
সময়ের আলখাল্লা
জিয়াউল হক সরকার
ফাগুনের পাতায় সূর্যের দৃষ্টি যেন স্বপ্নের বেয়োনেট
সময়ের আলখাল্লা যেন খুলে পড়ে গেছে মহাকালে
যেভাবে জীবনের পায়ে পায়ে যাচ্ছি তোমার দিকে
স্বপ্নেরা চুমু খেয়ে মেখে নিয়েছে আলোর জৌলুস
তবুও অ্যাকোয়ারিয়ামের মতো থেমে আছি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনে।
হয়তো তাই—
দুপুরের নিঃসঙ্গ ঘুঘুটার বিষণ্নতাই আমাদের সুখ
যেভাবে কোনো কোনো মৃত্যু হয়তো এঁকে দেয় প্রগতির পথ
কোনো কোনো ক্ষত হয়তো একদমই ক্ষতিকর কিছু নয়
যেভাবে মাটির বসন জড়িয়ে হেসে হেসে যাই
প্রিয়তমার ফুলশয্যায়।
তবে কি—
সময়ের নিকেশই হবে আমাদের কালান্তর!
পিপীলিকাদের শৃংঙ্খলার কথা কি সৃজিত হেতু?
এসব গতি-প্রকৃতিই আমাদের শেখায় সুন্দরের গান
তবে কেন, কোন মোহে ভুলে যাই নতুনের আহ্বান!
কবি পরিচিতি :
জিয়াউল হক সরকার। কবিতাযাপন আর ছোটগল্পে বসবাস। জন্ম ১৯৮৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর; কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ঈশ্বর বরুয়া গ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল কোর্সে অধ্যয়নরত।
সাহিত্য, সমাজ-সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, রাজনীতি ও গণমাধ্যম বিষয়ে পাঠ ও চর্চায় তাঁর আগ্রহ। এসব বিষয়ে ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখি করছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, ম্যাগাজিন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো ‘বৃষ্টিরা একা আসে না’ (কাব্যগ্রন্থ, অনুপ্রাণন প্রকাশন- ২০২৩), ‘হিমশীতল মুখ’(গল্পগ্রন্থ, পরিবার পাবলিকেশন্স- ২০২৩), ‘পলকে পতন ঘটে’ (কাব্যগ্রন্থ, পরিবার পাবলিকেশন্স- ২০২০), ‘মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের উপস্থাপন’ (গবেষণাগ্রন্থ, সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ২০১৭)। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন যুক্ত ছিলেন দীর্ঘায়ু আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-সহ বির্তকচর্চা ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক নানা কাজের সঙ্গে। এছাড়া চলচ্চিত্র-বিষয়ক পত্রিকা ‘ম্যাজিক লণ্ঠন’-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
