
ময়নাকাটা নদী
শঙ্করী দাস
ময়নাকাটা নদী, ক্ষমা করো
তোমাকে ভুলে যাই। ডিসেম্বরেও।
স্মৃতির বিনাশ। মননে ক্ষরা।
একাত্তর সালে,
একদিন তোমার তীরের বারো গ্রাম সন্তানের
একযোগে সলিল সমাধি ঘটেছিল
তাদের ছুঁড়ে ফেলা দেয়া হয়েছিল
এক সঙ্গে রশি বেঁধে
তোমার জলে
ও, ময়নাকাটা, আমাকে ক্ষমা করো…
ভুলে যাই ডিসেম্বরেও।
ঘাসেরা, ঘাসফুলেরা
ঘাসেরা বুঝতে পারে। আর ঘাসফুলেরা?
পারে তো, বুঝতে পারে অনুশোচনার রক্তপাত।
ঘাসবনের মাঝখান দিয়ে যে মধুবনী পথ গেছে,
সে পথে সাপেরা হামেশাই বুকে হাটে।
তাতে ঘাসের অসুবিধে হয় না,
তারা দোল খায় । আর ফুলেরা?
মেঘের মিছিলে তাকিয়ে গলগল করে হাসে
চন্দ্রভুক রাতে
এমন চন্দ্রভুক গমগমে রাত
এ রাতে কেউ সুর তোলে
নাকি সুর ভুলে যায়?
শুধু কি বাউলের একতারা বাঁধে সুরের অনূঢ়া বিনুনি!
এমন চন্দ্রভুক গমগমে রাতে
রামাবতী নগরী, তার ভূমিপুত্র
বিদ্রোহী কেবর্ত
আর পালযুগের তালপাতার পুঁথি সব একসঙ্গে
নীরবে দঃখ তোলে
কবি পরিচিতি :
শঙ্করী দাস
কবি, গল্পকার ও গবেষক; সম্প্রতি প্রকাশিত বই- চিক্ষুর।
