা দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে থাকে। এ চলচ্চিত্রে জমিদার চরিত্রটি দায় ও নির্মমতার সমন্বয়, যা মানবিক জটিলতার দৃষ্টান্ত। হুমায়ূন আহমেদের লেখায় আমরা দেখি-
শৈশবে যে অল্প কিছু মানুষ আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করেছিলেন তিনি ছিলেন তাঁদের একজন। ভাঁটি অঞ্চলের জমিদারবংশের মানুষ। এঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় মানুষ একযোগে এঁদের বসতবাড়ি আক্রমণ করে। এঁরা তখন আত্মরক্ষার জন্যে কিংবা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যে বন্দুক নিয়ে দোতলা থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। পঞ্চাশের মতো মানুষ আহত হয়, মারা যায় ছ’জন। জমিদার বাড়ির সকল পুরুষদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ আসামি হিসেবে সবাইকেই বেঁধে নিয়ে আসে। যক্ষা রোগে আক্রান্ত যে মানুষটির কথা বলছি তিনিও আসামিদেরই একজন। পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন বাড়ি যখন আক্রান্ত হয় তখন আমিই বন্দুক নিয়ে বের হই। আমি একাই গুলি করি, হত্যাকাণ্ডের সমস্ত দায়-দায়িত্ব আমার। শাস্তি হলে আমার শাস্তি হবে। অন্য কারোর নয়।
চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য হলো যখন মতি জমিদার বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়। তাকে ঘরের সিঁড়ির গোড়ায় বসানো হয়, নাতনিদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না। মতি ফিরে এসে পরাণের সঙ্গে তার বেদনা ভাগ করে নেয় এবং গানের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করে-‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’। এই দৃশ্য দর্শকের আবেগকে স্পর্শ করে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সংযোগকে দৃশ্যমান করে। নন্দনতত্ত্বের বিশ্লষণ থেকে আমরা দেখি- ‘শোক’ করুণরসের স্থায়ীভাব। শোকের বিষয় এর আলম্বন বিভাব এবং এ বিষয়ের দর্শন, শ্রবণ কিংবা মননাদি এ রসের উদ্দীপন বিভাব। মানুষের জীবনে। ইউনাশ অথবা অনিষ্টলাভ যখন অবধারিত হয়ে ওঠে তখন চিত্ত স্বাভাবিকভাবে শোকভাবে আক্রান্ত হয়। লৌকিক জীবনের এই শোকই কাব্য-সাহিত্যে করুণরসে পরিণত হয়।
লিদাসের রঘুবংশ কাব্য থেকে একটি উজ্জ্বল উদাহরণের সাহায্যে এ রসের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা যাক- তুমি ছিলে আমার গৃহিণী, সচিব, সখা ও ললিতকলা শিক্ষায় প্রিয় শিষ্যা। নিদারুণ মৃত্যু তোমাকে হরণ করে, আমার কি না হরণ করেছে বলো।
রানী ইন্দুমতীর মৃত্যুতে শোকার্ত রাজা অজ করুণ বিলাপে প্রকাশ করেছেন তাঁর চিত্তদীর্ণ তীব্র শোকানুভূতিকে। এখানে নৃপতির শোকভাবের আলম্বন বিভাব প্রিয়তমা রানি ইন্দুমতী। এবং তার মৃত শরীরদর্শন শোকাভাবের উদ্দীপন বিভাব। মৃত্যুকে ভর্ৎসনা ও বিলাপাদিতে রাজার শারীরিক লক্ষণের প্রকাশ, অনুভাব। এবং মুখের বিষাদময় বিবর্ণতা শোকাশ্রুর আবির্ভাব অনিবার্য বলে এগুলো আচার্য ভরত কথিত সাত্ত্বিক অনুভাব। আর শোকভাবকে পুষ্ট করে তুলেছে আবেগ, স্মৃতি, বিষাদ, চিন্তা প্রভৃতি ব্যভিচারী বা সঞ্চারী ভাবসমূহ। এবং যেহেতু এ সমস্ত উপাদানের সমবায়ে সহৃদয়-হৃদয়ে শোকভাবটি সার্থকভাবে অভিব্যক্ত সেজন্যেই এটি করুণরসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলো বাস্তবসম্মত এবং গভীর। অভিনয়শিল্পীরা চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দর্শককে আবেগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
জাহিদ হাসান (মতি) : চোখের অভিব্যক্তি ও সংলাপের মাধ্যমে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ কষ্ট ফুটিয়েছেন।
শাওন (কুসুম) : সরল, প্রেমময় এবং প্রকৃতির মতো মায়াবী।
স্বাধীন বাংলাদেশে নির্মিত চলচ্চিত্রেও প্রত্যক্ষভাবে নারীকে প্রধান চরিত্র বা নাম ভূমিকায় দেখা যায়। দেশ স্বাধীন বটে, কিন্তু নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বাধীন হতে পারেনি। এধারার অসংখ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রাঙা বই, দাসী, বন্ধু মাজা কন্যা, সতী নারী, দস্যু রানী, মালকা বানু, চাষীর মেয়ে, ধন্যি মেয়ে, কাজলরেখা, গোলাপী এখন ট্রেনে, বিজয়িনী সোনাভান, বুলবুল এ বাগদাদ, হর-এ আরব, বাস্তির মেয়ে, লেডি রংবাজ, কাজের মেয়ে, মেয়েরাও মাস্তান, বিলাত ফেরত মেয়ে, কাজের বেটি রহিমা, ম্যাডাম ফুলি, প্রার্থী আমার নাম, জেলের মেয়ে রোসনি, প্রাণী কেন ডাকাত, খায়রুন সুন্দরী, গার্মেন্টস কন্যা, সবার উপরে মা প্রভৃতি অন্যতম। এরকম নামের চলচ্চিত্রের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ও কঠিন বিষয়। পক্ষান্তরে, বর্ণিত এরূপ পরিসংখ্যানের পাশাপাশি নারী-পুরুষের সম্মিলিত যৌথনামেরও কিছুসংখ্যক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তবে সংখ্যায় তা একক নারী প্রাধান্যের (অন্তত নাম হিসেবে) চলচ্চিত্র থেকে অনেক কম। এসবের মধ্যে রহিম বাদশা ও রূপবান, সুজনসখী, নয়নমণি, নাগ নাগিনী, লাইলী মজনু, শশী পদ্ম, মধু মালতী, নয়নের আলো, রাধাকৃষ্ণ, শিরী করহাদ, রাজলক্ষী শ্রীকান্ত, বসন্তমালতী, মধুমালা প্রভৃতি উল্লেখ্য। তবে, এর বাইরেও বেশ কিছুসংখ্যক চলচ্চিত্র রয়েছে- শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রগুলো আমদের বির্মূত ভাবনায় নিয়ে যায়। এ চলচ্চিত্রের বাকি চরিত্র-
মুক্তি (শাহানা), মাহফুজ আহমেদ (সুরুজ), আনোয়ারা (কুসুমের মা) : সহায়ক চরিত্রের মাধ্যমে গল্পের আবহকে বাস্তবমুখী করেছেন।
গোলাম মোস্তফা (জমিদার) : মানবিক জটিলতা, ভালো ও খারাপের টানাপোড়েন একসাথে ফুটিয়েছেন। চলচ্চিত্রের প্রতিটি চরিত্র জীবন্ত, যা দর্শককে আবেগ ও সহানুভূতির সঙ্গে যুক্ত করে।
চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বৃষ্টির ধারা, মেঘলা আকাশ, নদীর ঢেউ, কাশফুলের মাঠ… প্রতিটি বিষয় এখানে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে নান্দনিক দিক। সূর্যাস্তের দৃশ্য, সাঁকো দিয়ে হাঁটা, নদীর মাঝখানে নৌকা- সবই নন্দনতাত্ত্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
শিল্পে সুন্দর ও অসুন্দরের সহাবস্থান সৌন্দর্যের বোধকে জাগ্রত করে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসুন্দরকেও তা পরিত্যাজ্য করে তোলে, কিন্তু সর্বত্র এই সহজ সমীকরণ প্রযোজ্য নয়। নির্মোহ দৃষ্টি নিয়ে সুন্দর-অসুন্দরকে বিচার করলে তা গ্রহণ-বর্জনের সাময়িক স্তরটি ছাড়িয়ে অনেক ঊর্ধ্বে উঠে যায়, যেখানে সত্য অনুসন্ধানই চূড়ান্ত হয়ে দেখা দেয়। সুন্দর কি, সুন্দর কেন, এ প্রশ্ন শুধু রূপান্বেষণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, সত্যান্বেষণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; কারণ সত্যান্বেষণের মধ্যেই শিল্পের মহৎ উদ্দেশ্যটি নিহিত। শেক্সপিয়ারে প্রায়শই এই সুন্দর অসুন্দরের পাশাপাশি প্রয়োগ লক্ষ করা যায়- ডেসডিমোনা-ওথেলো, মিরান্ডা-ক্যালিবান বা টাইটানিয়া-বটম প্রতিস্থাপনগুলি অর্থবহ এজন্য যে, এর মাধ্যমে নাট্যকার সৌন্দর্যের ভাব ও অভাবকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি গ্রহণ-বর্জনের সোজা রাস্তায় না গিয়ে এদের স্বরূপ সন্ধান করেছেন।
একইভাবে বৃষ্টি প্রেম ও বেদনার প্রতীক, নদী- বিচ্ছেদ ও দূরত্বের ইঙ্গিত, কাশফুল পবিত্র প্রেমের প্রতীক। যা ক্যামেরার ধীর প্যান এবং ক্লোজআপ : চরিত্রের আবেগ ও অভিব্যক্তি ফুটিয়েছে।
আমরা দেখি- শিল্পীর ভেতরটা ভাব, অনুভূতি, কল্পনা এবং এমনি আরও সব উপাদানে ভরে ওঠে। পূর্ণতার টইটম্বুর অবস্থায় তিনি ছটফট করেন মুক্তির জন্যে। সে মুক্তি আসে সৃষ্টির মাধ্যমে। সেই উদ্দীপক ভোর রবীন্দ্রনাথের মনোজগতকে ভরিয়ে তুলেছিল। আর সে প্রাণভরা অনুভূতি ও ভাবের সম্ভার তিনি উজাড় করে দিয়েছেন কবিতায়। হুমায়ূন আহমেদের মধ্যে আমরা এমন এক কবিসত্তাকে দেখতে পাই। তাই চলচ্চিত্রে প্রাকৃতিক দৃশ্যকল্প শুধু পটভূমি নয়; বরং আবেগের সহচর হিসেবে কাজ করছে।
চলচ্চিত্রটির সংগীত একটি অনন্য দিক। বস্তুগত স্বরূপের উপর গুরুত্ব না দিয়ে, অভ্যন্তরীণ উপলব্ধিকে রেখা ও রং-এ পর্যবসিত করা অভিব্যক্তিবাদীদের লক্ষ্য। মানবমনের চরমতম অনুভূতিকে বা অবস্থাকে তাঁরা রূপ দেবার চেষ্টা করেছেন। এ আন্দোলনটি একটি প্রবল শিল্প-আন্দোলন হিসেবে জার্মানিতে ১৯১০ সাল থেকে রূপ পেতে থাকে। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে হুমায়ূন আহমেদ এ অভিব্যক্তিবাদের উপস্থাপন করেছেন সুরের আবহে। উকিল মুন্সীর হারানো গানগুলোকে হুমায়ূন আহমেদ পুনর্জীবিত করেছেন। বারী সিদ্দিকীর কণ্ঠে ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘পুবালি বাতাসে’- সবই দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করেছে। হুমায়ূন আহমেদ গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। “একটা ছিল সোনার কন্যা” গানটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে।
দেখার ক্ষেত্রে মানুষের একটা বিশেষত্ব বা সীমাবদ্ধতা আছে। রং ছাড়া আমরা দেখতে পাই না, বর্ণহীন মহাশূন্যকেও দেখি নীল, বর্ণহীন পানিতে অন্য রঙের প্রতিফলন দেখি। যতক্ষণ রঙের সামান্য আভাস হলেও মিলছে না ততক্ষণ দৃষ্টি তা ভেদ করে এগুতে থাকবে, কেবল রঙের সাক্ষাৎ পেলে তবে থামে। খুব স্বচ্ছ রঙ হলে তার হালকা ঘোলাটে দ্যুতিসহ দৃষ্টি এগোয় প্রকৃত অস্বচ্ছ রং পর্যন্ত। ফলত, দৃশ্যজগত আসলে রঙের আকারের সমাহার। অর্থাৎ রংগুলো নানা মাপের ছাঁদের পরিরেখায় (outline) বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। সেদিক থেকে দৃশ্যজগতের মূলে আছে রং আর রেখা। এ দুয়ের সৃজনশীল হওয়ার ক্ষমতাও অসীম-রঙেরও নেই শেষ, রেখারও। এ দুয়ের সমন্বয়ে দৃশ্যমান বস্তুর কোনোটা বাড়ি কোনোটা গাড়ি, কোনোটা গাছ কোনোটা তার ছায়া, কোনো মেয়ে ছুড়ি তার পাশের জন বুড়ি, এই দিকে সকাল তো ঐদিকে সন্ধ্যা, এখানে শীত তো ওখানে গরম, এটা মেঘ তো ওটা তুলো ইত্যাদি। এমনকি একান্ত ভাবের ঘরের বিষয় আনন্দ বেদনাকেও রংরেখা প্রকাশ করে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। এ রেখা ও রঙের অনন্য বিন্যাস ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রকে অন্যসব চলচ্চিত্র থেকে আলাদা করে রাখবে।
চলচ্চিত্রটি মুক্তির সময় বাংলাদেশের সিনেমা অশ্লীলতা ও নিম্নমানের গল্পে ভরা ছিল। ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সেই সময়ের দর্শকদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে ভালো গল্প, অভিনয় ও সংগীত থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র এখনও প্রাণবন্ত। গ্রামীণ জীবনের চিত্রণ- হাটবাজার, নৌকা বাইচ, কৃষিকাজ, গ্রামীণ গান-দর্শকের কাছে পরিচিত এবং বাস্তবমুখী। চরিত্রের জীবন, সম্পর্ক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট দর্শককে গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করে।
চলচ্চিত্রে প্রতীকী ব্যবহার, রং, আলো, আবহ এবং সংগীত একত্রিত হয়ে একটি নন্দনতাত্ত্বিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। আমাদের দর্শন প্রক্রিয়ায় রং সবচেয়ে আবেগময় ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের পৃথিবীতে আমাদের দৈনন্দিন কর্মধারায় আমরা বর্ণবিভার বিচিত্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাস করি। অনেকে নীল রং পছন্দ করেন, অনেকে লাল, উৎসবের দিনে আমরা রঙিন পোশাকে সুসজ্জিত হই। আমাদের মানসচৈতন্য রঙের প্রতি বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। নীল রং স্নিগ্ধতা ও নির্জনতার প্রতীক হয়েছে, নীল রংকে আমরা শীতল বলেও মনে করি। অন্যপক্ষে লাল রং উষ্ণতার ব্যঞ্জনা আনে। লাল রং-এর মধ্যে অগ্নিদাহনের ইঙ্গিত পাই অথবা হত্যা বা ধ্বংসের। আবার লাল রং সম্ভ্রমের সূচনা করে। আবার দৃষ্টিসীমায় লাল এবং নীল দু-প্রকারের গভীরতারও ব্যঞ্জনা আনে লাল রং নিকটের মনে হয় এবং নীল কিছুটা দূরের। দৃষ্টির স্বভাবে আমরা অনুভব করি নীল রং পিছনে সরে যাচ্ছে এবং লাল রং এগিয়ে আসছে। এমন কিছু প্রতীকী ব্যবহার আছে এ চলচ্চিত্রে। যেমন-
বৃষ্টি: প্রেম ও বেদনার প্রতীক।
নদী: বিচ্ছেদ ও দূরত্বের ইঙ্গিত।
কাশফুল: পবিত্র প্রেমের প্রতীক।
সূর্যাস্ত: নতুন আশা, সম্পর্কের পুনর্জন্মের প্রতীক।
শিল্পের যে লক্ষণ সর্বযুগে ও সর্বকালে শিল্পী ও শিল্পগ্রহীতা স্বীকার করে নিয়েছেন, তা হলো সুন্দর ও সত্যের অন্বেষা, অজানা ও অচেনাকে হৃদয়ে ধারণ করে জগৎকে তা উপহার দেয়া, মানুষের মহত্ত্বকে, জীবনের মহিমাকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিল্পের বিষয়ের দিক আছে, আবার প্রকাশের দিক আছে। যুগের প্রয়োজনে কখনও শিল্প হয়েছে বিষয়নির্ভর, কখনও প্রকাশনির্ভর। কিন্তু শিল্প যেহেতু মানুষের তৈরি, এবং কোনো জীবিকার তাগিদে মানুষ শিল্প সৃষ্টি করে না (এ প্রসঙ্গে আমরা কারু ও চারুশিল্পের তফাৎ নির্ণয় করেছি) তাই শিল্পের উদ্দেশ্য যাই হোক, তা এর সার্বিক চরিত্রের একটি অংশ। এজন্য বিষয় প্রকাশের দ্বন্দ্বে শিল্পের প্রকৃত চরিত্রটি কখনও বদল হয়নি। মানুষ যখন তার ইন্দ্রয়গ্রাহ্য পৃথিবীর বস্তুকে বুঝতে শিখল, বস্তুর আকৃতি, ভর ও উপরিভাগের সাথে তার ইন্দ্রিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করল দেখা গেল এর রূপটি ধারণ করার জন্য সে একপ্রকার তাগিদ অনুভব করছে। শিল্পী সে, যার রূপায়ণে বস্তুর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আবেদনটি খর্ব হয় না। বস্তুর রূপের ধ্যানে একটি সুখবোধের সন্ধান মেলে। যে এই সুখবোধটি গ্রহীতাকে দিতে পারল না, সে শিল্পী হিসেবে সার্থক হলো না। এভাবে শিল্পের জন্ম। বাহ্য পৃথিবীকে চিত্তের পুলক ও ধ্যানের মধ্য দিয়ে অনুভব করে শিল্পবস্তুতে রূপদান করা শিল্পীর প্রাথমিক কাজ; আবার বাহ্যিক পৃথিবীর অতীত ভাবের রাজ্য থেকেও এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হতে পারে। ভাবকে ভাষা দেয়া, রূপ দেয়া শিল্পীর ব্রত। শ্রাবণ মেঘের দিন বাংলা চলচ্চিত্রে শিল্পব্রতী সৃষ্টি ।
চলচ্চিত্রটি ছয়টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে-
১. শ্রেষ্ঠ অভিনেতা: জাহিদ হাসান
২. শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা: গোলাম মোস্তফা
৩. শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক: মকসুদ জামিল মিন্টু
৪. শ্রেষ্ঠ সংগীতশিল্পী: সুবীর নন্দী (একটা ছিল সোনার কন্যা)
৫. শ্রেষ্ঠ গীতিকার: হুমায়ূন আহমেদ (একটা ছিল সোনার কন্যা)
৬. শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক: মফিজুল হক
এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে চলচ্চিত্রটি দর্শক এবং শিল্প উভয় ক্ষেত্রে প্রশংসিত। কাহিনি-চিত্রনাট্য-পরিচালনাসহ এ চলচ্চিত্রে হুমায়ূন আহমেদ যা করেছেন সেটি সত্যজিৎ রায়ের আলোকে বিশ্লেষণ করলে চমৎকার অণুষঙ্গ সৃষ্টি হয়-
ফিল্ম তৈরির কাজটাকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম হলো লেখা, দ্বিতীয় ছবি তোলা, আর তৃতীয় ছবি জোড়া। যে ছবি লোকে পর্দায় দেখবে, সেটাই প্রথমে গল্পের মতো করে গুছিয়ে লেখা হয়। একে বলে চিত্রনাট্য। এই চিত্রনাট্য অনুসরণ করে যখন ছবি তোলা শুরু হয়, তখন সে কাজটার জন্য প্রধান হাতিয়ার হলো ক্যামেরা আর শব্দযন্ত্র। এই কাজটাকেই বলে শুটিং। শুটিং হয়ে গেলে, টুকরো টুকরোভাবে তোলা দৃশ্যগুলো চিত্রনাট্যে যেমন আছে তেমন করে পর পর সাজিয়ে যে জিনিসটা তৈরি হয় সেটাই লোকে পর্দায় দেখে।
উপসংহার:
‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ বাংলা চলচ্চিত্রকে নতুন ধারা ও দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছে। এ সিনেমায় গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং মানুষের সহজ-সরল সম্পর্ককে অত্যন্ত শিল্পসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে কুদ্দুস বয়াতির লোকসংগীত কেবল সংগীতের আনন্দই দেয়নি, বরং কাহিনির আবেগকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে লোকসংগীত মূলধারার চলচ্চিত্রে নতুন করে জনপ্রিয়তা পায়। একই সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সাহিত্যিক দক্ষতা চলচ্চিত্রে প্রয়োগ করে গল্প বলার এক ভিন্ন ধারা সৃষ্টি করেন। অভিনয়শিল্পীদের বাস্তবসম্মত অভিনয় দর্শকের সঙ্গে চরিত্রগুলোর আবেগগত সংযোগকে গভীর করে তোলে। সবচেয়ে বড় কথা, দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক ধাঁচের ছবিতে অভ্যস্ত দর্শকরা এই সিনেমার মাধ্যমে বিকল্প ধারার এবং মানসম্মত গল্প বলার স্বাদ পান। তাই বলা যায়, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ বাংলা চলচ্চিত্রকে দিয়েছে শিল্পমান, সাংস্কৃতিক গভীরতা এবং দর্শকের হৃদয়ে গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য়ের এক স্থায়ী রূপকল্প।
লেখক পরিচিতি:
আরফান হাবিব
সহকারী অধ্যাপক, বাংলা
বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, বান্দরবান সেনানিবাস।
পৈত্রিক নিবাস: কালিয়াইশ, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম। সাহিত্যে পড়াশোনা। শিক্ষক বাবা-মা মনসুর হাবিব ও রানু আরা বেগমের কনিষ্ঠ সন্তান। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: তৃতীয় সংষ্করণ (২০১৫), প্রজাপতি ফুল (২০১৬), রাতের জন্মদিন (২০২০), নিরক্ষরেখার করিডরে (২০২৪) ।
ফোন: ০১৭১৮০০৪৯৫২, Email: arfanhabib007@gmail.com
