
পরবর্তী মৃত্যুর দুয়ারে কড়া নাড়ার আগে
মুহসীন মোসাদ্দেক
সন্ধ্যা থেকেই বৃষ্টি ঝরছে। অঝোরে। এখন মধ্যরাত। বৃষ্টির তোড়ে রাস্তার উপরে ভেসে বেড়াচ্ছে নগরের জঞ্জাল। নগরের রাস্তাগুলো রূপ নিয়েছে নদীতে। ড্রেনের পানি আর বৃষ্টির পানি মিলেমিশে গড়া নগরের সড়কনদী। আপনার বাসার সামনের নদীটাতে একটু পর পর দুই-একটা প্রাইভেটকার অল্প গতিতে পেরিয়ে গেলে সত্যিকার উত্তাল নদীর মতোই ঢেউ খেলা করছে। দুই-একটা রিকশাও যাচ্ছে মাঝে মাঝে। হুডতোলা পলিমোড়ানো সে রিকশাগুলো কারের মতো ঢেউয়ের খেলা দেখাতে পারছে না, বরং ঢেউয়ের ঠেলায় প্যাডেল আটকে যাচ্ছে, রিকশা সামনে এগুবার পরিবর্তে কিছুটা পিছিয়েও যাচ্ছে মনে হলো আপনার।
এতরাতে রিকশা করে বাসায় ফিরছে যে মানুষগুলো তারা নিশ্চয় আশা নিয়ে এতক্ষণ অপেক্ষায় ছিল যে, বৃষ্টিটা আর একটু থামলেই ফেরার পথে নামবে। বৃষ্টি থামেনি। নগরের রাস্তা বরং নদী হয়ে গেল। এ নোংরা পানি মেশানো নদীতে পা ফেলে হেঁটে যাওয়া মানে পায়ে চুলকানির রোগ নিয়ে আরেক বিপত্তিতে পড়া। লোকগুলো হয়তো বাধ্য হয়ে তাই তিন বা চারগুণ ভাড়া দিয়ে বাসায় ফিরছে। কারও কারও জন্য হয়তো এত দাম দিয়ে এ ফেরার ব্যাপারটা অসহায়ত্বের, বেদনার। তাদের মুখের ওপর নিশ্চয় অসহায়ত্বমাখা বেদনার ছাপ লেগে আছে। আপনার ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাইভেটকার আর রিকশার আসা-যাওয়া দেখতে দেখতে আপনি এইসব ভাবছেন। আরও ভাবছেন, কেন আপনি এসব ভাবছেন? আপনার কি আর কোনো কাজ নেই? কার মুখে কীসের ছাপ পড়ে আছে, তা দিয়ে আপনার কী?
তেমন কিছু না, আবার অনেক কিছুও। বৃষ্টির সাথে আপনারও বেদনার সম্পর্ক। বৃষ্টির ভেতরে অজানা-অচেনা-অদেখা কারও বেদনা টের পেলে আপনার সে বেদনাও উসকে ওঠে। উসকে ওঠা সে বেদনা লালন করতে আপনার ভালো না লাগলেও আপনি কখনো এড়িয়ে যান না। বৃষ্টির ফোঁটা পড়া দেখতে দেখতে কিংবা বৃষ্টির জমে থাকা থই থই পানির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বেদনা-যাপন আপনাকে আপনার স্মৃতির গুদামে নিয়ে আছড়ে ফেলে।
ক্লাশ ফাইভে-পড়া শৈশব আপনার। সন্ধ্যা থেকে এমন অঝোর বৃষ্টি। রাত গভীর হতে চললেও থামাথামির নাম নেই। বাবা ফেরেননি এখনও। মফস্বলের এ এলাকায় মেঘ গুড়গুড় ডাক উঠলেই বিদ্যুৎ পালায়। আর রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ার মতো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা যখন, তখন ভোরের আগে বিদ্যুৎ আসার সম্ভাবনাই নেই। এ হিসাব দশ বছর বয়সি আপনারও জানা। বর্তমান নগর জীবনের মতো তখনকার দিনে জেনারেটর বা আইপিএসের অপশন ছিল না। মফস্বলে তো নয়ই। হারিকেনের আলোয় ঘরের ভেতর থাকত ভুতুড়ে আমেজ। হারিকেনের সে মৃদু আলোয় আপনাকে আর আপনার এক বছরের ছোট ভাইকে পড়তে বসতে হয়েছিল সন্ধ্যা থেকেই। বাইরে যত দুর্যোগই হোক, মায়ের শাসন-উপেক্ষা করে পড়তে বসা ছাড়া উপায় থাকত না। অথচ আপনার মন বসত না, মৃদু আলোয় চোখও আসলে বসত না পড়ায়। ইচ্ছে করত বৃষ্টি দেখতে, বৃষ্টির পানি ভেসে যাওয়া দেখতে, বৃষ্টির পানি হাতের মুঠোয় নিয়ে ভাইয়ের মুখে ছিটিয়ে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে। তারপর খুনসুটিতে মেতে হাসতে হাসতে লুটোপুটি করে নেমে যেতে ইচ্ছে করত কাদাপানির উঠোনে। কিন্তু ইচ্ছের ভেতরেই আপনার ইচ্ছের মৃত্যু হতো। মায়ের সামনে তবু ইচ্ছে জাগত, বাবা থাকলে ইচ্ছেরা জাগারই সাহস পেত না!
রাত বাড়তে থাকলেও বাবার ফেরার খবর নেই। থামার নাম নেই বৃষ্টিরও। বৃষ্টিতে কোথাও নিশ্চয় আটকা পড়েছেন বাবা। আপনার মায়ের মুখে চিন্তার ছাপ মৃদু আলোতেও জ্বলজ্বল করছে। মায়ের উদাস মনের সুযোগ নিলেন আপনারা দুই ভাই। হারিকেনের আলোয় আর টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দে বইয়ের পড়ায় মন বসে না বলে বায়না করলেন একটু খেলা করার। বৃষ্টির রাতে আর কী খেলবেন? হারিকেনের আলোয় ঘরের মেঝেতে বসে খেলনাপাতিগুলো নিয়ে যা খেলা যায় তাই। মা না করলেন না। আপনারাও আর মুহূর্ত বিলম্ব না করে বসে গেলেন খেলনাপাতির বাজার বসিয়ে। এই বাজার বসানোর উদ্ধৃতিটা বাবার। বৃষ্টির ঝক্কি সামলিয়ে বাসায় ফিরেই হুট করে যদি দেখেন এই অবস্থা, সাথে সাথেই বাবা হুঁংকার দিয়ে বলে উঠবেন, ‘পড়া নাই শুনা নাই, নবাবেরা খেলনাপাতির বাজার নিয়ে বসেছেন!’ হুঁংকার শুনে সাথে সাথে আপনারা বাজার গুটিয়ে নিবেন নীরবে। বাবার হুঁংকার আপনাদের কাছে বজ্রপাতের শব্দের চেয়ে ভয়ংকর। বাবা লোকটা কেন সবসময় এত বদমেজাজে থাকেন, তা আপনারা বোঝেন না। বোঝার চেষ্টাও অবশ্য তেমন করেন না, সে বয়সও আপনাদের হয়নি।
আপনার সাথে আপনার ছোট ভাইয়ের গলায় গলায় পিরিত, আবার দা-কুমড়া সম্পর্কও। সবসময় একসাথে থাকেন, লেগে থাকেন আঠার মতো। অথচ ঝগড়া-বিবাদেই কেটে যায় দিনের বেশিরভাগটা। এক বছরের ছোট হলেও পরিবারে আপনার ছোট ভাইয়ের কদর বেশি। মাত্রাছাড়া জেদি হবার কারণে সে এই বাড়তি কদরটা পায়। সে চায়, তার প্রায় সবকিছুই সে পায়। আপনি চান, তার অনেক কিছুই আপনি পান না। আবার আপনি চেয়ে পান, তা আপনার ছোটভাইও পায়। অথচ, আপনার ছোট ভাই চেয়ে পায়, তার অনেক কিছুই সে একাই পায়, আপনার তাতে ভাগ থাকে না। উদাহরণ দিয়ে একটু বুঝিয়ে বলি, ধরুন আপনি একটি খেলনার বায়না করলেন। আপনার বাবা সেটা কেবল আপনাকে কিনে দিতে পারবেন না, আপনার ছোট ভাইকেও কিনে দিতে হবে। অর্থাৎ একই খেলনা দুইটি কিনতে হবে আপনার বাবাকে। এরকম অনেক খেলনাই আপনাদের দুইটি করে আছে। একসাথে গলাগলি করে চললেও সম্পর্কটা দা-কুমড়ার মতো হওয়ায় আপনারা ভাগাভাগি করে ভোগ করতে পছন্দ করেন না। কিন্তু আপনার ছোট ভাই একটি খেলনার বায়না করল, আর সে জানাল সেটা কেবল তাকেই কিনে দিতে হবে, তার বড় ভাইকে সে নিতে দিবে না, তবে আপনার বাবা-মার সাধ্য নেই দ্বিতীয়টি কিনে আপনার হাতে তুলে দেয়! এমনকি আপনার ছোট ভাইকে যেটা কিনে দেয়া হলো সেটার ভাগ আপনি কখনো পাবেন না, হাতও দিতে পারবেন না। এমন অনেক খেলনা আপনাদের আছে যা কেবল আপনার ভাইয়ের একক সম্পত্তি। এরকম একক সম্পত্তি আপনার একটাও নেই!
আপনার মা এই বৈষম্যে প্রলেপ দিতে গিয়ে আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মেনে নে বাবা। মেনে নিলে তুই ছোট হয়ে যাবি না। তুই বড়, বড়ই থাকবি।’ মা হয়তো নিজের ব্যর্থতা টের পেয়ে তা আড়াল করতে চান, কিন্তু আপনার শিশুমনে যে ঝড় বইতে শুরু করে তা তিনি টের পান না।
যাইহোক, খেলনাপাতিগুলো নিয়ে আপন মনে খেলতে শুরু করলেন আপনারা। হারিকেনের মৃদু আলো কিংবা টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ আপনাদের খেলায় কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না। মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। খেলনা নিয়ে খেলার ফাঁকে বারান্দা থেকে ঘুরে আসেন, উঠোন ভেসে যাচ্ছে বৃষ্টির পানিতে, জমে থাকা পানি কতটুকু বাড়ল তা পর্যবেক্ষণ করেন। ব্যাঙ ডাকে চারপাশে। আপনারাও একযোগে ব্যাঙেদের ভেঙিয়ে তাদের মতো করে ডাকেন আর হাসিতে লুটোপুটি করেন। বাবা ফিরতে পারেননি এখনও। মা উদাস বসে। আপনাদের তাই অবাধ স্বাধীনতা।
রাত আরেকটু বাড়লে হাঁসফাস করতে করতে ভিজে জুবুথুবু হয়ে বাবা ফিরলেন হুট করে। উঠোন হয়ে বারান্দা পেরিয়ে অনেকটা আগন্তুকের মতো চুপিসারে ঘরে ঢুকলেন বাবা। হারিকেনের মৃদু আলোয় আপনারা তিনজনই প্রথমে চমকে উঠেছিলেন। কারণ, বাবা তখন ভেজা ছায়ামূর্তি, বাবাকে বাবা মনে হতে কয়েক মুহূর্ত সময় লাগে আপনাদের। টের পাওয়ার পর মায়ের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এতক্ষণ কোথায় আটকা পড়েছিলেন, তাকে নিয়ে কত দুঃশ্চিন্তা করছিলেন, কেমন ভয় হচ্ছিল, তার এ অবস্থা দেখে কতটা কষ্ট পাচ্ছেন—নাকি সুরে মা হড়বড় করে এসব বলতে লাগলেন। বাবা ধাতস্ত হতে সময় নিলেন। হুট করে মায়ের কথার জবাব দিতে শুরু করলেন না। মা-ও ঘাটান না। বাবাকে গা-মাথা মুছে শুকনো কাপড় পরতে সময় দেন, এগিয়ে দেন সবকিছু। বাবা ধাতস্ত হলে, শুকনো কাপড় পরে একটু স্থির হয়ে বসলে অল্প কথায় মায়ের কথাগুলোর জবাব সারেন। এক মুদির দোকানে আটকা পড়েছিলেন বাবা। কোনো রিকশা-ভ্যান কিছু পাচ্ছিলেন না। বৃষ্টির তোড়ে রাস্তাঘাট কাদা হয়ে যাওয়ায় হেঁটেও আসতে পারছিলেন না। ওদিকে মুদির দোকানদার তার দোকানের ঝাপি নামিয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিল। তখন থেকে বাবা বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেষে বুঝিয়ে দিলেন, সবমিলিয়ে তার মেজাজ চরম পর্যায়ের খারাপ।
আপনাদের খেলার গতি কমে আসে। এখনই সব গুটিয়ে নিতে হবে। বাবা ঘরে ঢুকেই আপনাদের খেলনার বাজার দেখে একবার মাথা না-বাচকভাবে ঝাঁকিয়ে এবং নিঃশ্বাসের শব্দ দিয়ে তার বিরক্তি বুঝিয়ে দিয়েছেন। খেলার এই পর্যায়ে আপনি একটি গাড়ি নিয়ে খেলছিলেন। গাড়ি একটু ঠেলে এগিয়ে থামাচ্ছিলেন আর যাত্রী তোলার ভঙ্গি করে ফিসফিস করে হাঁক ছাড়ছিলেন, ‘এই থানার মোড়, থানার মোড়। লাস্ট টিপ, লাস্ট টিপ। না উঠলে রাইতে আর গাড়ি পাইবেন না। বৃষ্টিতে আটকা পড়ে থাকবেন। এই থানার মোড়, থানার মোড়…’
গাড়িটা নিয়ে একটু এগোতেই আপনার ছোট ভাই ছোঁ মেরে গাড়িটা কেড়ে নিয়ে বলল, ‘এখন থেকে এটা আমার। এটা নিয়ে আমি খেলব এখন থেকে।’
আপনি পালটা ছোঁ মেরে নিতে চাইলেন, কিন্তু নিতে পারলেন না। রাগে ফুঁসে বললেন, ‘এটা আমার। আমাকে দিয়ে দে। তুই তো তোরটা ভেঙে ফেলেছিস। এখন আমারটার দিকে নজর কেন?’
আপনার ছোট ভাই আপনাকে ভেঙচি কাটল, খেলনা ফেরত দিলো না। আপনি এবার চিৎকার করে বললেন, ‘দে বলছি।’
তারপর উঠে গিয়ে কেড়ে নিতে চাইলেন। আপনার ভাইও চিৎকার করে বলল, ‘না, দিব না। এটা আমার।’
এরপর আপনারা দুজন কাড়াকাড়ি করতে করতে ধস্তাধস্তিতে লেগে গেলেন। আচমকা আপনার ছোট ভাইয়ের মুখে আঘাত লেগে গেল। রাগে সে গাড়িটা আছাড় দিয়ে ভেঙে চূরমার করে দিলো। আপনি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। ইচ্ছে করল এবার ছোটভাইকে তুলে একটা আছাড় দিতে।
খুব প্রিয় একটা গাড়ি ছিল আপনার। ভাইয়েরটা ভেঙে যাওয়ার পর সে আপনারটার দিকে এর আগেও একাধিকবার নজর দিয়েছে। অতিচঞ্চলতার কারণে তার খেলনাপাতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তারপর আপনারটার দিকে নজর দেয় দখলের নেশায়। আপনি তাই প্রিয় গাড়িটা খুব আগলে রাখতেন, লুকিয়ে রাখতেন। সহজে বের করতেন না হারানোর ভয়ে। নিজেও খেলতে পারতেন না খুব একটা। আজ হারিকেনের মৃদু আলোয় বা প্রায় অন্ধকার থাকায় গাড়িটা বের করেছিলেন। আর তাতেই বাইরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো দুর্যোগ নেমে এলো এখানে। আপনার চোখ থেকে নামতে শুরু করল বৃষ্টি।
শব্দ শুনে ছুটে এলেন বাবা। পেছনে পেছনে মা। বাবার মেজাজ এমনিতেই চড়া থাকে, বৃষ্টি ভিজে পথের ঝক্কি সামলিয়ে এসে মেজাজ আরও চড়া আছে। বাবা এসেই দেখলেন কোনো একটা খেলনা ভেঙেচুরে পড়ে আছে মেঝেতে। হুংকার দিয়ে তিনি জানতে চাইলেন, ‘কী হচ্ছে এখানে?’
আপনি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ছোট ভাইয়ের প্রতি রাগে এবং বাবার হুংকারে কাঁপছেন। কিছু বলতে পারছেন না। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। জবাব দিলো আপনার ছোট ভাই, আপনারই মতো ফোঁপাচ্ছে সে এখন, ‘আমার গাড়িটা আছাড় দিয়ে ভেঙে দিলো…’ তারপর ভ্যা করে সে কাঁদতে লাগলো।
আপনি আরও হতভম্ব হয়ে গেলেন। কিন্তু পুরোপুরি বুঝে ওঠার সুযোগ পেলেন না। আপনার বাবার কয়েক কেজি ওজনের হাত আপনার ওপর চড়াও হলো। উথাল-পাথাল মার পড়ল আপনার সারাশরীরে আর কানে এলো নানা প্রকার ভর্ৎসনা ও গালি। হঠাৎ করেই আপনার কান্না থেমে গেল, নির্বাক হয়ে গেলেন আপনি।
আপনার মা কোনোরকমে আপনাকে বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে আনল। এই ছিনিয়ে আনার কারণে যেটুকু রাগ আপনার ওপর ঝারতে পারলেন না বাবা, অবশিষ্ট রাগটুকু তিনি হাতের কাছের কিছু খেলনা আছাড় দিয়ে ভেঙে ঝারলেন। আপনি টের পেলেন সবগুলো খেলনাই আপনার। বাবা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানে তার হাতের নাগালে আপনার খেলনাগুলোই ছিল।
আপনার ছোট ভাইকে কেউ কিছু বলল না। সে ভ্রু নাচিয়ে মুচকি মুচকি হেসে আপনার আশেপাশে ঘুরে বেড়াতে লাগল। আপনি আপনার অনুভূতি নিয়ে সংকটে পড়লেন। বুঝতে পারছেন না, আপনি রেগে আছেন নাকি অভিমান করে আছেন। অনুভূতির এই সংকটে আপনার ভেতরে যা জন্ম নিলো তা হলো মৃত্যু। খুব করে মরে যেতে ইচ্ছে হলো আপনার।
ওই মুহূর্ত থেকে আপনি আপনার বাবা-মা-ভাই কারও সাথেই আর কথা বলেন না। মৃত মানুষ যেমন বলে না!
স্মৃতির গুদাম থেকে ফিরে আসতে আসতে এদিকে বৃষ্টি থেমেছে। আকাশের মেঘও কেটে গেছে। দেখা যাচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদ ভাসছে। এই বৃষ্টি আর মেঘের কারণে এতক্ষণ আড়াল থেকে বের হতে পারেনি চাঁদটা। বৃষ্টির পরই জোছনামাখা রাত। বৃষ্টি-ধোয়া পরিষ্কার জোছনা। ভেজা ভেজা আলোর জোছনা। জানালা থেকে আপনার আর সরতে ইচ্ছে হলো না। আরও একবার স্মৃতির গুদাম থেকে ডাক এলো আপনার।
নির্বাক জীবন নিয়েই একসময় কলেজ পেরোলেন আপনি। মাত্র দুজন বন্ধু আপনার। স্বাভাবিক চঞ্চল জীবন তাদের। আপনি কেমন করে যেন তাদের বন্ধু হয়েছিলেন, আপনি নিজেও জানেন না। আপনার কথা কম বা প্রায় না বলার বিষয়টা সবাই জানে। অনেকেই মিশে না আপনার সাথে, কেবল এ দুজন মিশে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমন করে যেন একটা প্রেম হয়ে গেল আপনার। নির্বাক জীবনে বাক্য ফিরে আসতে থাকে। কথা জমা হতে থাকে। জমিয়ে রাখা কথাগুলো আপনার প্রেমিকার কানের চারপাশে আনাগোনা করতে থাকে। জোছনা ভালো লাগতে শুরু করে আপনার। জোনাকি ভালো লাগে, প্রজাপতি ভালো লাগে, অহেতুক কারণে একা একা হাসতে ভালো লাগে। আর ভালো লাগে প্রেমিকাকে নিয়ে সারাদিন ভাবতে, মনে মনেও সারাদিন তার সাথে কথা বলতে। এইসব ভালো লাগা নিয়ে কবিতা লিখতে শুরু করেন আপনি। সে কবিতা নিয়ে প্রেমিকার আদিখ্যেতায় আপনি একেবারে গদগদ হয়ে যান। বিশ্বাসে অন্ধ হয়ে যান আপনি প্রেমিকার প্রতি।
বন্ধুরা আপনাকে নিয়ে হিংসা করে। কোথায় যেন তাদের কিছু একটা জ্বলে। প্রেমিকার প্রতি অন্ধ থাকার কারণে আপনি এসব টের পান না প্রথম প্রথম। যখন টের পান ততদিনে জল গড়িয়ে যায় বহুদূর, আপনার নাগালের বাইরে। আপনার বিশ্বাসের অন্ধত্বের আঁধারের সুযোগে বন্ধুরা ভাগ বসিয়ে ফেলে আপনার প্রেমিকাতে। কোনো কারণে আচমকা চোখ খুলে তাকালে আপনি টের পান আপনার প্রেমিকা আপনারই বন্ধু দুজনের সাথে জড়িয়ে পড়েছে আষ্টেপৃষ্ঠে। সে জড়িয়ে পড়া গড়িয়েছে মেসবাড়ির ফাঁকা রুম পর্যন্ত! একত্রে দুজনের সাথেই!
টের পাওয়ার পর, জেনে ফেলার পর আপনি কী করবেন যেন বুঝতে পারলেন না। আপনার বন্ধুরা মুচকি মুচকি হাসিতে শুনিয়ে দিতে চাইল প্রেমে আপনার পরাজয়ের সুর। সে সুর আপনার ভেতরে পুনরায় জাগিয়ে তুলল মৃত্যুর অনুভূতি। মরে যাওয়াটাই এ পরাজয়ের মাশুল বলে মনে হলো আপনার।
বন্ধু কিংবা প্রেমিকা, কারও সাথেই আপনি আর কোনোদিন কথা বলেন না। মৃত মানুষ যেমন বলে না!
এবার স্মৃতির গুদাম থেকে ফিরে এসে আপনার আর জোছনা দেখতে ভালো লাগে না। জোছনার চাঁদটা গা জ্বলিয়ে দেয় আপনার। জোছনার চাঁদটার দিকে তাকিয়ে ‘থু’ করে একদলা থুথু ফেলেন আপনি। থুথুটা চাঁদের গায়ে গিয়ে না লাগলেও কিছুটা স্বস্তি লাগে আপনার।
জানালার ওপাশে সড়ক-নদী এখনও বহমান। এখন আর কোনো গাড়ি বা রিকশা চলছে না সেখানে। সড়ক-নদীর ঢেউ গুটিয়ে আসছে ধীরে ধীরে। সকাল হতে হতে হয়তো হারিয়ে যাবে এ নদী। তুমুল বৃষ্টি হওয়ার কারণে এই মধ্যরাত পেরোনো সময়টাতে আবহাওয়া বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হয় আপনার, হেমন্ত রাতের কুসুম কুসুম শীতের মতো। স্বস্তিদায়ক ঘুমের উপযুক্ত পরিবেশ থাকলেও, ঘুমাতে ইচ্ছে করে না আপনার। ঘুমকে দুয়ারের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ইচ্ছে করেই আবার ফিরে গেলেন স্মৃতির গুদামে।
পরাজয়ের সুর শুনতে শুনতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আপনি কাটিয়েছেন নাজেহাল অবস্থায়। রেজাল্ট খুব বাজে থাকায় চাকরি-বাকরির তেমন দিশা করতে পারছিলেন না। তার ওপর আপনি চারপাশের কারও সাথেই কথা বলেন না যে, কোনো লবিং-রেফারেন্স বের করবেন। এভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে থাকা অবস্থায় আপনার একটা চাকরি হলো উৎপাদন-নির্ভর এক কারখানায় সুপারভাইজার পদে। বেতন কম, তবে নিজের মতো করে চলার জন্য যথেষ্ট মনে হলো আপনার। ছন্দ ফিরতে শুরু করল আপনার জীবনে। একটা রুম ভাড়া করে একা একাই থাকেন। আপনার জীবনের সাথে কেউ জড়িয়ে থাকা না থাকা আপনাকে আর ভাবায় না। চাকরি করে নিজের মতো করে একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবেন বলে মনে হয় আপনার।
কর্মচঞ্চল এক দিনে আপনার জীবনের তালটা আবার কেটে যায়। অফিসের এক সহকর্মীর উদাসীনতায় তার দেয়া ভুল নির্দেশনায় আপনার হাত দিয়ে ঘটে যায় ছোট একটা ভুল। ভুলটা সামান্যই। দুই টাকারও ক্ষতি হয়নি কারও। ভুলটা ধরতে পেরে সংশোধনের উদ্যোগও আপনি নিতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু অফিসে শুরু হয়ে গেল তোলপাড়। কেন আপনি এমন ভুল করলেন তার জবাবদিহিতার জন্য বসের রুমে ডাক পড়ল আপনার। আপনি বোঝাতে চেষ্টা করেন যে, আপনার একার ভুল না, আপনাকে ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তাতেও বস বোঝেন না বা বুঝতে চান না। আপনার সহকর্মীও আগুনে ঘি ঢালেন, ‘না স্যার, আমি ঠিকভাবেই তাকে সব বুঝিয়ে দিয়েছি। সে-ই বুঝতে ভুল করেছে!’ উপর্যুপরি ধমক আর কড়া কথার বর্ষণ চলতে থাকে আপনার দিকে তাক করে। এসব বর্ষণের এক পর্যায়ে বস খেঁকিয়ে বলে ওঠেন, ‘তুই আস্ত একটা বলদ। তোর মতো বলদরে লাত্থি দিয়া বাইর কইরা দেয়া উচিত।’
নিজের কানকে আপনি বিশ্বাস করতে পারলেন না। হতভম্ব হয়ে যান আপনি। চাকরির মতো পেশাদার মহলে এমন উক্তি আপনাকে শুনতে হবে তা কখনো প্রত্যাশা ছিল না আপনার। ইচ্ছে করল বসের পাছায় একটা লাত্থি দিয়ে চারকিটা তার মুখের ওপর ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে আসবেন। কিন্তু পারলেন না, আপনার প্রয়োজন আপনাকে আটকে দিলো। চাকরিটা আপনার প্রয়োজন। থার্ড ক্লাস রেজাল্ট এবং লবিং-রেফারেন্স না থাকার কারণে চাকরির বাজারে আপনার মূল্য খুবই কম। মুখের ওপর চাকরি ছেড়ে গেলে বসের কিছু আসবে যাবে না, আপনার অনেক কিছু আসবে যাবে। আপনার টিকে থাকা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। আপনি তাই মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থেকে এমন অশ্রাব্য উক্তি হজম করে নিতে বাধ্য হলেন। আর এই হজম করতে বাধ্য হওয়াতে আবার আপনার ভেতরে জেগে উঠল মৃত্যু। মনে হলো মরে যেতে পারলে নিজের সম্মানটা অন্তত প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন।
খুব ক্লান্ত লাগছে আপনার। এক রাতে এতবার স্মৃতির গুদামে যাওয়া-আসা করা কম পরিশ্রমের নয়। আপনি তা টের পাচ্ছেন। কিন্তু এই বৃষ্টিভেজা জোছনামাখা রাতের পরিবেশটা কেন যেন দাবি করছে যে, আজ রাতটা আপনার জন্য মৃত্যু জাগানিয়া রাত। আপনাকে তাই পরিবেশ পরিস্থিতির দাবি মেনে নিতে হচ্ছে। স্মৃতির গুদামে ফিরে ফিরে গিয়ে আপনাকে তাই আপনার ফেলে আসা জীবনে দাঁড় করিয়ে রেখে আসা মৃত্যুর দুয়ারগুলোতে কড়া নেড়ে আসতে হচ্ছে।
জানালা থেকে সরে আসেন আপনি। সেই তখন থেকে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাও আপনার ক্লান্তির কারণ। সরে এসে বসেন শোবার ঘরের বিছানার এক পাশে। বিছানায় তৃপ্তির ডাক ডেকে ঘুমিয়ে আছে আপনার স্ত্রী। এমন নাজেহাল জীবনের পরও আপনার বিয়ে হয়েছে, সংসার হয়েছে। নতুন একটা ভালো চাকরিতে যোগদান করার পরই আপনার জীবনে সংসারের এ ছন্দ আসে। অফিসেরই এক প্রবীণ কলিগের ভাইয়ের মেয়ের সাথে আপনার বিয়ে হয়। মেয়েটা অনেক জেদি, রাগী। আপনার মতো নির্বাক সরল ছেলেকেই তাই তাদের মেয়ের লাগাম বলে মনে হয়েছে।
বিয়ের পর আপনার জীবনে নতুন করে পরিবারের ছোঁয়া লাগে। শ্বশুর-শাশুড়ি আর স্ত্রী নিয়ে বেশ স্বস্তির সংসার শুরু হয় আপনার। আপনি আশা নিয়ে বুক বেঁধেছিলেন যে, অতীত জীবনের মৃত্যু-যাপন থেকে এবার আপনার অবসর মিলবে। তা মিলেছিলও। কিন্তু ধীরে ধীরে আপনি টের পেলেন আপনার সংসার নিয়ন্ত্রণ করছে আপনার শাশুড়ি। আপনার স্ত্রী তার মায়ের কথার বাইরে এক পা চলে না। ব্যাপারটা আপনার খারাপ লাগেনি প্রথমে। তবে, কিছু কিছু ঘটনায় ধীরে ধীরে আপনার অনুভূত হতে থাকে যে, সংসারে আপনার সামান্য মতামতেরও গুরুত্ব নেই। আপনার পছন্দের খাবার আপনি পাতে পাবেন কিনা সেটাও নির্ভর করে আপনার শাশুড়ি তাতে সায় দিয়েছেন কিনা। আপনি কোথায় যাবেন বা যাবেন না তাও নিয়ন্ত্রিত হয় আপনার শাশুড়ির কথায়। আর তা কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর আপনার স্ত্রী।
আপনি ঠিক করলেন, বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন। আপনার স্ত্রীর সাথেই প্রথমে কথা বললেন আপনি। আর এ কথা বলা শুরু করার পর থেকেই আপনাদের ভেতরে লেগে গেল ঝঞ্ঝাট। ব্যাপারটা দাঁড়াল যে, আপনি তার মায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এটা আপনার স্ত্রী কিছুতেই মেনে নেবে না।
ছোট ছোট বিষয় নিয়ে আপনাদের ভেতরে শুরু হলো ঝগড়া লাগা। এসব ঝগড়ায় আপনি যথেষ্ট সচেতন থাকলেন শব্দচয়ন আর বাক্যবাণের ক্ষেত্রে। ধরে রাখলেন মেজাজ। কিন্তু আপনার স্ত্রী এসবের ধার ধারল না। সে রাগ করে এটা-ওটা আছাড় মারে। আপনাকে তুই-তোকারি করে। আপনি তখন চেপে যান, ঝগড়ার আগুনে আর ঘি ঢালেন না।
কিন্তু সেদিন খুবই তুচ্ছ একটা বিষয়ে লেগে গেল আপনাদের। আপনিও সেদিন নিজেকে সালমাতে পারলেন না। কথার পিঠে কথার জবাব দিতে থাকেন। তবে রেগে রেগে বেশ উচ্চস্বরে কথা বললেও অশোভন কোনো শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করলেন না। কিন্তু কথার পিঠে কেন কথা বলবেন, সেটাই হলো আপনার অপরাধ। আপনার স্ত্রী বরাবরের মতোই ক্ষেপে গিয়ে শুরু করল তুই-তোকারি। এক পর্যায়ে হাত তুলল আপনার গায়ে আর চিৎকার করে গালি দিলো আপনাকে, ‘কুত্তার বাচ্চা’ বলে।
আপনার মেজাজও চরমে উঠে গেল। ইচ্ছে করল রান্নাঘর থেকে চাকুটা এনে একটা খুন করে ফেলবেন। কিন্তু আপনি আপনার শরীর নিয়ে আর নড়তে পারলেন না। জমে গেলেন আপনি। খুন করার পরিবর্তে আপনার নিজের ভেতরে পুনরায় মাথা চাড়া দিয়ে উঠল নিজের মৃত্যু। নিজেকেই মেরে ফেলতে ইচ্ছে করল আপনার।
আপনি নির্বাক হয়ে গেলেন আবার। সেদিন থেকে আপনি শ্বশুর-শাশুড়ি-স্ত্রী কারও সাথে আর কথা বলেন না। মৃত মানুষ যেমন বলে না!
প্রতিবারের এইসব মরে যাওয়ার ইচ্ছেগুলোই একের পর এক মৃত্যু ডেকে আনে আপনার! মরে গিয়ে ফিরে এসে আবার মরেন! বারবার মরে যান আপনি! মৃত্যুযাপনেই একটা জীবন কেটে যাচ্ছে আপনার!
এইসব ঘটনার পর, প্রতিবারই কয়েকদিন পেরিয়ে গেলে সবাই যখন টের পায় যে, আপনি কারও সাথে কথা বলছেন না, তখন সবাই ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলতে আসে আপনার সাথে। আপনি জবাব দেন না, সাড়া দেন না। মনে হয় যেন কারও কোনো কথা আপনার কানেই যাচ্ছে না। মৃত মানুষের যেমন যায় না!
মৃত মানুষ খাটিয়ায় পড়ে থাকে যখন, তখন আপন মানুষেরা, কাছের মানুষেরা বিলাপ করে কত কিছু বলে। ‘এ কী হয়ে গেল বাবা! কথা বল বাবা, কথা বল।’ মৃত মানুষ কি কথা বলে ওঠে তখন? এ ধরনের কোনো বিলাপই মৃত মানুষের কানে যায় না, সাড়া দেয় না।
আরও কয়েকদিন পর থেকে সবাই যখন বিলাপ করা শুরু করল, ‘একবার কথা বল বাবা, একবার শুধু কথা বল।’ আপনি তখনও সাড়া দেন না, মৃত মানুষ যেমন দেয় না!
এমন আজগুবি আলাপ শোনাতে গেলে আপনার সামনে থাকা লোকটা হয়তো রেগে যাবেন, দাঁত মুখ খিঁচিয়ে হয়তো বলে বসবেন, ‘আরে মামুর বুঠা, মরেই যদি গেলছো, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে জোছনা কিম্বা বৃষ্টি দেখতে দেখতে এত ফ্যাঁচর ফ্যাঁচর কইরছো কীভাবে!’
আপনি আর কী বলতে পারেন বলুন! তার দিকে আহত দৃষ্টি মেলে অথবা দৃষ্টিটাকে জানালার বাইরে অনির্দিষ্ট কোথাও নোঙর করে অস্ফুট স্বরে বড়জোড় এটুকুই, ‘শরীর বেঁচে থাকলেই কী মানুষটা বেঁচে থাকেরে পাগলা!’
‘কী বুইলছো! পাইছতে প্যারলাম নাখো!’
তার কৌতূহলের তাড়নায় আপনাকে এটুকুও বলতে হলো, ‘সব কিছু বোঝার বিষয় না! কিছু বিষয় অনুভবের!’
এরপরে আপনার সাথে কথা বলার কোনো আগ্রহ আর থাকবে না তার! বিষদৃষ্টিতে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে ‘এইসব পাগল-ছাগল রাস্তায় ক্যান ঘোরে’ ধরনের কিছু একটা বিড়বিড় করতে করতে তিনি হাঁটা ধরবেন তার পথে। আপনিও আপনার পথে হেঁটে হেঁটে এগিয়ে যাবেন, কড়া নাড়বেন পরবর্তী মৃত্যুর দুয়ারে!
