অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুন ২১, ২০২৬
৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জুন ২১, ২০২৬
৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল -
অন্ধকারের প্রতিবিম্ব

অন্ধকারের প্রতিবিম্ব

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল

 

শহরের নিয়ন আলোগুলো আজ কেমন যেন ফ্যাকাসে। রাত বারোটা বাজে। আরিয়ান তার পুরনো মোটরবাইকটা নিয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার ফোনের ভাইব্রেশন তাকে থামিয়ে দিল। সায়রার মেসেজ- ‘আরিয়ান, আমি বিপদে। শহরের মহিষখোলা এলাকার পরিত্যক্ত টেক্সটাইল মিলে চলে এসো। আমার কাছে প্রমাণ আছে।’
আরিয়ান জানে সায়রা অপ্রাসঙ্গিক কারণে তাকে ডাকবে না। গত কয়েক মাস ধরে সায়রা ‘প্রজেক্ট ব্ল্যাক হোল’ নিয়ে কাজ করছিল- যেখানে শহরের বড় বড় শিল্পপতিরা মিলে একটি বস্তি উচ্ছেদ করে সেখানে অবৈধ কেমিক্যাল প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনা করছে।
আরিয়ান বাইকের গতি বাড়িয়ে দিল। দশ মিনিটের মধ্যে সে মিলের সামনে পৌঁছাল। চারপাশ জনশূন্য। ঝোপঝাড় আর ভাঙা দেওয়ালের মাঝে মিলটি একটি দানবের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে ঢুকতেই সে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পেল। আরিয়ান নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকল। মিলের ভেতরটা ভ্যাপসা গুমোট গন্ধে ভরা। ভাঙা জানলার কাঁচ দিয়ে চাঁদের আলো এসে কঙ্কালসার মেশিনগুলোর ওপর পড়েছে। আরিয়ান সিঁড়ির আড়ালে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস একদম নিয়ন্ত্রিত।
নিচে সায়রাকে ঘিরে চারজন দাঁড়িয়ে। দলনেতা লোকটা সায়রার ক্যামেরাটা আছাড় দিয়ে ভাঙল। ‘মেমোরি কার্ডটা কোথায়?’ লোকটার কর্কশ কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হলো। সায়রা নিরুত্তর। লোকটা সায়রার গালে চড় মারার জন্য হাত তুলতেই আরিয়ান অ্যাকশনে গেল। সে উপর থেকে কোনো শব্দ না করে ঝাঁপ দিল জং ধরা একটি লোহার বিমের ওপর। তারপর সরাসরি প্রথম লোকটির কাঁধের ওপর। আরিয়ানের হাঁটুর প্রবল আঘাতে লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। বাকি তিনজন চমকে উঠে কোমরে হাত দিল, কিন্তু আরিয়ান তাদের সময় দিল না। সে দ্রুত পকেট থেকে একটি ছোট মেটাল বল ছুঁড়ে মারল পাশের তেলের ড্রামে। বিকট শব্দে বিভ্রান্ত হলো তারা। আরিয়ান বিদ্যুৎগতিতে দ্বিতীয়জনের কব্জি চেপে ধরে মোচড় দিল। একটা মট করে শব্দ হলো, আর লোকটার হাত থেকে রিভলভারটা ছিটকে পড়ল। আরিয়ান সেই রিভলভারটা লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দিয়ে লোকটার বুকে পর পর দুটো পাঞ্চ করল। ‘ওয়ান-টু’ কম্বিনেশনে লোকটা দেয়ালের সাথে গিয়ে ধাক্কা খেল।
তৃতীয়জন একটি সুইচব্লেড বের করে আরিয়ানের দিকে তেড়ে এল। আরিয়ান পিছিয়ে না গিয়ে সামনে এগিয়ে এল। ব্লেডটা তার জ্যাকেট ছুঁয়ে গেল মাত্র, কিন্তু সেই সুযোগে আরিয়ান লোকটার ট্র্যাপিজিয়াস পেশিতে এক প্রচণ্ড কোপ বসাল। লোকটা ব্যথায় কুঁকড়ে যেতেই আরিয়ান তাকে ধরে চতুর্থজনের ওপর ছুঁড়ে দিল। সবশেষে দলনেতাটি পকেট থেকে নাইফ বের করল। সে পেশাদার খুনি। সে আরিয়ানের দিকে তীক্ষ্মভাবে তাকাচ্ছে। আরিয়ান তখন পাশে পড়ে থাকা একটা জং ধরা চেইন তুলে নিল। লোকটা ঝাঁপ দিতেই আরিয়ান চেইনটা চাবুকের মতো ঘোরাল। চেইনটা লোকটার পায়ে পেঁচিয়ে যেতেই আরিয়ান হ্যাঁচকা টান দিল। লোকটা ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়তেই আরিয়ান তার ঘাড়ের কাছে একটা নিখুঁত স্ট্রাইক করল। মুহূর্তেই সব নিস্তব্ধ। আরিয়ান হাঁপাতে হাঁপাতে সায়রার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বেরোতে হবে। এখনই। সায়রা, পালাও!’ আরিয়ান চিৎকার করে বলল। কিন্তু সায়রা নড়ল না। সে আঙুল দিয়ে দেয়ালের দিকে ইশারা করল। সেখানে একটি ল্যাপটপ স্ক্রিনে কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। আরিয়ান কাছে গিয়ে দেখল- এটি কেবল একটি কেমিক্যাল প্ল্যান্টের নকশা নয়, এটি একটি মরণফাঁদ। এই প্ল্যান্ট থেকে বের হওয়া বর্জ্য পুরো শহরের পানির লাইনে মিশিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে- যাতে একটি কৃত্রিম মহামারি তৈরি করে ওষুধের ব্যবসা বাড়ানো যায়।
আরিয়ান বুঝতে পারল এটি কেবল একটি সাধারণ মারপিটের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে অনেক বড় ক্ষমতার খেলা। পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশও এই চক্রান্তে জড়িত। আরিয়ান এবং সায়রাকে এখন আত্মগোপনে থেকে এই তথ্যগুলো জনগণের সামনে আনতে হবে। টেক্সটাইল মিলের সেই ভয়াবহ রাতের পর আরিয়ান ও সায়রা শহরের এক পুরনো, পরিত্যক্ত গুদামঘরে আশ্রয় নিয়েছে। চারপাশের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে মাঝে মাঝে সায়রার ল্যাপটপের কি-বোর্ডে আঙুলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আরিয়ান এক কোণে বসে তার জখম পরিষ্কার করছিল।
সায়রা মিল থেকে উদ্ধার করা মেমরি কার্ডের ডেটা একটি এনক্রিপ্টেড ফাইলে ডিক্রিপ্ট করছিল। তার চোখমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট, কিন্তু সংকল্প দৃঢ়।
ফাইল ১ : ‘প্রজেক্ট ব্ল্যাক হোল’-এর বাজেট ডকুমেন্ট। এতে দেখা যাচ্ছে, একটি বস্তি উচ্ছেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থের চেয়ে বহুগুণ বেশি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি দস্তগীরের পকেটে গেছে।
ফাইল ২: কেমিক্যাল কম্পোজিশন রিপোর্ট। এই ফাইলে এমন একটি রাসায়নিক মিশ্রণের ফর্মুলা রয়েছে, যা পানির সাথে মিশলে ধীরে ধীরে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত গণস্বাস্থ্য বিপর্যয়।
ফাইল ৩: ইমেইল আদান-প্রদান। দস্তগীরের কর্পোরেট মেইল থেকে শহরের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান এবং একজন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। সায়রা বিড়বিড় করে বলল, ‘এরা শুধু বস্তি উচ্ছেদ করছে না, এরা পুরো শহরকে জিম্মি করার পরিকল্পনা করেছে।’ আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমাদের হাতে সময় কম। এই তথ্যগুলো পাবলিক করার আগেই ওরা বুঝে ফেলবে আমরা কী করছি।’
একই সময়ে, শহরের অন্য প্রান্তে, দস্তগীরের বিলাসবহুল পেন্টহাউসে চলছিল এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক। দামী চুরুটের ধোঁয়ায় ঘরটা আচ্ছন্ন। দস্তগীর মেজাজ হারিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা (এসিপি জামান) এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান (ডা. মতিন)-এর দিকে ফাইল ছুঁড়ে মারলেন। ‘তোমাদের লোকগুলো কী করছে? এখনো ওদের ধরতে পারোনি?’ এসিপি জামান ঘামতে ঘামতে বললেন, ‘স্যার, ছেলেটা সাধারণ কেউ না। মনে হচ্ছে সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন কোনো লোক। আমাদের টিমকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সব এন্ট্রি পয়েন্ট চেক করছি, কিন্তু…’
দস্তগীর তার গ্লাসটা টেবিলে সজোরে রাখলেন। ‘আমি কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। আগামীকালের মধ্যে ওদের চাই। তার ওপর, ওই সাংবাদিক মেয়েটার কাছে কী প্রমাণ ছিল, সেটা জানা জরুরি। ‘প্রজেক্ট ব্ল্যাক হোল’-এর কাজ শুরু হয়ে গেছে। সামান্য দুজন মানুষ আমার সাম্রাজ্য ধ্বংস করতে পারবে না।’ তিনি ফোন তুলে তার ব্যক্তিগত বাহিনীর প্রধানকে নির্দেশ দিলেন, ‘শহরে চিরুনি তল্লাশি চালাও। দরকার হলে পুরো শহর বন্ধ করে দাও। ওদের জীবিত বা মৃত চাই।’ এই মিটিং প্রমাণ করে দিল যে, আরিয়ান ও সায়রা কেবল একজন শিল্পপতির বিরুদ্ধে লড়ছে না, তারা পুরো সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ছে।
রাত গভীর হচ্ছে। সায়রা ল্যাপটপে কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে। আরিয়ান বাইরে বেরিয়ে গুদামের পাশে একফালি চাঁদ দেখছে। তার মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগের সেই রাত। সে তখন স্পেশাল ফোর্সের একজন ক্যাপ্টেন। তার স্ত্রী রিমা এবং ছোট মেয়ে মিমির জন্মদিনের পার্টি চলছিল। তখনই খবর এলো, একটি মিশনে তার পুরো টিম শত্রুদের হাতে আটকা পড়েছে। আরিয়ান তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক চাপে সময়মতো সাহায্য পাঠানো হয়নি। আরিয়ান একা ছুটে গিয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তার চোখের সামনে তার প্রিয় সহকর্মীরা নির্মমভাবে খুন হয়েছিল। সেই ব্যর্থতার গ্লানি আর সিস্টেমের প্রতি ক্ষোভ তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। তার ভেতরের কণ্ঠস্বর বলল, ‘তখন বাঁচাতে পারিনি, কিন্তু এবার পারব। দস্তগীরের মতো সিস্টেমের কীটদের কারণে আর কোনো রিমা বা মিমি যেন তাদের পরিবার না হারায়।’ তার ভেতরের ক্ষতগুলো আবার দগদগে হয়ে উঠল। এই লড়াইটা এখন তার কাছে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের চেয়েও বেশি কিছু- এটা তার প্রায়শ্চিত্ত। আরিয়ান গুদামের ভেতরে ফিরে এল। সায়রাকে জাগিয়ে বলল, ‘আমি জানি কোথায় গেলে দস্তগীরকে ঘায়েল করা যাবে। কাল রাতে ওর সমুদ্রতীরের বাংলোতে যাব।’ সায়রা ঘুম জড়ানো চোখে তাকাল। আরিয়ানের চোখে সে দেখল এক অদ্ভুত শীতলতা- যেটা প্রতিশোধ আর ন্যায়ের মিশ্রণ। মিলের সেই ঘটনার পরে কয়েকদিন ছিল ইঁদুর-বেড়াল খেলা। দস্তগীরের লোকেরা পুরো শহর চষে বেড়াচ্ছে তাদের ধরার জন্য। আরিয়ান তার পুরনো কায়দায় শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু তথ্যের উৎস ব্যবহার করে জানতে পারল, আগামী পরশু একটি গোপন মিটিং হতে যাচ্ছে যেখানে এই মরণফাঁদ প্রকল্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষর হবে। আরিয়ান সিদ্ধান্ত নিল, সে ডিফেন্সিভ নয়, অফেন্সিভ হবে। সে একা দস্তগীরের দুর্ভেদ্য দুর্গে হানা দেবে।
বাংলোর বাইরে সমুদ্রের তর্জন-গর্জন শোনা যাচ্ছে। ভেতরে দস্তগীরের হাই-টেক সিকিউরিটি জোন। আরিয়ান এবার কোনো সাধারণ পোশাকে নেই। সে তার পুরনো ট্যাকটিক্যাল গিয়ার পরেছে। তার হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই, শুধু আছে এক জোড়া ক্যালি স্টিক (Kali Sticks) এবং কৌশলী মগজ। প্রথম বাধা এলো করিডোরে। লেজার অ্যালার্ম এড়িয়ে আরিয়ান যখন এগোচ্ছিল, তখন দুজন গার্ড একে-৪৭ নিয়ে পজিশন নিল। আরিয়ান করিডোরের সিলিংয়ে ঝুলে থাকা ঝাড়লণ্ঠনের তারে একটি ছোট চাকু ছুঁড়ল। ঝাড়লণ্ঠনটা বিশাল শব্দে ভেঙে পড়ল এবং অন্ধকারে ডুবে গেল করিডোর। অন্ধকারেই আরিয়ানের ক্যালি স্টিকগুলো কথা বলে উঠল। ‘খট-খট-ধপ’- অন্ধকারে শুধু হাড় ভাঙার শব্দ আর যন্ত্রণার আর্তনাদ শোনা গেল। আরিয়ানের মুভমেন্ট ছিল একেকটা ঝড়ের মতো; প্রতিপক্ষ দেখার আগেই সে কাজ শেষ করে দিচ্ছে।
বাংলোর মূল হলে পৌঁছাতেই আরিয়ানকে ঘিরে ধরল দস্তগীরের সেরা বডিগার্ড- এক বিশালদেহী রাশিয়ান ফাইটার। লোকটার হাতে একটা ইলেকট্রিক ব্যাটন। আরিয়ানের তুলনায় সে দ্বিগুণ শক্তিশালী। লড়াই শুরু হলো। রাশিয়ানটা ব্যাটনের এক প্রচণ্ড আঘাত করল আরিয়ানের দিকে। আরিয়ান ডাইভ দিয়ে সরে গেল, কিন্তু ব্যাটনটা মার্বেল ফ্লোরে লেগে স্পার্ক করল। আরিয়ান বুঝল, সরাসরি শক্তিতে জেতা অসম্ভব। সে লোকটার পায়ের দিকে মনোযোগ দিল। রাশিয়ানটা আবার তেড়ে আসতেই আরিয়ান তার নিচে স্লাইড করে ঢুকে পড়ল এবং স্টিক দিয়ে লোকটার গোড়ালিতে সজোরে আঘাত করল। লোকটা টলে উঠতেই আরিয়ান তার পিঠে উঠে পড়ল এবং তার গলার নার্ভ চেপে ধরল। রাশিয়ানটা তাকে আছাড় মারার চেষ্টা করল, সোফা-টেবিল সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। কিন্তু আরিয়ান তার মরণকামড় ছাড়ল না। অক্সিজেন কমে আসায় লোকটা একসময় নিস্তেজ হয়ে মেঝেতে ধপাস করে পড়ে গেল।
আরিয়ান রক্তাক্ত অবস্থায় দস্তগীরের ঘরের দরজায় লাথি মেরে ঢুকল। দস্তগীরের ঘরে যখন সে পৌঁছায়, তখন দস্তগীর হাসছে।
‘তুমিও তো আমাদের মতো হতে পারতে আরিয়ান। কেন এই সাধারণ মানুষের জন্য জীবন বাজি ধরছ?’ আরিয়ানের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, ‘কারণ সাধারণ মানুষই সমাজ গড়ে, আর তোমাদের মতো পরজীবীরা তা ধ্বংস করে।’ দস্তগীরের সঙ্গে আরিয়ানের মল্লযুদ্ধ হলো এবং একফাঁকে দস্তগীর পালাবার চেষ্টা করছিল। আরিয়ান তার দিকে স্টিকটা লক্ষ করে ছুঁড়ল। স্টিকটা দস্তগীরের পায়ের মাঝখানে বিঁধে তাকে থামিয়ে দিল। ‘আপনার খেলা শেষ, মি. দস্তগীর,’ আরিয়ান শান্ত কিন্তু কঠিন গলায় বলল। তার জ্যাকেটে লাগানো ছোট ক্যামেরা থেকে সায়রা তখন পুরো লাইভ স্ট্রিমটা ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে। দস্তগীর কাঁপতে কাঁপতে দেখল তার ল্যাপটপ স্ক্রিনে কয়েক মিলিয়ন মানুষ তার অপরাধের প্রমাণ দেখছে। বাইরে তখন পুলিশের সাইরেন শোনা যাচ্ছে, কিন্তু এবার সেই সাইরেন আরিয়ানকে ধরার জন্য নয়, দস্তগীরের সাম্রাজ্যের শেষ অঙ্ক টানার জন্য।
সকাল যখন হলো, দস্তগীর পুলিশের হেফাজতে। শহরবাসী জানতেও পারল না তারা কী ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আরিয়ান আবার তার পুরনো সাধারণ জীবনে ফিরে গেল। সায়রা তাকে ধন্যবাদ দিতে এলে আরিয়ান শুধু একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ‘শহরটা আমাদের সবার, একে পরিষ্কার রাখার দায়িত্বও আমাদের।’ সূর্যের আলোয় শহরের আকাশটা আজ অনেক বেশি পরিষ্কার লাগছে। কিন্তু আরিয়ান জানে, অন্ধকারের প্রতিবিম্বরা আবার আসবে, আর তাকেও প্রস্তুত থাকতে হবে।

লেখক পরিচিতি :
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
জেলা সদর রোড, বটতলা,
টাঙ্গাইল-১৯০০।
ই-মেইল : bulbulmullick@gmail.com

Read Previous

জীবন নদীর বাঁকে

Read Next

নাকফুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *