
মোহাম্মদ হোসাইন-এর গুচ্ছ কবিতা
আমি তখনও
তারা যখন হত্যা করে আমি একাই ছিলাম।
আমার চোখ থেকে তখন অনেকদিনের জমানো ঘুম একটা একটা পাপড়ির মতো ঝরে পড়ছিল।
পৃথিবীতে প্রতিদিন প্রতিক্ষণ বহু সন্ধ্যা নামে
সেই সন্ধ্যার আবছা আলো সবাই দেখতে পায় না অথচ, আমি নেমে যেতে থাকি প্রায়শই সেই ঝর্না বরাবর
একদিন মানুষেরা পৃথিবীতে আর অসুখী থাকবে না
অসুখ নামের এই ব্যাধিটিই থাকবে না তল্লাট বরাবর। সেদিনও আমার আঙুল ফসকে পড়ে যাবে জ্যোৎস্না মাখানো জলপাই রাত, দৃষ্টি ধৌত আরশে আজিম কিংবা সুতুপার ঠোঁট, যোনির বিশ্লেষ…
আমি তখনও গান গাইব
আমি তখনও জোড়া পালকের গন্ধে মাতাল হব
একফোঁটা সুন্দরের নেশায় বুঁদ হয়ে রবো অনাদিকাল…
টোটেম
প্রতি রাতেই তুমি এসে খুন করে যাবে
তোমার ধারালো ছুরি কেটে কেটে চাক চাক করবে
আমি নিঃশব্দে আমার নরম বুক ও গলা বাড়িয়ে দেবো। তুমি তার সবটুকু নিয়ে যেভাবে এসেছিলে সেভাবেই ফিরে যাবে নীরবে!
কেউ দেখবে না। জানবেও না কেউ।
সকালে পুরো পৃথিবী দেখবে পূর্ব দিকে
রক্তের ধারা…
রক্ত ধুয়ে গেলে
সঙ্গম শেষে পৃথিবী ঘুমালে আমি কবিতা নিয়ে বসি
আগুনের ফুলকিগুলো তখন ঝর্নার বল হয়ে বেরিয়ে যেতে থাকে…
আলোকে বেঁধে রাখা যায় না সে ফাঁক ফোকর গলিয়ে বেরিয়ে আসেই। অথচ, নাদানেরা অন্ধ – কিছুই দেখে না!
প্রভাত ফেরির গান থামবে না কখনো
কোকিল যতদিন আছে এই মাঠ এই হাওয়া এই বৃক্ষলতা যতদিন আছে তা গীত হতে থাকবেই…
রক্তে ধুয়ে গেলে মাটি পবিত্র হয়ে যায়…
জমজ ভাইবোন
কত মানুষ চোখ মুছছে কত মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে
ইট, সুরকি খুলে নিচ্ছে কতজন কতজনে
চোরা গর্তের ভিতর—খুলি, হাড়গোড় পুতে রাখছে
নিবিড় তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে প্রকৃতি ও সময়
কেউ কেউ খুব হাসছে মজা নিচ্ছে
বিড়াল পালাচ্ছে, পোকামাকড়েরা পালাচ্ছে…
আমি নিরাপদ ট্রেনের বগিতে বসে বসে দেখছি আর দেখছি। ট্রেন ছাড়ছে না।
হুইসেল বাজাবার কেউ নেই। কেউ কি নেই?
আকাশও দেখছে আকাশ কিছু বলে না
আমিও না।
আমি আর আকাশ জমজ ভাইবোন!
রাত গহিন হলে
আমি কেন ঘুমাতে পারি না
কতগুলো রাত এমন গহিন হলে
ঘুম এসে বলবে এসো আমরা যাই।
প্রায়শ আমার চোখে জল এসে ভিড় করে
প্রায়শ আমার কান্না পায়। যখন কান্না পায়
তখনই জল আসে চোখে—
যেভাবে আসো তুমি—খুব ধীর পায়ে, নীরবে…!
