
মো. আবদুল মতিন-এর যুগল কবিতা
জি স্যার ইয়েস স্যার
আপনি স্যার মেহেরবান
আপনি দয়ার সাগর স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
আপনি স্যার বিচক্ষণ
আপনি বড়ো বিদ্বান স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
আপনি স্যার এত্তো ভাবেন
দেশের ভাবনায় দেওয়ানা স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
আপনি মহান দ্রষ্টা স্যার
বর্তমান আর ভূত-ভবিষ্যৎ
দৃষ্টি কোথাও আটকায় না স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
এতো গভীরে দৃষ্টি নিক্ষেপ
নিখুঁত কেমনে হয় স্যার
ভেবে কূল পাই না স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
আপনি ভীষণ দৃঢ়চেতা
এতো চাপ সামলে স্যার
দৃঢ় ঠিকই থাকেন স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
সেই যে সেদিন সেই বিষয়ে
ভেবেচিন্তে বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ’ স্যার
আমিও পরে ভেবে দেখলাম
আপনার ভাবনাই ঠিক স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
আর ওই যে ওই বিষয়ে
বলেছিলেন, ‘না’ স্যার
আমিও পরে দেখতে পেলাম
‘না’ ছাড়া কিছুই আর হয় না স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
…একি স্যার! হাতের তালু চুলকায় স্যার!
চুলকানোর দরকার কি স্যার
অধমের গাল এই যে হাজির,
কষে মারেন একখান স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
পা-টা দেখছি নাড়াচ্ছেন স্যার!
এই যে দিলাম পাছা পেতে
জোরে মারেন প্যাদানী স্যার,
আপনার পা আমার পাছায়
ব্যাপারটা হবে দারুণ স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
কানে কানে বলি স্যার
ঐ যে সেদিন বলেছিলেন,
যদিও ভেঙে বলেননি
বুঝে গেছি পুরাই স্যার,
জোগাড় একখান করেছি স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
…আমার বিষয়টা দেখবেন স্যার
মানে, প্রমোশনের ব্যাপারটা স্যার
সাথে পছন্দের ঐ পোস্টিংটা স্যার
আর, ওই সুবিধার টেবিলটা স্যার
বিনিময়ে মোটা খামটা পাবেন স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
আজ তাহলে আসি স্যার
বেয়াদবি নিবেন না স্যার
শরীরটা তো ঠিক আছে স্যার?
আলহামদুলিল্লাহ, সবই ওপরওয়ালার ইচ্ছা স্যার
কদমবুসি জানাই স্যার
একটুখানি দোয়া স্যার
-জি স্যার, ইয়েস স্যার।
প্রশাসনের বড়ো কর্তা
আমি প্রশাসনের বড়ো কর্তা
ডাকসাইটে চাকুরে
আমারে লাগে না বুঝি খাতিরে?
আমি নাকি দেমাগের হাঁড়ি,
দেমাগ কি আর এমনিতেই করি!
-সরকারি খরচে ব্যবহার করি দু’দুটো গাড়ি,
একটি পেয়েছি বিধিতে
অপরটি যদিও নাই নীতিতে
বাগিয়ে নিয়েছি প্রচলিত রীতিতে।
শুধু কি তাই!
-রাজকোষ থেকে পরিবারের রসদ পাই
এসি রুমে ঠাণ্ডা বাতাস খাই
দেশ-বিদেশে হরহামেশা ঘুরে বেড়াই
ঘরেবাইরে পাইক-পেয়াদার কমতি নাই,
আরো কতো যে পাই আর খাই
সবকিছু বলার জায়গা এখানে নাই।
তাই তো দেমাগ আমার ভারি
দেমাগের ভারে ভারিক্কি মেজাজ করি।
মোটেও ভাবি না- চাকর আমি
মানি না- আমি জনগণের সেবাদাস
বরং ভাবি প্রভু তাদের
তারাই আমার আজ্ঞাদাস।
সবার থেকে আশা করি
তারা যেন ‘স্যার’ বলে,
আশার গুড়ে বালি দিয়ে
কেউ যদি অন্যকিছু বলে
রাগে আমার পিণ্ডি জ্বলে।
‘স্যার’ বলতে এতো দ্বিধা কেন?
এতো বড়ো চাকুরে আমি
ব্যাপারটা কি যেনতেন!
পদবিটা আমার মাশাল্লাহ ওজনদার
চেয়ারটাও মানানসই দেখনেদার
এমন চেয়ারে বসলে পরে
মেজাজটা তাই চড়ে ওঠে।
বিষয়টা সবার বুঝতে হবে-
মেজাজের দিকে খেয়াল রেখে
তদ্বির নিয়ে আসতে হবে,
সম্বোধনটাও সেইভাবে করতে হবে।
বোকা মানুষগুলো কেন যে বোঝে না,
আমি সাধারণের তালিকায় পড়ি না!
একটু যদি করি ক্ষমতার বড়াই
সেইটা কেন ভাবে যাচ্ছেতাই!
