
শানু মজুমদার-এর যুগল কবিতা
নতুন বর্গী নেমেছে
যমুনা নদীর ভাঙন—দুরন্ত তাণ্ডব
আমার পরানের গহিন কেঁপে ওঠে
যতবার কুল ভাঙে
কতবার আমি গৃহহারা হই।
অথচ ওপারে জেগে ওঠা চরে
আমার অংশীদারিত্ব নেই
সবকিছু জবরদস্তি করে নিয়ে যায়
জোতদার তার লাঠিয়াল দল।
আমি অবাক হয়ে চেয়ে থাকি
আমারই চোখের সামনে
আমার সাত পুরুষের ভূমি
উড়ির চরের মতো বেদখল হয়ে যায়।
আমার সবকিছুতে দস্যুর দখল এখন
এক নির্মম পরিহাসে
আমার প্রেম আমার ভালোবাসা
জোর করে বর্গীর লোকেরা তুলে নিয়ে গেছে।
আমার উঠোন জুড়ে এখন চিতার আগুন
নতুন বর্গীরদল নামিয়েছে দ্যাশে
আমি ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখি
আমারই দ্যাশ আমারই চোখের সামনে
বেদখল হয়ে গেছে।
আমাদের গ্রামগুলো
আমাদের গ্রামগুলো এখন
শীর্ণকায়—জৌলুশহীন
উলঙ্গ শরীর জুড়ে কড়া শীতের কামড়
এরা শীতকালে জীর্ণশীর্ণ বস্ত্র পরিধান করে
গ্রীষ্মে-শরতে উদোম গতর
এরা বাকশক্তিহীন কমজোর।
কৃষকের স্বপ্ন প্রসারিত হাওরের বুক
এদের শুকনো শরীর তবুও বিশুদ্ধ হৃদয়
এরা নিজে অভুক্ত থেকে
শহুরে জীবনগুলোর অন্নের জোগায় দ্যায়
এরা মহানুভব এরা আমারই স্বজন
একই রক্তধারা আমাদের শিরায় শিরায়।
এতোকাল সুখ ছিলো, সুঠাম শরীর ন্যূজ এখন
আমাদের গ্রামগুলো বিত্ত-বৈভবহীন
এরা খরায় পোড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে
রোগে শোকে কাতর
নাগালে নাগরিক বৈদ্য নেই -সুসম খাদ্য নেই
এরা চরম অবহেলায় দিন কাটায়।
