অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুলাই ১৭, ২০২৪
২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জুলাই ১৭, ২০২৪
২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইলিয়াস ফারুকী -
অরুণিমা

মানুষের অনেক ধরনের শখের কথা শোনা যায়। এই যেমন সহজ-সরল শখ থেকে শুরু করে বিচিত্র ও অদ্ভুত সব শখ থাকে। এমনকি অনেক সময় বিভিন্ন রকম নিষ্ঠুরতাকেও মানুষ শখ হিসেবে বেছে নেয়। কিন্তু অরুণিমাকে যে শখে পেয়েছে তা আশ্চর্য রকমের বিচিত্র ও অবিশ্বাস্য ধরনের। প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবক ছেলেদের নামের ফর্দ করা। বোধহয় ভুল বললাম। বরং বলা ভালো যে, ফর্দ করা তার অনেকটা নেশার মতো প্রিয় শখ। সে এখন মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। এসএসসি পাস করে হঠাৎ করেই এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত তার এ শখের শুরু। সময়ের ব্যবধানে মাত্র দেড় বছর অথচ তার ফর্দের মধ্যে এখনই ষোলোজনের নাম ঠাঁই করে নিয়েছে। ফর্দটা সে যে ডায়েরিতে লিখে তা সে খুব যত্নে সংরক্ষণ করে। যেন এটা তার যক্ষের ধন। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন সে চুপচাপ নিঃশব্দে তার গোপন স্থান থেকে ডায়েরিটা বের করে এবং চলতি নামের নিচে তার টুকিটাকি সবকিছু লিখে রাখে। এই লিখে রাখার সময় তার আনন্দটা সে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে, চোখে আনন্দের ঝিলিক আর মুখের হাসিটা যেন শেষ রাতের সুখতারার মতো সর্বক্ষণ মিটমিট করে জ্বলে।

উপরের কথাগুলো তখনকার যখন প্রেম হতো চিঠি লেখালেখি কিংবা স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়ার পথে। মেয়ে হয়তো সামনে হাঁটছে এবং ছেলে পেছনে পেছনে। হঠাৎই হয়তো ছেলেটা মেয়েটার পাশ কাটিয়ে দ্রুত এগিয়ে গেল। যাওয়ার সময় কেউ কারও দিকে না তাকিয়ে খুব দ্রুত কিছু কথা বলল। সামনে এগিয়ে গিয়ে উত্তরের অপেক্ষায় তার হাঁটার দ্রুততা কমিয়ে দিল। এক সময় আবার মেয়েটির কাছাকাছি আসতেই দ্রুত মেয়েটি ঝট করে তার প্রশ্নের উত্তর দিল। এভাবেই চলতো কথোপকথন। কিংবা হয়তো একটা নির্জন স্থানে হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটা তার হাত থেকে একটা দলা পাকানো কাগজ ফেলে দিত। যেন অপ্রয়োজনীয় একটি কাগজ। ঠিক পিছনে থাকা মেয়েটি একটু এগিয়ে এসে ইতস্তত ভাব নিয়ে তার আশপাশ লক্ষ রেখে টুপ করে কাগজটি কুড়িয়ে নিল। এক সময় প্রেমের ঘটনা প্রবাহে প্রেম গভীরতা পেত। তখন হয়তো মেয়েটি তার আবেগ এবং আকুতি জানাবার জন্য সবার চোখ এড়িয়ে টিফিনের টাকা বাঁচাত। সেই টাকায় রেশমি সুতা কিনে একটি সাদা রুমালে কুশি কাঁটার কাজে লিখত। ‘গরম কালে আম পাকে, জাম পাকে, কাঁঠাল পাকে আর/ তোমার কাছে সঁপে দিলাম জীবন আমার’। কিংবা ‘যাও পাখি বলো তারে, সে যেন ভোলে না মোরে’ ইত্যাদি। এই ঘটনাটাও ঠিক সেই সময়ের। তখন একজন একাধিক প্রেম করবে তা ছিল কল্পনার বাইরে। তবুও সে সময়ই ফর্দের ঘটনা ঘটল। আর সেই শখ হলো সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত ছোট মফস্বল শহরের ষোড়শীর।

অরুণিমা রেবা খুবই সুন্দরভাবে এবং কারও সন্দেহের উদ্রেক না করেই সে তার শখ পূরণ করে যাচ্ছিল। যদিও এসএসসি পাস করা পর্যন্ত তার নিজের সম্পর্কে এমন কোন সচেতনতা মোটেই ছিল না। কিন্তু কলেজে ভর্তি হওয়ার পর হঠাৎ এক ঘটনায় তার ভিতর এই অদ্ভুত শখের উদ্ভব ঘটে।

কলেজে যাওয়ার পথে অথবা কলেজ থেকে আসার পথে সে লক্ষ করে প্রায়ই একটি ছেলে তাকে দূর থেকে অনুসরণ করে। ছেলেটা কিছু একটা বলতে চায় অথচ সাহস করতে পারছে না। প্রথম প্রথম অরুণিমা খুবই লজ্জা পেত এবং দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ত। কিন্তু এক সময় বিষয়টা তার গা-সওয়া হয়ে যায়। সে যখন বুঝতে পারে এই ছেলের দ্বারা তার কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই তখনই সে এক অদ্ভুত কাণ্ড করে বসে। একদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যায়। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে ছেলেটা এমনভাবে অন্যদিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে যেন ওর প্রতি কোনো খেয়াল নেই। একইভাবে দুই-তিনবার একই ঘটনা ঘটিয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় যে ছেলেটি তাকেই অনুসরণ করছে। তাকে কী করতে হবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। সে হাঁটার গতি কমিয়ে দেয়। ছেলেটা কাছে আসতেই হঠাৎই দাঁড়িয়ে যায়। তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, এই যে মিস্টার দয়া করে এবার একটু আমার দিকে ফিরবেন? আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাই। অহেতুক আর কোনো ভান করার প্রয়োজন নেই। আমি জানি আপনি প্রতিদিন আমাকেই অনুসরণ করেন। এখন দয়া করে বলবেন কি, আমাকে কী কারণে অনুসরণ করেন। কিছু বলার থাকলে বলুন, না হলে আজকের পর আর কোনোদিন অনুসরণ করবেন না।

ঘটনার আকস্মিকতায় ছেলেটি পুরোপুরি বোকা বনে যায়। অনেকক্ষণ স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। কোনো কথাই বলতে পারে না। তখনই অরুণিমা আবারও বলে— দেখুন, কিছু যদি বলার থাকে এখনই বলুন। এরপর আর সুযোগ পাবেন না।

এবার তোতলাতে শুরু করে ছেলেটি, ‘জ্বি মানে, এই ইয়ে মানে বলতে চাচ্ছিলাম, কী বলব ঠিক বুঝতে পারছি না।’

অরুণিমা কিছুটা উত্তেজিত হয়ে ওঠে— ‘কী বলবেন যখন বুঝতেই পারছেন না! তখন আর যেন আপনাকে আমার পথের আশপাশেও না দেখি। আশা করি কথাটা মনে রাখবেন।’ বলেই চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ায়। তখনই ছেলেটি বলে, ‘মানে… বলতে চাচ্ছিলাম আপনাকে আমার খুব ভালো লাগে।’

এতটুকু কথা বলতেই ছেলেটির মনে হলো তার পুরো শরীর থেকে যেন কেঁপে কেঁপে ঘাম ঝরছে।

‘তো, তো আমি এখন কী করতে পারি?’ ক্রমেই সাহসী হয়ে উঠে অরুণিমা, আবারও বলে, ‘ভালো কথা, আমাকে আপনার ভালো লাগে। তো আমি কী করতে পারি?’ এমন উত্তর বোধহয় ছেলেটি আশা করেনি। অনেকটাই যেন বজ্রাহতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর খুব ধীরে ধীরে নিম্নস্বরে বলে, ‘বুঝতে চেষ্টা করুন, আমি কী বোঝাতে চাচ্ছি, প্লিইইজ।’

অনুনয় ঝরে পড়ে তার কণ্ঠে। যেমনি হঠাৎ করে ছেলেটিকে পাকড়াও করেছিল অরুণিমা, তেমনি হঠাৎ করে সে ঘুরে দাঁড়ায়। ঘুরে দাঁড়িয়েই ছেলেটির উদ্দেশ্যে বলে, ‘আজ চার তারিখ, আগামী নয় তারিখে ঠিক এই জায়গায় থাকবেন। তার আগে যেন আমি আপনাকে আমার চৌহদ্দিতে না দেখি। আর এই সময়ের মধ্যে যদি আপনাকে দেখা যায় তাহলে যা ঘটবে তার দায় দায়িত্ব আপনার। আমাকে দোষ দিতে পারবেন না।’ বলেই হনহন করে নিজের গন্তব্যে হাঁটতে শুরু করে। এইভাবেই শুরু হয় অরুণিমার প্রথম প্রেমকাহিনী।

এইভাবে সময় কেটে যেতে থাকে। তার কল্পনায় রাতের ভরা জ্যোৎস্নায় ঝাঁকে ঝাঁকে জোনাক জ্বলে। তার মনে হয় যেন আকাশ তার উপর তারার ঝরনা ঝরাচ্ছে। আর দিনের বেলা কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি। কিংবা শরৎ অথবা মাঘের হিমেল হাওয়ায় এক অদ্ভুত ভালোলাগায় জীবনের সময় কাটতে থাকে অরুণিমার। ফর্দ করার আশ্চর্য শখ নিয়ে খেলতে থাকে সে। অন্য মেয়েরা যখন অবসরে গল্প করে তাদের গোপন প্রেমের কিংবা কার প্রেমিক বোকা বা চালাক। কেমন তাদের পোশাকের রুচি এসব নিয়ে। কিংবা হয়তো মহিলা মিলনায়তনে গপ্পো মেরে দাবা বা ক্যারাম নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অরুণিমা তখন পরিকল্পনা করে বর্তমানটাকে কীভাবে খসাবে আর নতুনটাকে কীভাবে বাগে আনবে। মন দিয়ে নিষ্ঠুর এই খেলার ছক আঁকে সে। নিশ্চিত পরিকল্পনা তৈরির পর তার আনন্দের অন্ত থাকে না। তবে সে তার খেলার ঘুঁটি ধরার ব্যাপারে সব সময়ে একটি বিষয় খুব যত্ন সহকারে লক্ষ রাখে। সে যেন কোনোভাবেই কোনো চালাক শিকারের খপ্পরে না পড়ে।

এই ভাবেই সবার অলক্ষে একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে। খেলা চলতে থাকে নীরবে নিঃশব্দে। অরুণিমার ডায়েরিতে ক্রমানুসারে একের পর এক সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রতিবার নিজের বিজয় আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তার আত্মবিশ্বাস উপরে উঠতে থাকে। ক্রমেই তার বিশ্বাস হতে থাকে এ খেলায়ও সুন্দর একটা শিল্প রয়েছে। যে শিল্পে প্রভাতের রোদহীন স্বচ্ছ আলো যেমন রয়েছে আবার আলোহীন অন্ধকার কালোও রয়েছে। লুডু, দাবা, ক্যারাম কিংবা বাড়ির উঠানে কুতকুত খেলায় কোনো রোমাঞ্চ নেই। আছে মেয়েলি চুলাচুলি আর কথায় কথায় আড়ি দেওয়া ভাব। ও সব এখন তার ভালো লাগে না। তার মন ভরাতে পারে না। সে তো ডুবে আছে মজার এক খেলায় যেখানে প্রতিক্ষণ রোমাঞ্চে ভরা। মাঝে মাঝে নিজের মনে মনেই ভাবে সে। হায়, কী বোকা মেয়েগুলো! রোমাঞ্চ ছেড়ে যতসব চুলোচুলিতে মত্ত থাকে। করুণা হয় ওদের প্রতি।

কিন্তু প্রতিটা খেলার একটা বিরতি থাকে এবং শেষও থাকে। এই বিচিত্র ও রোমাঞ্চকর খেলা খেলতে খেলতে শোল নাম্বারে এসে অরুণিমার হাত-পা কাঁপল, বুকের গভীরে কম্পন সৃষ্টি হলো। কলেজের যাওয়ার পথে কিংবা বিকেলে নদীর পাড়ে হাওয়া খেতে এসে পাশাপাশি হাঁটার সময় পা কাঁপতে লাগল। নিজেকে বুঝতে তার নিজেরই কষ্ট হতে লাগল। তার তো এমন হওয়ার কথা না! এ খেলায় সে তো একজন পাকা খেলোয়াড়। তাহলে তার এ কীসের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। প্রায়ই সে নিজের মাঝেই হারিয়ে যাচ্ছে। বুঝতে আর বাকি থাকল না তার বর্তমান অবস্থান। এখান থেকে নিষ্কৃতি : এ অসম্ভব ব্যাপার! তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নিজেকেই নিজে বোঝাল, ‘চিরকাল কি কেউ চ্যাম্পিয়ন থাকে! না, থাকে না। এক সময়ে হারতেই হয়। এখন হয়তো তার কুপোকাৎ হওয়ার সময়।’ একজন অথৈ জলরাশিতে পড়া মানুষ যেমন সাঁতরাতে সাঁতরাতে যখন কোনো কূল না পায়, নিজেকে ছেড়ে দেয় স্রোতের অনুকূলে। সেও তাই করল। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাল এবং নিজেকে ভাসতে দিল স্রোতের সাথে। কাল ও স্রোতের বহমানতার সাথে।

তার সমস্ত খেলা বন্ধ হয়ে গেল। খেলা পরিণত হলো মেলায়। ছোট মফস্বল শহরে খোলামেলা চলাফেরায় কথাটা এ-কান থেকে ও-কান এবং শহরের এ-মাথা থেকে ও-মাথায় ঘুরে ফিরতে লাগল। নিজের নিয়ন্ত্রণ সে এতটাই হারাল যে অরুণিমাকে রথিন, মানে শোল নম্বর যখন যেখানে ডাকে সেখানেই সে হাজির থাকে। তার কোনো সময় বা স্থানের প্রভেদ থাকল না। স্বপ্নগুলো কখনো স্বচ্ছ হলো কখনো ঘোলা হলো কখনোবা রং ছড়াতে থাকল।

শিকারি নিজেই শিকার হয়ে যখন পুরো কুপোকাৎ। তখনই হঠাৎ একদিন সকালে দেখা গেল শহরের সেরা জুটিকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। স্রেফ উধাও হয়ে গেছে যেন! সারাদিন তাদেরকে কোথাও দেখা গেল না। কিন্তু পরেরদিন সকালেই রথিনকে যথারীতি কলেজে ও তার দৈনন্দিন কাজে-কর্মে ঠিকই দেখা গেল। অথচ অরুণিমাকে কোথাও দেখা গেল না।

মেয়ে দু’দিন থেকে ঘরে ফিরছে না দেখে সায়দুল্লাহ সাহেব থানায় মামলা করলেন। সন্দেহজনক হিসেবে রথিনসহ আরও কয়েকজন পুরোনো বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো। শহরে মাইকিং হলো। বিভিন্ন টিভি স্ক্রলে দেখানো হলো। এমনকি পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। এভাবে অনেক সময় কেটে গেল। একসময় ধীরে ধীরে শহরের মানুষগুলো তাদের নিত্যনতুন সমস্যার মাঝে হারিয়ে অন্যান্য অনেক ঘটনার মতো এই ঘটনাও বেমালুম ভুলে গেল।

ঘটনার প্রায় সাত বছর পর, সায়দুল্লাহ সাহেব তখন অবসর নিয়েছেন। ছেলেরা সংসার চালায়ে। ছোট মেয়ের ভালো ঘরেই বিয়ে দিয়েছেন তিনি। যেন সুখী একজন মানুষ কিন্তু তবুও তার মনের অতলান্তে সব সময় কোথায় যেন একরকম খচখচ করে। তিনি একা একা থাকতে পারেন না। একা থাকলেই মনে হয় অরুণিমা তাকে ডাকছে। চিৎকার করে বলছে— বাবা, আমাকে বাঁচাও, আমাকে উদ্ধার করো।

ছোট শহর। অবসরের পর শরীরটাকে সচল রাখার জন্য তিনি প্রতিদিন পুরো শহরে একবার পায়ে হেঁটে চক্কর দেন। সেদিনও তিনি তাই করেছিলেন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এসে হঠাৎ তার দৃষ্টি পড়ল এক ভিখারিণীর প্রতি। শহরের প্রধান মোড়ে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছে। বাম হাত নেই। চুলগুলো উসকোখুসকো। দুই পায়ের দগদগে ঘায়ে মাছি ভনভন করছে। ডান হাতে প্রায় দেড় বছরের এক শিশুকে সামলাচ্ছে। শিশুটি মায়ের শুকনো স্তন চুষে তার খিদে নিবারণের আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কী মনে করে ধীর পায়ে তিনি ভিখারিণীর দিকে এগিয়ে গেলেন। সামনে যেতেই তার সারা শরীর কাঁপতে শুরু করল। নিজেকে সামলাতে গিয়ে অনেকক্ষণ তিনি তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। দু’চোখে অশ্রু টলটল করতে লাগল। ভিখারিণীর চোখেও অশ্রু। হঠাৎ সে বলে উঠল, ‘আব্বা’! আবার পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘ও আব্বা, কাল থিকা কিছুই খাই নাই। কিছু খামু, দশটা টাকা দিবা?’

সায়দুল্লাহ সাহেব তার হাতে কোন রকমে দশ টাকা তুলে দিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে তাকে অতিক্রম করলেন। তার বাম হাত তখন কপালের উপর এমনভাবে তুলে রাখলেন যে তিনি তার চোখকে রোদ থেকে আড়াল করছেন।

 

Print Friendly, PDF & Email
ইলিয়াস ফারুকী

Read Previous

ঈর্ষা

Read Next

শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল, অনুপ্রাণন, ৬ষ্ঠ সংখ্যা (জুন-২০২৪)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *