অনুপ্রাণন, শিল্প-সাহিত্যের অন্তর্জাল এ আপনাকে স্বাগতম!
জুন ১৪, ২০২৪
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
জুন ১৪, ২০২৪
৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: হাসিনুল ইসলাম -
ব্রোকা অ্যাফেজিয়া, ক্রিয়াপদ ও মনোগত লেক্সিকন
রোয়েলিয়েন বাসতিয়ানস এবং রন ভ্যান জনেভেল্ড

[অনুবাদকের তথ্য-সংযুক্তি: ‘অ্যাফেজিয়া’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে ‘বাকহীনতা’। ১৮৬১ সালে ফরাসি শল্যচিকিৎসক ও নৃতাত্ত্বিক পল ব্রোকা অ্যাফেজিয়া নামক বিকারের কারণ হিসেবে মস্তিষ্কের সুনির্দিষ্ট একটি অংশকে দায়ী করে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং ১৮৬৫ সালে তিনি On the Site of the Faculty of Articulated Speech’ -শিরোনামের একটি নিবন্ধ (মূল প্রবন্ধটি ফরাসি ভাষায়) প্রকাশের মাধ্যমে চিকিৎসা ভাষাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেন। স্ট্রোক, মস্তিষ্কে আঘাত ও টিউমারের কারণে মানুষের যে বাকহীনতা ও বাকআড়ষ্টতা সৃষ্টি হয়, সেটিই অ্যাফেজিয়া। মস্তিষ্কের ব্রোকা অঞ্চল নামে অভিহিত একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে এমন বাচন বিকার সৃষ্টি হলে সেটি ব্রোকা অ্যাফেজিয়া হিসেবে পরিচিত হয়। আবার, ভেরনিক অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভেরনিক অ্যাফেজিয়া সৃষ্টি হয়। ব্রোকা অঞ্চলের কারণে সৃষ্ট ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় ক্রিয়াপদের উৎপাদন ঠিক কোন কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বর্তমান নিবন্ধে সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে একটি স্ট্রোকপ্রবণ দেশ হিসেবে মনে করা হয় [হাকিম আরিফ ও মাশরুর ইমতিয়াজ, চিকিৎসা ভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা ভাষা, ২০১৪] এবং এদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে প্রতিনিয়ত মস্তিষ্কে ট্রমার রোগীও বেড়ে চলছে। স্বাভাবিকভাবে, অ্যাফেজিয়া রোগীর পরিবারই বোঝে, এমন রোগীর পরিচর্যার কষ্ট। এ প্রেক্ষিতে, ভাষাতাত্ত্বিক বিদ্যায়োতনিক মহলে অ্যাফেজিয়া সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বর্তমান নিবন্ধটি অনূদিত হলো। বিভ্রান্তি এড়াতে কিছু পারিভাষিক শব্দ প্রথমবার ব্যবহারের সময়ে বাংলার ডানে বন্ধনীর মধ্যে মূল ইংরেজিটি দেওয়া হলো। বেশ কিছু ভাষাতাত্ত্বিক পরিভাষা কেবল বাংলায় সরল লিপ্যন্তরণ করা হয়েছে। ইংরেজি transitivity পরিভাষাটির জন্য সকর্মকতা, নাকি সকর্মত্ব ব্যবহার করবো, এ নিয়ে বেশ দ্বিধা কাজ করেছে। নিবন্ধটির মর্ম বুঝতে argument structure (আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচার), agent (এজেন্ট), theme (থিম), transitivity (সকর্মত্ব), alternating transitivity (বিপরীতমুখী সকর্মত্ব), Verb Second, matrix clause (গর্ভ-উপবাক্য), embedded clause (আধারিত উপবাক্য), base-generated position (বেজ জেনারেটেড অবস্থান), lemma (লেমা), lemma representation (লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ), lexicon (লেক্সিকন), lexeme (লেক্সিম) সম্বন্ধে ধারণা থাকলে সুবিধা হতে পারে।]

সারসংক্ষেপ: ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ক্রিয়াপদের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, শাব্দিক ও বাক্যিক, উভয় স্তরেই। কৌতুহলের বিষয় হলো, বাচন উৎপাদন প্রক্রিয়ার ঠিক কোন স্তরে সমস্যা হয়, তা খুঁজে বের করা যেতে পারে। এটিই এই গবেষণার মুখ্য উদ্দেশ্য। এই গবেষণার তাত্ত্বিক ফ্রেমওয়ার্কের জন্য লেভেল্ট-এর (Levelt, ১৯৮৯) মডেল ব্যবহৃত হয়েছে। দুটি পরীক্ষণ করা হয়েছে, একটি ক্রিয়ার চলনের (verb movement) উপর, অন্যটি ক্রিয়ার বিপরীতমুখী সকর্মত্বের (alternating transitivity) বিষয়ে। ফলাফল থেকে বোঝা যায়, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় সংঘটিত বাচন বিকারের উৎস লেভেল্ট-এর “ব্যাকরণিক এনকোডার (grammatical encoder)”-এ অন্তর্নিহিত রয়েছে।

১. ভূমিকা
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় নামপদের চেয়ে ক্রিয়াপদের উৎপাদনে সমস্যা বেশি দেখা যায় [যেমন, ওলন্দাজ ভাষার জন্য Jonkers (১৯৯৮); ইংরেজির জন্য Kim and Thompson (২০০০); ইতালিয়র জন্য Luzzatti, Zonca, Pistarini, Contardi, and Pinna,(২০০২) দেখা যেতে পারে]। এসব গবেষণায় আরো একটি বিষয় উঠে এসেছে- উৎপাদনের সমস্যা যে ক্রিয়াপদ বা নামপদের পদের শ্রেণিবিভাগের বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘটে, তা নয়। বরং, ব্যাকরণিক জটিলতার কারণে এটি ঘটে। যেমন, ক্রিয়াপদের শ্রেণির মধ্যে যেগুলো ব্যাকরণিকভাবে বেশি জটিল, সেগুলোর উৎপাদন ব্যাকরণিকভাবে সহজতর ক্রিয়াগুলোর চেয়ে বেশি সমস্যাপূর্ণ হয়ে থাকে।

আমরা যদি কোনো বাচন উৎপাদন মডেলের মাধ্যমে, যেমন চিত্র ১-এ দেখানো লেভেল্ট-এর মডেল [Levelt’s model ১৯৮৯] ব্যবহার করে বিষয়টি লক্ষ্য করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রশ্ন হবে: ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত ব্যক্তির বাচন উৎপাদন প্রক্রিয়ার ঠিক কোন স্তরে সমস্যা ঘটে? লেভেল্ট এর মতে, মানবমস্তিষ্কে জন্ম নেওয়া ধারণাগুলি লেক্সিকনের (lexicon) অন্তর্গত লেমা-কে (lemma) সক্রিয় করে। লেমার মধ্যে বিভিন্ন তথ্য অন্তর্নিহিত থাকে। যেমন, শব্দের অর্থ, শব্দের শ্রেণি এবং ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে এর থিমগত ভূমিকা, আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচার, এবং উপশ্রেণিকৃত ফ্রেম বিষয়ক তথ্য। লেমা একইসাথে দুটি কাজ করে: বাচন বার্তাটিকে ব্যাকরণিকভাবে এনকোড (encode) করে এবং সেই সাথে শব্দের কথ্য রূপ বা লেক্সিমকে (lexeme) সক্রিয় করে। ধ্বনিতাত্ত্বিক এনকোডিংয়ের সময়ে লেক্সিমগুলোকে কাঠামোর মধ্যে বসানো হয়, যা ইতোপূর্বে ব্যাকরণিক এনকোডারের মাধ্যমে নির্ণিত হয়ে থাকে। এরপর, বাক্য উৎপাদিত হয়।

ছবিতে যেমন বলা হয়েছে, বেশ কিছু গবেষক দেখিয়েছেন যে, আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচার ও সকর্মত্বের জটিলতার মতো কিছু ব্যাকরণিক বৈশিষ্ট্য ক্রিয়াপদের উৎপাদনকে, একাকী এবং বাক্যিক উভয় পর্যায়েই প্রভাবিত করে থাকে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, এই বিকারের উৎস যতসম্ভব লেমাকেন্দ্রিক হবে। কারণ, কেবল এখানেই ব্যাকরণিক তথ্য সঞ্চিত থাকে বা ব্যবহৃত হয়। এমন বিকারের সম্ভাব্য তিনটি উৎস হতে পারে: (১) লেমার ধারণার প্রতীকীকরণেই সমস্যা হতে পারে; (২) লেমার পুনরুদ্ধার অপচিত হতে পারে; এবং (৩) ব্যাকরণিক এনকোডিংয়ে বিকার থাকতে পারে।

বর্তমান নিবন্ধের মূল লক্ষ্য হলো, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় ক্রিয়াপদের দুর্বল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট উৎসস্থানটি খুঁজে বের করা। আমাদের ও অন্যান্যদের গবেষণার পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা তিনটি বিষয়ের মূল্যায়ন করতে চাই- লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ, লেমা নির্বাচন এবং ব্যাকরণিক এনকোডিং।

১.১ লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ (representations)
লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ যদি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সমরূপ উৎপাদন বিকার ঘটতে পারে বলে প্রত্যাশা করা যায় কারণ সেখানে কেবল এক সেট লেমা কাজ করে। কিন্তু ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় যে ঠিক এমনটা ঘটে না, সেটির পক্ষে অনেক প্রমাণ পাওয়া গেছে। জঙ্কারস [Jonkers (১৯৯৮)] দেখিয়েছেন, ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত ওলন্দাজ ব্যক্তিরা ক্রিয়াকে বিশেষ্যকরণে খুব সমস্যা বোধ করেন, কিন্তু সেই একই সক্রিয় ক্রিয়ার মর্ম অনুধাবনে কোনোই সমস্যা বোধ করেন না। কথ্য শব্দ-থেকে-চিত্রের মিলকরণের এই পরীক্ষণে যেহেতু খুব কাছাকাছি মিলযুক্ত ও বিভ্রান্তিকর দেখাতে পারে এমন ক্রিয়া ও বিশেষ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, সেহেতু বলা যেতে পারে যে এখানে লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ইংরেজিভাষী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই রকম ফলাফল দেখা গেছে [Kim and Thompson (২০০০)]। ইতোপূর্বে আরো একটি গবেষণায় [Shapiro and Levine (১৯৯০)] একইরকম ফল দেখা গেছে; তারা একটি অনলাইন বাক্য প্রক্রিয়াকরণ অনুশীলনী ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত ব্যক্তিরা ক্রিয়াপদের আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচার সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যের প্রতি সাধারণ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন: সাধারণ আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচারযুক্ত ক্রিয়াপদের (যেমন, to fix) চেয়ে জটিল আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচারযুক্ত ক্রিয়াপদের (যেমন, to give) প্রক্রিয়াকরণে বেশি সময় লেগেছে। জঙ্কারস যে অনুশীলনী ব্যবহার করেছিলেন, সেটি কিম ও টমসনের মতোই ছিল, তবে শাপিরো ও লেভিন যেভাবে আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচার নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, কিম ও টমসনও সেভাবে করেছিলেন। এছাড়াও, তারা একক ক্রিয়াপদের মর্ম অনুধাবনে কোনো সমস্যা দেখতে পাননি। এই তিনটি গবেষণার ফলাফলকে একত্রিত করলে দেখা যায় যে, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ অবিকৃত থাকে।

১.২ লেমা নির্বাচন বনাম ব্যাকরণিক এনকোডিং
ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত ব্যক্তির ক্রিয়াপদ উৎপাদনের সমস্যার ক্ষেত্রে লেমা নির্বাচন নাকি ব্যাকরণিক এনকোডিংয়ের ত্রুটি প্রভাব বিস্তার করে, সেটি বোঝার জন্য বর্তমান গবেষণায় দুটি পরীক্ষা করা হয়। দুটি পরীক্ষণেই দুটি ভিন্ন পরিবেশে একই ক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। সেখানে একটিতে অন্যটির চেয়ে বেশি ভাষিক জটিলতা থাকে। ১ম পরীক্ষণে ওলন্দাজ ভাষার গর্ভ-উপবাক্য (matrix clause) ও আধারিত উপবাক্যে (embedded clause) সমাপিকা ক্রিয়া+কর্মপদের উৎপাদন দেখা হয়েছে। ২য় পরীক্ষণে বিপরীতমুখী সকর্মত্ববিশিষ্ট ক্রিয়ার উৎপাদন দেখা হয়েছে। পরবর্তী অংশে এই দুই পরীক্ষণের ভাষাতাত্ত্বিক পটভূমির ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

১.৩ ওলন্দাজ ভাষায় সমাপিকা ক্রিয়া
ওলন্দাজ ভাষাকে SOV (কর্তা-কর্মপদ-ক্রিয়া) পদক্রমের ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অর্থাৎ, সাধারণভাবে ক্রিয়ার বেজ-জেনারেটেড অবস্থান (base-generated position) হচ্ছে এটি কর্মপদের পরে বসবে [Koster, 1975]। ওলন্দাজ গর্ভ-বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াকে দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে যেতে হয়। এই মুভমেন্ট Verb Second হিসেবে পরিচিত। আধারিত উপবাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া বেজ-জেনারেটেড অবস্থানে থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ নীচের বাক্য (১) ও (২) দেখা যেতে পারে। এখানে t হচ্ছে ক্রিয়ার স্বভাবজাত পদক্রমের নিয়মসিদ্ধ (canonical) অবস্থান যা Verb Second অবস্থানের সাথে বিনিময় হয়েছে।

(১) আধারিত উপবাক্য (embedded clause)
(ik denk) dat de jongen een fiets koopt
(I think) that the boy a bike buys
(I think that the boy buys a bike)
(২) গর্ভ-বাক্য (matrix sentence)
de jongen koopti een fiets ti

the boy buys a bike
এভাবে দেখা যাচ্ছে যে, কোস্তের তত্ত্ব (Koste’s theory of Dutch) অনুযায়ী, ওলন্দাজ ভাষায় আধারিত উপবাক্যের পদক্রম গর্ভ-উপবাক্যের চেয়ে কম জটিল। ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় এই জটিলতার কমবেশি হওয়ার বিষয়টি সমাপিকা ক্রিয়া-কর্মপদ এর শব্দছড়ার ক্ষেত্রে ভিন্নরকম দেখা যেতে পারে।

১.৪ বিপরীতমুখী সকর্মত্বযুক্ত (alternating transitivity) ক্রিয়া
ইতোমধ্যে বলা হয়েছে যে, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়ার উৎপাদন কৃতিতে পার্থক্য ঘটে [Jonkers, 1998; Kim & Thompson, 2000; Luzzatti et al., 2002]। তবে, বিশেষ ধরনের কিছু ক্রিয়া, অর্থাৎ বিপরীতমুখী সকর্মত্বযুক্ত ক্রিয়া, এই পরীক্ষণে ব্যবহৃত হয়নি [Levin, 1993]। এই ক্রিয়াগুলিকে কর্তার অবস্থানে এজেন্ট অথবা থিম, উভয়ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এজেন্ট যখন কর্তার অবস্থানে থাকে, তখন সকর্মক বাক্য হয়, যেমন বাক্য (৩)। আবার, কর্তার অবস্থানে থিম থাকলে, সেটি অকর্মক বাক্যে পরিণত হয়, যেমন বাক্য (৪)।
(3) the woman breaks the glass
(4) the glassi breaks ti

বাক্য (৪) এ থিমকে যেন কোনো একটি অন্তর্নিহিত কর্মের অবস্থান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ কারণে, বাক্য (৪)-কে ভাষাতাত্ত্বিকভাবে আপাতদৃষ্টিতে বাক্য (৩)-এর চেয়ে সহজ-সরল দেখালেও, বাক্য (৪) অনেক বেশি জটিল কারণ এখানে আরগুর্মেন্টটি তার বেজ অবস্থানে নেই।

পরীক্ষণ দুটির উদ্দেশ্য ছিল, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় লেমা নির্বাচন, নাকি ব্যাকরণিক এনকোডিংয়ের বিকার থাকে, তা বের করা। লেমা নির্বাচনই যদি প্রক্রিয়াকরণের মুখ্য অংশ হয়, তাহলে এটা ধরা যায় যে, ব্যাকরণিক জটিলতাকে উপেক্ষা করে দুই পরিস্থিতিতেই ক্রিয়াপদের উৎপাদন বিকারগ্রস্ত হবে। অপরপক্ষে, যদি ব্যাকরণিক এনকোডিং মূল সমস্যার কারণ হয়, তাহলে বেশি জটিল ব্যাকরণিক পরিস্থিতিতে সমস্যার পরিমাণ বেশি হবে। আমাদের প্রথম পরীক্ষণের ক্ষেত্রে গর্ভ-উপবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া এবং দ্বিতীয় পরীক্ষণের অকর্মক ক্রিয়ার কাঠামোটি বেশি জটিল।

২. পরীক্ষণ
২.১ পরীক্ষণ পাত্র
ব্যাকরণ বৈকল্যযুক্ত ব্রোকা অ্যাফেজিয়ার নয়জন ব্যক্তি পরীক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। সব রোগী ডানহাতি এবং তাদের মস্তিষ্কের বাম অর্ধগোলার্ধে একবারের স্ট্রোকের কারণে তারা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত। তাদেরকে ওলন্দাজ সংস্করণের আচেন অ্যাফেজিয়া পরীক্ষার [AAT; Graetz, De Bleser, & Willmes, 1992] মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তারা যে ব্রোকা অ্যাফেজিয়ার রোগী, সেটি বাচন থেরাপিস্ট ও গবেষক, উভয়ের দ্বারাই নির্ণয় করা হয়েছিল। তারা সবাই টেলিগ্রাফিক বাচন ব্যবহার করতেন, তাদের কেউই বাচনের অ্যাপ্রেক্সিয়া দ্বারা এমন মাত্রায় আক্রান্ত ছিলেন না যে তা পরীক্ষণের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

২.২ উপকরণ
অ্যাফেজিয়া রোগীদের সামনে দুটি ছবি হাজির করা হয় (চিত্র ২)। তাদেরকে একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলা হয়। সেখানে দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়: (১) সমাপিকা ক্রিয়া-কর্মপদ দ্বারা একটি গর্ভ-উপবাক্য হতে হবে; (২) উদ্দিষ্ট উত্তরযুক্ত কর্মপদ-সমাপিকা ক্রিয়া সহ আধারিত উপবাক্য হতে হবে। প্রতিটি শর্তের জন্য ১৫টি বাক্য ছিল। দুটি উদাহরণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

শর্ত ১: লক্ষ্য = সমাপিকা ক্রিয়া-কর্মপদ (ক্রিয়ার চলন সহ)
পরীক্ষক (মূল ওলন্দাজ ভাষায়): Dit is de man die de tomaat snijdt en dit is de man die het brood snijdt. Dus deze man snijdt de tomaat en deze man. . . . . . [রোগী: ‘snijdt het brood’]
পরীক্ষক (ইংরেজি): This is the man who the tomato cuts and this is the man who the bread cuts. So, this man cuts the tomato and this man. . . . . . [রোগী: ‘cuts the bread’]

শর্ত ২: লক্ষ্য = কর্মপদ-সমাপিকা ক্রিয়া (ক্রিয়ার চলনবিহীন)
পরীক্ষক (মূল ওলন্দাজ ভাষায়): Deze man snijdt de tomaat en deze man snijdt het brood. Dus dit is de man die de tomaat snijdt en dit is de man die. . . . . . [রোগী: ‘Ôhet brood snijdtÕ’]

পরীক্ষক (ইংরেজি): This man cuts the tomato and this man cuts the bread. So, this is the man who the tomato cuts and this is the man who. . . . . . [রোগী: ‘the bread cuts’]

প্রতি সেট চিত্রকে দুইবার করে ব্যবহার করা হয়েছে- একবার গর্ভ-উপবাক্যে এবং অন্যবার আধারিত উপবাক্যে। পরীক্ষণ শুরুর সময় দুটি উদারণকে বারবার চর্চা করিয়ে পরীক্ষণটিতে ঠিক কি করতে হবে, সেটি রোগীদের কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়।

২.৩ নম্বর প্রদান
সঠিক/ভুল বাক্যের ভিত্তিতে নম্বর প্রদানের সরল নিয়ম অনুসৃত হয়। তবে, নির্দেশক উহ্য থাকলে সেটি উপেক্ষা করা হয়।

২.৪ ফলাফল
নীচে সারণি ১-এ ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে। আধারিত উপবাক্য পূরণ করার চেয়ে গর্ভ-উপবাক্য পূরণ করার কাজটি অনেক কঠিন বলে বিবেচিত হয়েছে [Wilcoxon, z = – ২.৩৭, ঢ় = .০১৮]। অর্থাৎ, ভাষাতাত্ত্বিকভাবে জটিল কাঠামোর ক্ষেত্রে ক্রিয়া-কর্মপদের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। লক্ষ্য করার মতো অদ্ভূত বিষয়টি হলো, ব্যাকরণ বৈকল্যের এসব রোগী আধারিত উপবাক্যের কর্মপদ-ক্রিয়া শব্দছড়া বেশ ভালোভাবে উৎপাদন করতে পারেন; কিন্তু আধারিত উপবাক্যকে স্বচ্ছন্দের সাথে একেবারেই উৎপাদন করতে পারেন না বলা যায়। এর ফলে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়: অন্যান্য বৈপরীত্যমূলক কাঠামো যেগুলো আপাত সরল মনে হলেও বাক্যরূপের সএর জটিল, সেগুলিও কি একই ফলাফল আনবে? এ কারণে বিপরীতমুখী ক্রিয়ার সকর্মত্ব বিষয়ে দ্বিতীয় একটি পরীক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়।

সারণি ১
ব্যাকরণ বৈকল্যযুক্ত ওলন্দাজভাষীদের প্রাপ্ত গড় নম্বর। সর্বোচ্চ ৩০, গর্ভ-উপবাক্যে ১৫ এবং আধারিত উপবাক্যে ১৫।
গর্ভ-উপবাক্য আধারিত উপবাক্য
মোট ৭.৩৩ ১১.৮৮ ১৯.২০
বামদিকের চিত্রের লক্ষ্য: the priest is ringing the bell; ডান দিকের লক্ষ্য: the bell is ringing

৩. পরীক্ষণ-২
৩.১ পরীক্ষণ পাত্র
ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত আটজন রোগীকে নেওয়া হয় (এই আটজন পূর্ববর্তী পরীক্ষণ ১-এ অংশগ্রহণ
করেননি)। আটজনই ডানহাতি এবং মস্তিষ্কের বাম গোলার্ধের একবারের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ফলে অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত। পরীক্ষণ ১-এর মতো এটির ক্ষেত্রেও এঁদেরকে ওলন্দাজ সংস্করণের আচেন অ্যাফেজিয়া পরীক্ষা (AAT; Graetz et al., 1992) করে নির্বাচন করা হয়েছে। বাচন থেরাপিস্ট ও গবেষক, উভয়ের দ্বারা তাদেরকে অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৩.২ উপকরণ
কেবল বিপরীতমুখী সকর্মত্বযুক্ত ক্রিয়াপদ ব্যবহার করা হয়েছে। চিত্র দেখিয়ে হয় সকর্মক বা অকর্মক বাক্য উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্দিষ্ট বাক্য উদ্ধার করার জন্য যে চিত্র দেখানো হয়েছে সেই চিত্রের নিচে ক্রিয়াটির মূলরূপ দেখানো হয়েছে। চিত্র ৩-এ একটি উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। টাস্কটিতে ১৪টি ক্রিয়া ছিল যে ক্রিয়াগুলোর প্রতিটি দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে, একবার সকর্মক ও আরেকবার অকর্মক হিসেবে (মোট ২৮ বার)।

৩.৩ পদ্ধতি ও নম্বর প্রদান
সঠিক/ভুল বাক্যের ভিত্তিতে নম্বর প্রদানের সরল নিয়ম অনুসৃত হয়। বাক্যে সঠিক ক্রিয়া, সঠিক থিম সংশ্লিষ্ট ভূমিকা এবং ভূমিকাটি সঠিক অবস্থানে থাকলে, সেই বাক্যকে সঠিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

৩.৪ ফলাফল
নিচে সারণি ২-এ ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।
সকর্মত্ব শর্তের বাক্যের চেয়ে অকর্মত্ব শর্তের বাক্য সৃষ্টি অনেক বেশি কঠিন বলে বিবেচিত হয়েছে (Wilcoxon, z = -২:১২, ঢ় = .০৩৪)। অর্থাৎ, আপাতভাবে অকর্মক ক্রিয়ার শর্তপূরণ সহজ মনে করা হলেও এটির উৎপাদন সকর্মক ক্রিয়ার বাক্য উৎপাদনের চেয়ে বেশি কঠিন।

সারণি ২
অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত উভয় উপদলে সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়ার শর্তে পরীক্ষিত সঠিক মানের গড় (সঠিকতার অনুপাত)
mKg©K AKg©K
10.12 (0.72) 6.38 (0.46)

৪. আলোচনা
বর্তমান গবেষণায় মুখ্য প্রশ্নটি ছিল, ব্রোকা অ্যফেজিয়ায় সংঘটিত ক্রিয়ার ত্রুটিযুক্ত উৎপাদনের জন্য কোন স্তর কাজ করে তা জানা।

এই প্রশ্নের উত্তর জানার পূর্বে আমরা পদ্ধতিগত একটি সমস্যা আলোচনা করে নিতে চাই। প্রশ্ন উঠতে পারে, বাক্যিক পর্যায়ে করা পরীক্ষণ দুটি শাব্দিক পর্যায়ে ক্রিয়াপদের উৎপাদনের সমস্যা কতটা তুলে ধরতে পারে। এক্ষেত্রে দুই ক্ষেত্রেই ক্রিয়াপদ সরবরাহ হলে কি হতে পারে। হয়তবা, এক্ষেত্রে ক্রিয়াপদ সরবরাহ না করে করা পরীক্ষণে আর‌ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পূর্ববর্তী একটি গবেষণায় বসিতিয়ানস ও জঙ্কারস (Bastiaanse and Jonkers, 1998) শাব্দিক ও বাক্যিক পর্যায়ে ক্রিয়াপদের উৎপাদন নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু সেখানে প্রাপ্ত তথ্যের ফলাফল বিশ্লেষণ বেশ জটিল। প্রথমত, দেখা যায় যে অ্যাফেজিয়গ্রস্তদের মাঝে পাওয়া প্যাটার্নে খুব বেশি পার্থক্য দেখা গেছে, এমনকি এক ধরনের অ্যাফেজিয়ার ক্ষেত্রেও। ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্তদের কারো কারো মাঝে বাক্যিক স্তরে ক্রিয়াপদের উৎপাদন শাব্দিক স্তরের চেয়ে সহজতর হতে দেখা গেছে, আবার অন্যদের মাঝে বিপরীতটি পাওয়া গেছে, অথবা কারো কারো ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, সেখানে বাক্য উৎপাদনে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়ায় নির্ভরযোগ্য ও বোধগম্য বিশ্লেষণ করা কঠিন। এ কারণে আমরা আমাদের পরীক্ষণ দুটি ভিন্নভাবে পরিকল্পনা করেছি। প্রথম পরীক্ষণে বাক্যিক অবস্থান এবং দ্বিতীয়টিতে সকর্মত্ব পরীক্ষা করেছি। এক্ষেত্রে আমরা ক্রিয়াপদের লেমা নির্দিষ্ট রেখেছি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ব্রোকা অ্যাফেজিয়ায় ক্রিয়াপদের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান যে সঠিক ব্যাকরণিক কাঠামোর উৎপাদনে সমস্যা সৃষ্টি করে, সেটি তুলে ধরা।

৪.১ সমস্যার উৎসস্থল
একক ক্রিয়ার উৎপাদনের জটিলতার প্রভাবের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, লেমার ধারণার প্রতীকীকরণ করা বা এর কাছাকাছি কোথাও সমস্যার মূল উৎস। মর্ম অনুধাবন করা ও ভাষার প্রক্রিয়াকরণের গবেষণায় দেখা গেছে যে লেমা নিজে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। পরবর্তী প্রশ্নটি হলো: লেমা নির্বাচন, নাকি ব্যাকরণিক এনকোডিং সমস্যার মূল উৎস-স্তর।

দুটি পরীক্ষণেই দেখা গেছে, কিছু ক্রিয়ার একই সেটকে দুটি কাঠামোয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাকরণিকভাবে জটিলতর পরিস্থিতিতে উৎপাদন কৃতি বাধাগ্রস্ত হয়। ক্রিয়াকে দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে যাওয়া এবং থিমকে কর্তার অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎপাদন কৃতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যদিও দুক্ষেত্রেই একই ক্রিয়া ব্যবহার করতে হয়। লক্ষ করা যেতে পারে, আপাত সরল গড়নের মনে হচ্ছে, এমন কাঠামোর বাক্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বেশি জটিল অনুভূত হতে দেখা যাচ্ছে। যেমন, আধারিত উপবাক্য পূরণ করার চেয়ে গর্ভ-উপবাক্য পূরণ করা বেশি কঠিন এবং সকর্মক বাক্যের (কর্তা-ক্রিয়া-কর্মপদ) চেয়ে অকর্মক বাক্য (কর্তা-ক্রিয়া) পূরণ করা বেশি কঠিন। এ থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায়, লেমা নির্বাচন নয়, বরং ব্যাকরণিক এনকোডিংয়ের স্তরেই সমস্যা ঘটে থাকে।

ব্যাকরণিক এনকোডিং বিকারযুক্ত হলে, সেটি কিভাবে শব্দের স্তরে সমস্যা সৃষ্টি করে? একক শব্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নামপদের চেয়ে ক্রিয়াপদের উৎপাদন কঠিন; এবং জটিলতর আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচারযুক্ত ক্রিয়াপদের উৎপাদন সহজ ক্রিয়াপদের উৎপাদনের চেয়ে কঠিন। আমরা এটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি: এমনকি একক শব্দের ক্ষেত্রেও ব্যাকরণিক এনকোডিংয়ের প্রয়োজন হয়। রূপকার্থে, আমরা শব্দের জন্যও চিত্র ৪-এর বৃক্ষ-কাঠামোর মতো গড়ন কল্পনা করতে পারি। চিত্র ৪-এর বৃক্ষ-কাঠামোদুটি তুলনা করলে বোঝা যায়, সকর্মক ক্রিয়া কেনো অকর্মক ক্রিয়ার চেয়ে বেশি কঠিন [Kim and Thompson (2000)]]। আবার, এটিও দেখা যাচ্ছে, কোনো অকর্মক ক্রিয়ায় বিপরীতমুখী সকর্মত্ব থাকলে, সেই অকর্মক ক্রিয়া কেনো অন্য সকর্মক ক্রিয়ার চেয়ে বেশি জটিল। শুজালি ও প্রমুখ (Luzzatti et al., 2002) দেখিয়েছেন যে এটি যে কেবল বাক্যিক ক্ষেত্রে সত্য, তা নয়। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এরগেটিভ নয় এমন (unergative) অকর্মক ক্রিয়া (যেসব ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্তা অবস্থানে এজেন্ট থাকে, যেমন, to sleep) এবং এরগেটিভ এমন (ergative) অকর্মক ক্রিয়ার (যেসব ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্তার অবস্থানে থিম থাকে, যেমন, to fall) উৎপাদনের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে।

সবশেষে বলা যায়, ব্রোকা অ্যাফেজিয়াগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নামপদের চেয়ে ক্রিয়াপদ উৎপাদনে বেশি সমস্যা দেখা যায় কারণ ক্রিয়াপদের লেমায় নামপদের লেমার চেয়ে বেশি ব্যাকরণিক তথ্য অন্তর্ভূক্ত থাকে। একক শব্দ এবং বাক্য, উভয় ক্ষেত্রেই এমন তথ্যকে ব্যাকরণিকভাবে এনকোড করতে হয়। ব্যাকরণিক এনকোডিংয়ের বিকারের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি লক্ষ্য করা যায়: (১) নামপদের চেয়ে ক্রিয়াপদের পুনরুদ্ধার বেশি বিকারযুক্ত [Jonkers, 1998]; (২) সহজ আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচারযুক্ত ক্রিয়াপদের চেয়ে জটিলতর আরগুর্মেন্ট স্ট্রাকচারযুক্ত ক্রিয়াপদের উৎপাদন বেশি বিকারযুক্ত [Kim & Thompson, 2000; Luzzatti et al., 2002]; (৩) সকর্মক ক্রিয়াযুক্ত বাক্যের উৎপাদনে বেশি সমস্যা দেখা যায় যদি ক্রিয়াকে V2 অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয় [Bastiaanse, Rispens, Ruigendijk, Juncos Rabadan, & Thompson, 2002]; এবং (৪) একই ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেসব বাক্যে কর্তার অবস্থানে এজেন্ট থাকে, সেসব বাক্যের চেয়ে সেই একই ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্তার অবস্থানে থিম থাকলে, সেই বাক্যের উৎপাদন বেশি কঠিন হয়।

রেফারেন্স:
Bastiaanse, R., & Jonkers, R. (1998). Verb retrieval in action naming and spontaneous speech in agrammatism and anomic aphasia. Aphasiology, 12, 951–969.
Bastiaanse, R., Rispens, J., Ruigendijk, E., Juncos Rabadan, O., & Thompson, C. K. (2002). Verbs: Some properties and their consequences for agrammatic Broca’s aphasia. Journal of Neurolinguistics, 239–264.
Bastiaanse, R., & Thompson, C. K. (2003). Verb and auxiliary movement in agrammatic Broca’s aphasia. Brain and Language, 84, 286–305.
Bastiaanse, R., & van Zonneveld, R. (2002). The production of verbs with alternating transitivity in Broca’s and anomic-Wernicke’s aphasia. Brain and Language, 83, 76–78.
Graetz, P., De Bleser, R., & Willmes, K. (1992). Akense afasie test. Lisse: Swets & Zeitlinger.
Jonkers, R. (1998). Comprehension and production of verbs in aphasic speakers. Groningen: Grodil.
Kim, M., & Thompson, C. K. (2000). Patterns of comprehension and production of nouns and verbs in agrammatism: Implications for lexical organisation. Brain and Language, 74, 1–25.
Koster, J. (1975). Dutch as an SOV language. Linguistic Analysis, 1, 111–136.
Levelt, W. J. M. (1989). Speaking: From intention to articulation. Cambridge: MIT Press.
Levin, B. (1993). English verb classes and alternations: A preliminary investigation. Chicago: University of Chicago Press.
Luzzatti, C., Zonca, G., Pistarini, C., Contardi, A., & Pinna, G. D. (2002). Verb–noun double dissociation in aphasic lexical impairments: The role of word frequency and imageability. Brain and Language, 81, 432–444.
Shapiro, L. P., & Levine, B. (1990). Verb processing during sentence comprehension in aphasia. Brain and Language, 38, 21–47.

গবেষক পরিচিতি:
রোয়েলিয়েন বাসতিয়ানস বর্তমানে স্নায়ুভাষাবিজ্ঞানের প্রফেসর। তিনি আম্সটারডামের ভ্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে ব্রাসেলসে ভাষা বিকারতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণা করেন। পরবর্তীতে গ্রনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাফেজিয়া বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করেন এবং সেখানে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি নেদারল্যান্ডসের অ্যাফেজিয়া সোসাইটির সদস্য। গুগুল স্কলারে তাঁর গবেষণা নিবন্ধের সাইটেশন সংখ্যা ৫৮১০ ও এইচ-ইনডেক্স ৪৩ দেখা যায়। রন ভ্যান জনেভেল্ড (১৯৪২-২০১২) লেইডেন বিশ^বিদ্যালয়ে সাধারণ ভাষাবিজ্ঞান অধ্যয়ন শেষে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণার পরে গ্রনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওলন্দাজ ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে যোগদান করেন। রন ভ্যান জনেভেল্ড ও রোয়েলিয়েন বাসতিয়ানস প্রথমে সহকর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তীতে দুজনে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। রোয়েলিয়েন বাসতিয়ানস মন্তব্য করেন, তাঁর স্বামী তাত্ত্বিক ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে তাঁকে বিভিন্ন ধারণা দিয়েছেন, এবং তিনি স্নায়ুভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে ব্যবহারিক পরীক্ষা চালিয়েছেন।

২৭ এপ্রিল ২০২২, মহিষবাথান, রাজশাহী।

Read Previous

বোক্কাচ্চো’র বিখ্যাত নারীর ভূমিকা ও ক্লেওপাত্রার জীবনী
গাইডা র্আমস্ট্রং

Read Next

বই : সৃজনশীল মননের চিরকালীন সঙ্গী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *