অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুলাই ১৭, ২০২৪
২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জুলাই ১৭, ২০২৪
২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অনুবাদ : আকিব শিকদার -
লুইস এলিজাবেথ গ্লিক-এর দুটি কবিতা

কবি লুইস এলিজাবেথ গ্লিক ১৯৪২ সালের ২২ এপ্রিল নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ড্যানিয়েল গ্লিক, আর মা বিয়েট্রিস গ্লিক।

তাঁর কবিতা অন্ত-কথন ধর্মী। মনেহয় যেন তিনি সরাসরি পাঠকের মুখোমুখি বসে পাঠকের সাথে কথা বলছেন। তাঁর কবিতায় আছে আত্ম-জিজ্ঞাসা, মানসিক সংঘাত, মৃত্যু, আকাঙ্ক্ষা ও প্রকৃতিপ্রেম। তিনি দুঃখ ও একাকিত্বকে প্রকাশ করেছেন খোলামেলাভাবে। গ্রিক ও রোমান মিথোলজি আছে তাঁর কবিতায়।

লুইস গ্লিক সমসাময়িক কবিদের মধ্যে অন্যতম শুদ্ধ ও সফল গীতিকবি। তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘ফার্টসবর্ন’ বের হয় ১৯৬৮-তে। ১৯৯৩-তে তিনি পুলিৎজার পুরস্কার পান। ২০০৩ সালে তিনি ১২তম সম্মানিত মার্কিন পোয়েট লরেট মনোনীত হন। কবিতার জন্য নোবেল পান ২০২০ সালে। তার কবিতাকে সরল ও সৌন্দর্যময় সুস্পষ্ট কাব্যিক কণ্ঠস্বর বলে আখ্যা দিয়েছে নোবেল কমিটি।

 

স্মৃতি

একটা অসুখ আমাকে ধরেছিল

কী কারণে তা কেউ বলতে পারেনি।

যদিও দিনে দিনে জটিলতর হতে থাকলো রোগটা।

কষ্টসাধ্য হয়ে পড়লো স্বাভাবিক চলা-ফেরার অভিনয়, যে ভাবে

বোঝাব সবাইকে ভালো আছি, আনন্দময় যাপিত জীবন…

পরবর্তী মুহূর্তগুলো এমন হলো যে, আমি শুধু

তাদের সংশ্রব চাইতাম যারা অবিকল আমারই মতো;

খুব খেটেখুটে তাদের খুঁজে বের করতাম,

সহজসাধ্য ছিল না কাজটা।

তারা সবাই ছিল আড়ালে, অচেনার আঁচল টেনে।

অবশেষে কিছু সহচর পেয়েছিলাম খুঁজে

যাদের সঙ্গে সময়ে-সময়ে আমি হাঁটতাম।

নদীর তীর ঘেঁষে একেকজনের সাথে, অকপটে আবার

কথোপকথন শুরু হলো, যা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম…

প্রায়ই আমরা থাকতাম নির্বাক। যা কিছু বলি না কেন

সব কথা ফেলে নদীটার কথা বলতে বেশি ভালো লাগত…

 

নদীটির দুই কূলে লম্বা জলছোঁয়া তৃণলতা কেঁপে ওঠে

প্রশান্তিময় তরঙ্গের মতো শরতের সমীরণে।

আর মনে হতো এই পরিবেশটা আমার আশৈশব চেনা।

যদিও আমার ছেলেবেলার স্মৃতিতে কোনো নদী ছিল না,

শুধু গৃহ আর আঙ্গিনা।

হয়তো তাই প্রত্যাবর্তন করছিলাম আমি সেই সময়ে

যে সময় আমার শৈশবের পূর্ববর্তী,

হতে পারে বিস্মৃতির অতলে ঢাকা

এই সেই নদী যার কথা আমার স্মরণে আসে।

 

তৃষ্ণার্ত পাখি

পাখিটি আসে খুব প্রভাতে।

ডাকে এমন করুণ স্বরে, যেন তার

আপনজনের মৃত্যু হয়েছে।

অথচ কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই

তার সঙ্গী পাখিটি ফিরে আসে হন্তদন্ত হয়ে।

আমার হৃদয় একটি তৃষ্ণার্ত পাখি, যে প্রতিনিয়ত

ডাকছে প্রিয়ার নাম।

অথচ আমার প্রিয়া কোনোদিন

রাখে না তার পা আমার আঙিনায়।

 

Print Friendly, PDF & Email

Read Previous

বোধনের আগেই নিরঞ্জন

Read Next

হিন্দি চলচ্চিত্র ও অবিবাহিতা মায়েদের মাতৃত্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *