অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুন ২১, ২০২৬
৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জুন ২১, ২০২৬
৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিবির বাড়ৈ  -
চড়ুইনি ও বানর

চড়ুইনি ও বানর

নিবির বাড়ৈ

 

এক বনে গাছের ডালে বাসা বেঁধে থাকে এক চড়ুইনি। তার তুলতুলে দুটি বাচ্চা আছে। চড়ুইনির আনন্দের যেন আর শেষ নেই! একবার বনজুড়ে মাঘমাসে অসময়ে খুব বৃষ্টি হলো। বৃষ্টির চোটে কাবু হয়ে, শীতল হাওয়ায় সারা শরীরে কাঁপুনি নিয়ে, এক বানর এসে সেই গাছের তলায় দাঁড়াল। ঠান্ডা হাওয়ায় জবুথবু হয়ে, দাঁতে দাঁত ঠকাঠক, হাত-পা কুঁকড়ে গেছে বানরের। তার এমন বেহাল দশা দেখে চড়ুইনির খুব মায়া হলো। সে বলল–
হাত-ও আছে, পা-ও আছে, দেখতে মানুষ হেন,
তবু, শীতে হাওয়ায় কাবু, বোকা ঘর বাঁধো না কেন?
শুনে বানর ভাবল, জগতের সবাই কেমন আত্মতুষ্ট। এই একরত্তি চড়ুইনিটা পর্যন্ত নিজেকে মনে করছে কী যেন একটা।
এই ভেবে রেগেমেগে বানর চড়ুইনিকে বলল, পণ্ডিত মানিস খুব নিজেকে? অলক্ষ্মী, সুচালো-মুখী, আমার ঘর নেই বলে টিটকারি করছিস। চুপ করে বসে থাক, নইলে তোর ঘর ঘুচিয়ে দেবো।
চড়ুইনি বলল, খামোখা রাগ করছ কেন, ভাই? আজ যদি আমার মতো তোমার একটা ঘর থাকত, তাহলে তোমার এত কষ্ট পোহাতে হতো না।
চড়ুইনির কথা শুনে বানরের মেজাজ গেল বিগড়ে। দাঁত কিড়মিড় করে বলল, আ, পুঁচকে চড়ুই, জীবনের মায়া থাকলে মুখ বন্ধ করে রাখ। বেশি কথা বলিস না।
এইভাবে নিষেধ করা সত্ত্বেও চড়ুইনি যখন আবার বাসা করার উপদেশ দিয়ে উত্ত্যক্ত করতে লাগল, তখন বানরটা গাছে উঠে তার বাসাটা আছড়ে-পাছড়ে ছাতু করে ফেলল। আর ফুটফুটে বাচ্চা দুটোকে নিচে ছুড়ে ফেলে দিলো।
বানরের এই কাণ্ড দেখে চড়ুইনি হায় হায় বলে মাথা ঠুকতে লাগল।

নীতিশিক্ষা : যাকে-তাকে/অপাত্রে জ্ঞান দিতে নেই।

(গল্পটি সংস্কৃত পণ্ডিত বিষ্ণুশর্মার উপদেশ ও রাজনীতিমূলক গ্রন্থ ‘পঞ্চতন্ত্র’ থেকে অনূদিত এবং ঈষৎ সম্পাদিত।)

Read Previous

মাঘের চিঠি

Read Next

হেম্মত আলীর চেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *