
হাঁসগুলো ভেসে গেছে
সাহাব উদ্দিন হিজল
আপাল দিন-মজুর খেটে খায়। আবার নদী ও বিলের পানিতে মাছ মেরেও বিক্রি করে থাকে। গরিব হলেও নিজস্ব জায়গায় ঘর-বাড়ি আছে। এটা তার অহংকারের সাথে বেঁচে থাকার বড়ো অবলম্বন। কিন্তু যমুনার সর্বশেষ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ তার বাড়ির নিকট দিয়ে চলে গেছে। এটা তার জন্য অতল আতঙ্ক। নতুন করে নদী ভাঙা শুরু হলে তার সর্বশেষ অহঙ্কারও নিশ্চয় যমুনা গ্রাস করে ফেলবে। এটা ভাবতে গেলে আপাল যৌবনের চকচকে চোখেও অন্ধকার দেখে থাকে। যমুনা ভেঙে ভেঙে তীরবর্তী লোকদেরকে সর্বস্বান্ত করে ফেলে। সে নিজের চোখে এ বয়সে অনেক দেখেছে। অনেকের বাড়ি বারবার ভেঙে শেষমেষ ওয়াপদার বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। যাদের নিজস্ব কোনো বাড়তি সামর্থ্য না থাকে তারা আর কোথায় যাবে? বেঁচে থাকার জন্য কর্তৃপক্ষকে বলেকয়ে বাঁধের কোলে জীবনাতিপাতের ব্যবস্থা করে থাকে।
ভাঙনের কবলে পড়া তার মামাতো ভাইদের বিমর্ষ অবস্থা নিকট থেকে দেখেছে। কামনা করে, তেমন বিপদের সম্মুখীন যাতে তাকে কখনও না পড়তে হয়। ছোট ছোট মেয়ে দুটিকে নিয়েই তাদের সংসার আবর্তিত। তাদেরকে কেবল হাত-পা বড়ো করে বিয়েথা দেওয়া নয়; তাদেরকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ রূপে গড়ে তুলতে হবে।
তাদের অভাবের সংসার। তাই সাংসারিক ক্ষেত্রে পুটিনা নিজেও আর্থিক অবদান রাখতে তৎপর। এজন্য আপাল তাকে নিরুৎসাহিত করেনি। বলেছে, কাঁথা সেলাই করে বা বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করেও অর্থ উপার্জন করা যাবে। বউ তার যুক্তিকে অগ্রাহ্য করেনি বরং উৎসাহের সাথে স্বামীর পরামর্শ গ্রহণ করেছে।
পুটিনা রান্না-খাওয়া শেষে নিয়মিত সুই-সুতায় নকশিকাঁথা সেলাই করে থাকে। বিভিন্ন ডিজাইনের নকশি করা সে মায়ের নিকট থেকে শিখেছিল খেয়ালের বসে। এখন অভাবের সংসারে তা থেকেই কিছুটা রোজগারের অবলম্বন হলো। অভাবের সংসারে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে তো চলে না। যাদের জমাজমি আছে তাদের বিষয় আলাদা। ওদের সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্ম হয়েছে। ওদের জমিতে বারো মাস বিভিন্ন রকমের ফসল ফলাতে পারে। তাও আবার নিজেদের কাজ করতে হয় না। কামলা খাটিয়ে ফসল ফলায় আবার খন্দ সারে। ওসব ভেবে সময় নষ্ট করার চাইতে নিজের গঠনমূলক ও কষ্টসহিষ্ণু কর্ম চালিয়ে যাওয়াই উত্তম। সংসারের আর্থিক ক্ষেত্রে তাকেও অবদান রাখতে হবে। তাতে নিঃসন্দেহে সোনার সংসার গড়ে উঠবে। কে না চায় তাদের সংসারটি স্বচ্ছল হোক?
তাদের আদুরী ও সুন্দরী পড়ালেখায় উত্তম। তাদের মফিজ মাস্টার আপালকে বলেছেন, তোমার মেয়েদের মাথা খুব ভালো, পড়া আয়ত্ব করতে কোনো বেগ পেতে হয় না। তুমি কষ্ট করে ওদের পড়ালেখা চালিয়ে যাও, দেখবে ওরা তোমার অন্ধকার সংসার আলোকিত করবে। ফলে আপাল ভাবে অন্যদের চাইতে একটু আলাদা করে। তারা টাকা পয়সা কামাই করে যমুনা-তীর ছেড়ে অনেক দূরে জায়গা কিনে নিরাপদ স্থানে বাড়ি করবে। আর সে ভাবে, তার মেয়ে দুটিকে পড়ালেখা শিখিয়ে বড়ো করবে। স্কুলের পড়া শেষ হলে কলেজে পড়বে, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। এভাবে তারা বাংলাদেশের পড়া শেষ করে সরকারি অফিসের অফিসার হবে। যত ঝড়ঝাপটা আসুক ওদের পড়া অব্যাহত থাকবে। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে এখন থেকেই রোজগার করে কিছু কিছু টাকা ডান করবে সন্তান দুটির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য। তাছাড়া মফিজ মাস্টার বলেছেন, পড়ালেখায় ট্যালেন্ট হলে টাকার অভাবে পড়ালেখায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। স্কুল-কলেজ থেকে তারা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। আবার কখনও কখনও অনেক দাতা সংস্থা তাদেরকে অর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে। আপাল মফিজ মাস্টারের নিকট বসে পুচ করে করে এসব জানতে পেরেছে। আর মফিজ মাস্টার তাকে প্ররোচিত করেছে যাতে আপাল মেয়ে দুটির পড়ালেখায় উৎসাহী হয়।
আদুরী চতুর্থ এবং সুন্দরী তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ওদের পড়া আয়ত্ত করতে কোনোই বেগ পেতে হয় না। ক্লাসে শিক্ষক পড়া বুঝিয়ে দিলে হুবহু মনে রাখতে পারে। বাড়িতে বাবা অথবা মা একবার পড়ে দিলেই উত্তর বলে দিতে পারে। অঙ্ক একবার দেখিয়ে দিলে নিজেরাই মিলিয়ে দিতে পারে। অন্যের ছেলে-মেয়ের ন্যায় প্রাইভেট মাস্টারের নিকট দৌড়াতে হয় না।
তাদের খুলির আমতলায় টুলের ওপর বসে আপাল ছিপে সুতা ও বড়শি লাগাচ্ছিল। প্রকারান্তরে সে আদুরী ও সুন্দরীর কথা ভাবছিল। ওদেরকে সে অন্যান্যদের ন্যায় দামি পোশাক, জুতা কিনে দিতে পারে না। মেয়েরা এ বয়সেই এটা বুঝতে শিখেছে তার বাবার অত সামর্থ্য নেই, তাই তারা বাড়তি বায়না কখনও ধরে না। তাদের বুদ্ধির বিষয় বিবেচনায় আসতে তার চোখজোড়া আদ্র হয়ে ওঠে; ওরা সত্যিই পড়ালেখা করে অনেক বড়ো হবে। সে দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পায়, তাদের দুকন্যা সরকারি অফিসের বড়ো চেয়ার অলংকৃত করে আছে। তার আর স্ত্রীর শরীরে কেতাদুরস্ত পোশাক। তাদের ইটের বাড়ি-ঘর ঝকঝকে চকচকে। মেয়েদের পড়ালেখার বদৌলতে…।
ফুলপরির বদৌলতে সত্যি সত্যি তার দু-রাজকন্যা নিকটে এসে মৃদু কোরাস শব্দ তুলে তাকে চমকে তোলে, আব্বা।
আপালের স্বপ্ন ভঙ্গ হলে হাতের ছিপ মাটিতে রেখে উঠে দাঁড়িয়ে দু-কন্যাকে দু-হাতে আগলে কোলের নিকট নিয়ে সোহাগের সুরে বলে, হামার আম্মারা আচ্ছ?
হ আব্বা, সাপ্তাহিক পরীক্ষায় হামরা দুইজনই ফাস্ট হইচি। সুন্দরী বলে।
হ আব্বা ও ঠিকি কইছে, আমাদের ক্লাসে আমি ফাস্ট হয়ে এটা কলম পাইছি, আর ওদের ক্লাসে আদুরী ফাস্ট হয়েও কলম পাইছে।
এতক্ষণ সুন্দরীর সেটা খেয়াল ছিল না, আপার মুখে শোনার সাথে সাথে ব্যাগ থেকে সুদর্শন জেলপেন বের করে বাবার সামনে ধরে বলে, আব্বা হামার পুরস্কারের কলম।
আদুরীও তারটি বের করে বাবার সামনে ধরে। এতে আপাল খুশি হয়ে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে ডাকে, ওগো হামার রাজকন্যাগারে মাও শিগগির দ্যাখো ওরা আজ পড়ার জন্য পুরস্কার পাইছে!
পুটিনা তাড়াতাড়ি ভেতর থেকে খুলিতে পা দিয়েই বলে, হাচা মায়েরা, কই পুরস্কার?
দুবোন ছুটে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে কলম হাতে দিয়ে বলে, এই যে…।
এত সুন্দর কলম মেয়েদের জন্য তারা কখনও কিনে দিতে পারেনি। আনন্দে পুটিনার চোখ অজান্তেই আদ্র হয়ে ওঠে। সুন্দরী তা লক্ষ করে বলে, মা তুমি কান্দিচ্ছ ক্যানো?
পুটিনা আচলে তা মুছে ফেলে বলে, অ কিছু না। বেশি খুশি পালি ওংক্যা হয় মা।
তাই কও।
আদুরী ততক্ষণে বাবার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মুখের প্রতি তাকায়। আপাল তা লক্ষ করে বলে, আম্মা কিছু কোব্যা?
হ আব্বা, কয়দিন আগে মুসার মা চাচির হাঁসের ছাওগুনা গানি গানি আছিল, আজ দেখি ম্যালা বড়া অয়া গ্যাছে। হামাগারে এ বিলে হাঁসের ছাও তাড়াতাড়ি বড় হয় আব্বা? মুসা কইল অগারে হাঁস বেইচ্যা অর মাও অক হাই স্কুলে ভর্তি কইর্যা দিবি। বলে বাবার মুখের প্রতি তাকিয়ে থাকে।
অয় তো, তা আদুরী মা আর কিছু কোবা? খুব আদুরে কণ্ঠে আপাল বলে। এতে আদুরীর মনের জোর পড়ালেখার ফলাফলের সাথে আরো একধাপ যোগ হয়। বলে, আব্বা হামরা দুই বুন বিলে হাঁস পালব্যার চাই, পড়ালেখার কুনুই ক্ষতি হবিন্যা, হামাগারে লেখাপড়া আর জামাকাপড়ের খরচের ট্যাকা ওটিথন আসবি। কী কও আব্বা?
পুটিনা এতক্ষণ মেয়ে আর মেয়ের বাবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। পুটিনার ভেতর এতক্ষণ কঠিন প্রতিক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তেমনটি লক্ষ করা গেল না। মনে হলো আদুরী অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয় উপস্থাপন করেছে। অতীতে কখনও এ বিষয়ে আলোকপাত হয়নি।
তার বাড়ির পশ্চিম পাশে অদূরে ছোট্ট একটি বিল আছে। সে ছোটকালে দেখেছে, বিলে অনেক শাপলা ফুল ফুটত। এখন আর তেমন নজরে পড়ে না। মাছও আগের মতো পাওয়া যায় না। তবে এ বিলে তার স্ত্রী পুটিনা বর্ষাকালে হাঁসগুলো ছেড়ে দিয়ে বড়ো করতে পারে। এখানে হাঁসের জন্য যথেষ্ট আদার মিলে থাকে। এজন্য অনেকে এ বিলকে শামুকের বিল বলে থাকে। কিন্তু সেটাকে আপাল বউ-ঝির বিল বানাতে রাজি নয়। সে পুটিনাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্যের বউয়ের মতো তাকে শাড়ির আঁচল উড়িয়ে হাঁসের পিছু পিছু তারুণ্য দেখাতে হবে না। সেই থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত পুটিনা অন্যসব বউঝির ন্যায় বিলে আদার খেতে হাঁস ছেড়ে দেয়নি। দুচারটি করে পাললেও বাড়িতে রেখেই লালন পালন করে থাকে।
আপাল সরাসরি উত্তর না দিয়ে বউকে বলে, ওগো শুনিচ্ছ আমাগারে রাজকন্যারা কী কোচ্ছে?
শুনল্যাম।
তুমি কী কও?
পুটিনা স্বামীর গদগদে ভাব দেখে বুঝতে পারল আজ সে মেয়েদের ইচ্ছাকে প্রত্যাখান করতে পারবে না। তাই শ্রোতের অনুকূলে বৈঠা ফেলে বলে, তুমি যেটা ভালো মনে করো হামিও সেটাই চাই।মেয়েদের দিকে তাকিয়ে আপাল বলে, তোমাগারে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হবি না তো? মনে রাখবে পড়াশোনা সবার আগে।
আদুরী বলে, কোনোই সমস্যা হবে না আব্বা। আমাদের পড়তে তো অল্প সময় লাগে। হাঁসের তদারকির জন্য তো আর সবসময় থাকতি হবি ন্যা। তাছাড়া শামুকের বিল তো প্রায় আমাদের বাড়ির সাথেই। এ বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিল আয়তনে বেড়েছে। একটু এগিয়ে গিয়ে মাঝেমধ্যে হাঁসগুলো দেখে আসতে হবে।
মায়ের নিকট স্থগিত করা বিষয়টি কন্যাদের বুদ্ধিবলে পুনরায় সচল হলো। মেয়েদের পড়ালেখা যেন অর্থের অভাবে কখনও থেমে না যায়, সে পথ প্রশস্ত করাই আপালের মূল উদ্দেশ্য। সে নিজেও টেলেন্ট ছাত্র ছিল। কিন্তু নদী ভাঙনের দরুন অভাবের ছোবলে পাঠশালা পেরোনোর অব্যবহিত পরেই বাবার সাথে পয়সা রোজগারে মাঠে নামতে হয়েছিল। সে দুঃখ এখনও সে বুকে চেপে বয়ে বেড়াচ্ছে। মেয়েদের বেলায় তার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।
বিলের আদার খেয়ে হাঁসের বাচ্চাগুলো অল্পদিনেই বড়ো হয়ে উঠতে লাগল। ওরা যখন ২০/২১টি দলবেঁধে বিলের কিনার দিয়ে আদার খেয়ে ঘুরে বেড়ায় তখন তাকিয়ে তাকিয়ে সৌন্দর্য দেখতে ইচ্ছে করে। কিন্তু যখন বেশি পানিতে চলে যায় তখন আদুরী সুন্দরীর ছোট্ট হৃদয়ের হার্ডবিট বেড়ে যায়—ভেসে হারিয়ে যাবে না তো? এমন অবস্থায় পড়লে ‘আয় তই তই’ ডেকে ডেকে কাছে নিয়ে আসে। এভাবেই ওদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হচ্ছে। কখনও কখনও কারো কারো হাঁস অতি বৃষ্টি, বাতাসের বিপর্যয় এবং স্রোতের প্রভাবে পথ হারিয়ে অনেক দূরে চলে যায়, আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন অবস্থা বুঝতে পেরে বিপর্যয় অতিক্রম করতে সে সময় হাঁসগুলো বাড়িতেই আটকে রেখে খাবার দিতে হয়।
নিম্নচাপের প্রভাবে গত দু-তিন দিন যাবৎ মুষলধারে বৃষ্টি এবং মৃদু ঝড়োহাওয়া বয়ে যাচ্ছে। উপরন্তু উজান থেকে নেমে আসা পানিতে যমুনা টইটুম্বর হয়ে উঠেছে। মাঠঘাট খালবিল পানিতে ভরে গেছে। আপালের বাড়ির ডাঙর হাঁসগুলো এ কদিন বিলের পানিতে ছেড়ে দেয়নি। এখন স্রোতে ভেসে গেলে অনেক টাকা লোকশান হয়ে যাবে। তাই চোখে চোখে রেখে বাড়িতেই আদার খাওয়াচ্ছে।
বিকেলে কিছুক্ষণ দম দিয়ে সন্ধ্যা থেকে অবিরাম বৃষ্টি নেমেই চলেছে। তাই সবাই হাত-পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাকা ছাড়া গত্যন্তর পাচ্ছে না। অবশ্য যারা মাছ সন্ধানী তারা ছাতা-মাথাল দিয়ে মাথা ঢেকে তোড়েজাল, ধিয়াল-দারকি, ট্যাটা নিয়ে বেরিয়েছে। আপাল মাথাল মাথায় দিয়ে বাঁধের কোলে ধেয়াল পাততে বের হয়েছে। ওতে মাঝারি ধরনের মাছ আটকা পড়তে পারে।
অতি বৃষ্টির প্রভাবে আজ ওয়াপদার বাঁধে লোক সমাগম কম হলেও বাঁধের ভেতর পাশে ঘরদোরে পানি ওঠা লোকেরা বাঁধের ওপর আশ্রয় নেওয়ায় ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। তাদের গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগিও সঙ্কীর্ণ স্থানে সহাবস্থান করছে।
হঠাৎ উত্তর দিকে বাঁধেল ওপর থেকে সম্মিলিত কোলাহল ভেসে আসছিল। একজন এদিকে ছুটে আসতে আসতে চিৎকার দিচ্ছে, বাঁধ ভেঙে গেছে…বাঁধ ভেঙে গেছে…।
আপালের বাড়ি থেকে বেশি উজানে নয়; বাঁধভাঙা পানি তুমুল বেগে তাদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসছে। তাদের ঘর-বাড়ি নিশ্চয় আস্ত থাকবে না। সে বৃষ্টির ফোটা গায়েপড়া ছাগলের মতো দৌড় দিল বাড়ির দিকে।
বাঁধের উপর থেকে বাড়ির দিকে তাকিয়ে থ হয়ে গেল। বাড়ির ভেতর দিয়ে ঘোলা-স্রোত বয়ে যাচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে পুটিনা; কন্যা দুটিকে দু-বাহুতে আগলে আছে। আদুরী বাবাকে সচেতন করতে ডাকে, আব্বা।
ওদের দিকে সে তাকালে সুন্দরী কাদোকাদো কণ্ঠে বলে, হাঁসগুলো ভেসে গেছে!
সে দু-কন্যা ও স্ত্রীকে দু-বাহুতে আগলে ধরে বলে, তোমরা ঠিক আছ তো, যাক সব ভেসে যাক!
