অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুলাই ১৭, ২০২৪
২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জুলাই ১৭, ২০২৪
২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মরিয়ম বেলারূশী -
আটঘরিয়ার ইতিহাস : স্থানীয় ইতিহাসের অনবদ্য দলিল

C:\Users\USER\Pictures\Camera Roll\133708015_1902376749900112_7493897346776848714_n.jpg

ড. আশরাফ পিন্টু ও যাহিদ সুবহানের আটঘরিয়ার ইতিহাস গ্রন্থটি হাতে পেয়েছি অনেক আগেই। দীর্ঘ সময় ধরে পড়েছি। ২৮৮ পাতার বইটিতে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার আদ্যপান্ত তুলে আনার চেষ্টা করেছেন লেখকদ্বয়। পুরোপুরিই ক্ষেত্র সমীক্ষার ফসল গ্রন্থটি। জন্মসূত্রে আমিও কৃষিনির্ভর ক্ষুদ্র এ উপজেলার মানুষ। তাই গ্রন্থটি পড়ায় বিশেষ তাড়না কাজ করেছে। লেখকদ্বয় আমার পরিচিত। এই গ্রন্থ একটি আকরগ্রন্থও বটে। গ্রন্থের কাজ করার সময় লেখকদ্বয়কে বিশেষ আগ্রহ নিয়ে, আন্তরিকতা ও সততার সাথে এই উপজেলার মাঠ-ঘাট, পাড়া-মহল্লায় তথ্য সংগ্রহ করতে ছুটে বেড়াতে দেখেছি। কাজটি খুব যে সহজ ছিল তা নয়। কারণ আমার উপজেলা নিয়ে এর আগে এমন দালিলিক কাজ কেউ করেনি। লেখকদ্বয়কে কঠোর পরিশ্রম করে একদম শেকড় থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। গ্রন্থটি পাবনা জেলার উপজেলাগুলো নিয়ে প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ।

পাবনা জেলার এক ক্ষুদ্র উপজেলার নাম আটঘরিয়া। জেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পাবনা-চাটমোহর মহাসড়কের পাশে এই উপজেলার অবস্থান। উত্তর পার্শ্বে রয়েছে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা। দক্ষিণ পার্শ্বে পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী উপজেলা। পূর্ব দিকে বেষ্টন করে আছে সাঁথিয়া উপজেলা। পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা। আটঘরিয়া উপজেলার আয়তন ১৮৬.১৫ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমানে ৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে উপজেলাটি গঠিত। চন্দ্রাবতী, ইছামতি, রত্নাই, চিকনাই আটঘরিয়ার প্রধান নদী। দিঘির বিল, সানকিভাঙা, গজারিয়া, দিঘির বিল, বুরামারা, সুতারবিল, কলমিগাড়ি, মধুগারি, চত্রা, জলকা, গুবিদ, গারুল প্রভৃতি নাম ধারণ করে এ উপজেলায় রয়েছে কয়েকটি বিল বা জলাধার। বেরুয়ান জামে মসজিদ, খানবাড়ি মসজিদ, মৃধার মসজিদ, গোড়রী মন্দির, চাঁদভার জমিদার চন্দ্রনাথ সেনের বাড়ি, দেবোত্তর জমিদার বাড়ি, খিদিরপুর রানি ভবানীর কাচারিবাড়িসহ নানা ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির সমৃদ্ধ অঞ্চল আটঘরিয়া। হাজার বছরের ঐতিহ্যের সোনালি দিনের সাক্ষ্য কার্পাস তুলা, ধান-পাট-শিম-পেঁয়াজ-রসুন-মরিচ ও বিচিত্র সব্জি এ অঞ্চলের প্রধান ফসল। বাঁশশিল্প, লোহা শিল্প, বাঁচামারার শাড়ি, চাচকিয়ার লুঙ্গি, হাট-বাজার, তৈলশিল্প, গামছা, তাঁতশিল্প একানকার ঐতিহ্য। কৈবর্ত বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, কৃষক বিদ্রোহ, সিপাহী বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলনের গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের সাক্ষী আর জৈন-বৌদ্ধ-হিন্দু-বৈষ্ণব-ইসলাম-খ্রিস্টান নানা ধর্মের মানুষের চিন্তাধারা পুণ্যভূমি আটঘরিয়া। গুপ্ত-পাল-সেন-পাঠান-মোগল-ব্রিটিশ বেনিয়া আর খান সেনাদের শাসন-দুঃশাসনের স্মৃতি বহন করছে এ জনপদ। ১৭৭২ সালে বঙ্গদেশে জেলা ব্যবস্থার উদ্ভব হয়, ১৯২৮ সালের ১৬ অক্টোবর আটঘরিয়া পাবনা জেলার অধীন হয়। ইংরেজ আমলে চলনবিল অঞ্চলের ডাকাতদের অভয়ারণ্য এ অঞ্চলের জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আটঘরিয়াতে একটি পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণ করা হয়। পরে মাতঙ্গিনী সিংহ নামক এক নারী থানার জন্য ১১ বিঘা জমি দান করেন। তাঁর দানকৃত ঐ জমির উপর ১৯৩৪ সালে আটঘরিয়া পুলিশ স্টেশন বা থানার ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৯৬২ সালে সেখানে গড়ে ওঠে প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র। ১৯৮৩ সালে প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন করে আটঘরিয়া থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। ঐ বছর ১৪ সেপ্টেম্বর আটঘরিয়া উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। আটঘরিয়া উপজেলার অফিসসমূহ দেবোত্তরে অবস্থিত। প্রভৃতি তথ্য উঠে এসেছে গ্রন্থটিতে।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়ার রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ইতিহাসের পাতার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে সেগুলো সাক্ষী দেবে হাজার বছর। মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়ায় সংঘটিত কিছু ঘটনা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী এলাকার সংসদ সদস্য এডভোকেট আমিন উদ্দিনকে পাকিস্তানি সেনারা পাবনা বিসিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২৯ মার্চ মালিগাছায় পাকসেনাদের সাথে সম্মুখযুদ্ধে জেলার প্রথম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শহীদ হন আটঘরিয়া থানার দারোগা আব্দুল জলিল মিয়া। যার কবর রয়েছে আটঘরিয়ার প্রাণকেন্দ্র দেবোত্তর বাজারের সন্নিকটে মসজিদের পাশেই। খিদিরপুর আদিবাসী পল্লিতে পাকিস্তানি বাহিনী ও এদেশের রাজাকারদের পাশবিক নির্যাতন, ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের ঘটনা শুনলে এখনো গা শিহরিয়ে ওঠে। গোড়রী, অভিরামপুর, সঞ্জয়পুর, বাঁচামারা, রতিপুরে সে সময় গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগ করা হয়। ২২ অক্টোবর বেরুয়ান যুদ্ধ, ৬ নভেম্বর বংশীপাড়া যুদ্ধ, ১১ ডিসেম্বর বেলদহ যুদ্ধ, ১২ ডিসেম্বর আটঘরিয়া থানা আক্রমণ এবং ১৩ ডিসেম্বর আটঘরিয়া হানাদারমুক্ত করার ঘটনাগুলো সোনালি ইতিহাস হিসেবে স্থান পেয়েছে।

‘আটঘরিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থটি সুচিন্তিতভাবে কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। ২৮৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থটিকে মোট ৭ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। লেখকদ্বয়ের লেখা আটঘরিয়া ইতিহাস-গবেষণা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ঘটনা, শিল্প-সাহিত্য, লোকজ ঐতিহ্য, স্থান নামকরণ স্থান পেয়েছে ধারাবাহকভাবে। অধ্যায়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দান করেছে। বইটির আরও ভালো লাগার বিষয় হলো এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে এই অঞ্চলের স্বর্ণসন্তানদের জীবনী ও তাঁদের কর্ম। যে কর্মের মাধ্যমে সারা দেশে তারা আটঘরিয়াকে পরিচিত করেছেন, সমৃদ্ধ করেছেন কিংবা গর্বিত করেছেন।

গ্রন্থটির সূচিবিন্যাসের পর বেশ কিছু ছবি সংযোজন করা হয়েছে। ছবিগুলো আটঘরিয়ার অতীত ও বর্তমানের নানা ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্মারক। এই অংশের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চিত্রে : ইতিহাস-ঐতিহ্যে আটঘরিয়া’। সূচিপত্রের সাথে আটঘরিয়া উপজেলার একটি ভৌগোলিক মানচিত্র, বিভিন্ন স্থান, বিভিন্ন এলাকার বধ্যভূমি ও গণকবর এর ছবি, বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধের ছবি এবং এ অঞ্চল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার ছবি সন্নিবেশিত করা হয়েছে। (আটঘরিয়া উপজেলার বেরুয়ান গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল্লাহ ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে রণাঙ্গন থেকে তার স্ত্রীকে চিঠি লেখেন। পাঠকের সুবিধার্থে প্রথমে চিঠির অনুলিপি ও পরে পুরো চিঠি সংযোজিত হলো। আটঘরিয়া উপজেলার বেরুয়ান গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সড়াবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম শহিদুল্লাহর মুক্তিযুদ্ধকালীন সমরক্ষেত্র থেকে তাঁর প্রিয়তম স্ত্রী ফাতেমা খাতুনকে লেখা একটি চিঠির ছবি যুক্ত করা হয়েছে। খাঁ বাড়ি মসজিদ কিংবা বেরুয়ান মসজিদের মতো পুরাকীর্তি, শ্রীপুরের চত্রার বিল, চন্দ্রনাথ সেন কিংবা গোপাল হাজীর জমিদার বাড়ি, দীঘাপতিয়ার জমিদারের স্মৃতিবিজগিত খিদিরপুরের কাচাড়িবাড়ি কিংবা মিয়া পাড়ার দিঘির বিল, সড়াবাড়িয়ার তালগাছ-জামগাছ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি উছে এসেছে এ অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের কথা। কার্পাস তুলার কথা, কৃষি আর কৃষকের কথা। উঠে এসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়ার মানুষের নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা ও বীরত্বের কথা। পুরো বইটিতে পাঠক আটঘরিয়ার বিশদ বিবরণ পাবেন খুব সহজে।

বইটিতে প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে, আটঘরিয়ার উপজেলার সাধারণ বিবরণ। আলোচনায় উঠে এসেছে আটঘরিয়া থানা গঠন, আটঘরিয়ার নামকরণ, এক নজরে আটঘরিয়ার ৫টি ইউনিয়ন— একদন্ত ইউনিয়ন, চাঁদভা ইউনিয়ন, দেবোত্তর ইউনিয়ন, মাজপাড়া ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ। রয়েছে আটঘরিয়ার শিল্প, নদ-নদী, খাল-বিল, আটঘরিয়ার পত্র-পত্রিকা, আটঘরিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আটঘরিয়ার বর্তমান কবি-সাহিত্যিক, আটঘরিয়ার বর্তমান সংবাদকর্মী প্রভৃতি বিষয়। দ্বিতীয় অধ্যায়ে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সমাজ-সংস্কৃতি শিরোনামে রয়েছে আটঘরিয়ার ঐতিহাসিক বিবরণ, ঐতিহ্যবাহী গ্রামাঞ্চল, আটঘরিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা, জনজীবন, আটঘরিয়ার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা। তৃতীয় অধ্যায়ে আটঘরিয়ার লোকসংস্কৃতি শিরোনামে রয়েছে ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, মন্ত্র, লোকসঙ্গীত, আটঘরিয়ার কয়েকজন লোককবির গান, লোককথা, লোকোৎসব, লোকচিকিৎসা, লোকবাহন নিয়ে আলোচনা। চতুর্থ অধ্যায়ে আটঘরিয়ার গ্রাম-মহল্লার নামকরণের উৎস শিরোনামে রয়েছে সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, নামকরণ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা।

পঞ্চম অধ্যায়ে মুক্তিযুদ্ধে আটঘরিয়া শিরোনামে রয়েছে পাবনা জেলার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ ও আটঘরিয়া, লক্ষ্মীপুর গণহত্যা, লক্ষ্মীপুর গণহত্যায় শহীদদের পরিচয়, বেরুয়ান যুদ্ধ, বংশীপাড়া যুদ্ধ, আটঘরিয়া থানা আক্রমণ ও হানাদারমুক্ত আটঘরিয়া, খিদিরপুর আদিবাসী পল্লীতে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট ও নারী নির্যাতন, বিভিন্ন গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট, আটঘরিয়ার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয়, আটঘরিয়ার কয়েকজন উল্লেখযোগ্য মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়, আটঘরিয়ার তিন বীরঙ্গনা, আটঘরিয়ার স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, গণকবর ও বধ্যভূমি বিষয়ে তথ্য। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও জনসাধারণের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন দলিলে উল্লেখিত তথ্য তার এই লেখা। পাবনার প্রতিরোধ যুদ্ধে আটঘরিয়াবাসী বিশেষ করে পাবনা জেলার প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তৎকালীন আটঘরিয়া থানার দারোগা আ. জলিলের কথা উঠে এসেছে তার লেখায়। এছাড়া আটঘরিয়ার টাইগার খ্যাত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনসহ তাঁর সহযোদ্ধাদের কীর্তির কথা উঠে এসেছে তার লেখায়। উঠে এসেছে আটঘরিয়ার লক্ষীপুরের হিন্দুপাড়ায় ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার কথা। ২৮ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে এদিন হত্যা করা হয়েছিল নির্মমভাবে। যাদের ২৬ জনই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। উঠে এসেছে শহীদ বুদ্ধিজীবী লোককবি এমএ গফুরের কথা। এছাড়া আটঘরিয়া সংঘটিত সবচেয়ে বড় সম্মুখযুদ্ধ যা এই এলাকার বংশীপাড়ায় সংঘটিত হয়েছিল তাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা এই যুদ্ধে শাহাদতবরণ করেছিলেন এবং ক্যাপ্টেন তাহেরসহ ১৩ জন পাকসেনা এখানে নিহত হয়েছিলো। বেরুয়ান যুদ্ধ, বেলদহ যুদ্ধ, আটঘরিয়া থানা আক্রমন, আটঘরিয়া শত্রুমুক্ত করা, গোড়রী ও খিদিরপুরে আদিবাসী পল্লিতে নির্যাতন-অগ্নিসংযোগের কথা, গ্রামের পর গ্রাম অগ্নিসংযোগের কথাও এই লেখায় স্থান পেয়েছে। এছাড়া গণকবর, বধ্যভূমি, স্মৃতিসৌধ, বীরাঙ্গনা নারী, আটঘরিয়ার স্বাধীনতাবিরোধীদের কথা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংক্ষিপ্ত জীবনীও এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে আটঘরিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচিতি শিরোনামে রয়েছে এই অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। সপ্তম অধ্যায়ে আটঘরিয়ার ব্যক্তিত্ব শিরোনামে রয়েছে জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর-চেয়ারম্যান/মেয়র, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবীদের জীবনী ও জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা। এবং সবশেষে আছে গ্রন্থপঞ্জি, আটঘরিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের নামের তালিকা, সংকলন ইত্যাদি।

‘আটঘরিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থটির মতো ড. আশরাফ পিন্টু পাবনা জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলা নিয়ে একই রকম কাজ করলেও এটিই পাবনা জেলায় উপজেলাভিত্তিক প্রথম গ্রন্থ। ‘আটঘরিয়ার ইতিহাস’ ইতিহাস গ্রন্থটির লেখক ড. আশরাফ পিন্টু পেশায় একজন অধ্যাপক। পাবনা জেলার বিভিন্ন লোকজ ও ইতিহাস গবেষণায় তিনি বিশেষ সুনাম কুড়িয়েছেন। তাঁর প্রকাশিত গবেষণাগ্রন্থের সংখ্যা ৪০-এর অধিক। এই গ্রন্থের আরেক লেখক তরুণ কবি-কথাসাহিত্যিক, ছোটকাগজ সপ্তর্ষি সম্পাদক যাহিদ সুবহানও এ পথে হেঁটে চলেছেন দুর্দান্ত গতিতে। মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় তাঁর সাফল্য চোখে পড়ার মতো।

২০২১ সালে দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গতিধারা থেকে প্রকাশিত ‘আটঘরিয়ার ইতিহাস’ গ্রন্থটি স্থানীয় ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল, যা আমরা ড. আশরাফ পিন্টু ও যাহিদ সুবহানের মাধ্যমে পেয়েছি। এই ইতিহাস পাঠ করে আমরা আটঘরিয়ার আদিকাল থেকে এ পর্যন্ত ইতিহাসের একটি সারসংক্ষেপ অবগত হতে পারি খুব সহজেই। বইটির সর্বোচ্চ পাঠ-সাফল্য কামনা করছি।

মরিয়ম বেলারূশী : কবি ও লেখক, আটঘরিয়া, পাবনা।

 

Print Friendly, PDF & Email

Read Previous

ঈর্ষা

Read Next

শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণন, ৬ষ্ঠ সংখ্যা (জুন-২০২৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *